টেকনাফ ২য় বিয়েতে বাধা দেয়ায় স্ত্রীর হাত-পা বেঁধে গোপণাঙ্গে মরিচের গুড়ো ঢুকিয়ে দিয়েছে পাষণ্ড স্বামী। কক্সবাজার জেলার টেকনাফের উপকূলীয় ইউনিয়ন বাহারছড়ার শামলাপুর বাজারে ১১ সেপ্টেম্বর সকালে ঘটেছে মধ্য যুগীয় নির্যাতনের এই ঘটনা।
এহেন জঘন্য ঘটনার পর নরপশু স্বামীকে হাতের কাছে পেয়েও রহস্যজনক কারণে ছেড়ে দিয়েছে শামলাপুর তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ। আরও রহস্যজনক ব্যাপার হচ্ছে- স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সচেতন মহল ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা নির্যাতিত অসহায় নির্যাতিত গৃহবধূর সাহায্যে এগিয়ে না এসে বরং তা ধামাচাপা দিতে তৎপর রয়েছেন। এমনকি বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়া সত্বেও গভীর রাত পর্যন্ত মিডিয়াকর্মীকে জানতে দেওয়া হয়নি।
স্থানীয় ও অতি নিকটস্থ পুলিশ পর্যায়ে কোন ধরণের বিচার হতে না দেখে বরং স্বামী পুলিশ কেন্দ্র থেকে নির্ভয়ে বেরিয়ে আসার পর তা ক্রমে গভীর রাতে মিডিয়াকর্মীদের কাছে পৌঁছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে- উখিয়া উপজেলার কোটবাজারের ডিশ লাইনের ব্যবসায়ী বেদার উদ্দিন (৩৮) স্ত্রী আয়েশা আক্তার (২৯) সহ শামলাপুর বাজারের সন্নিকটে ভাড়া বাসায় অবস্থান করে ব্যবসা চালান।
শামলাপুরের এক কোম্পানীর আত্মীয়কে বিয়ে করার প্রস্তুতি নিলে স্ত্রী বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ১১ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টার দিকে ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করে স্ত্রীকে উলঙ্গ করে হাত-পা বেঁধে গোপণাঙ্গে মরিচের গুড়ো ঢুকিয়ে দেয়। স্ত্রীর শোর-চিৎকারে নিকটস্থ ইউসুফ সওদাগরসহ (০১৮২১৮১৮১২০) স্থানীয় লোকজন (নারী-পুরুষ) জড়ো হয়ে নির্যাতিত গৃহবধূকে উদ্ধার করে গোসল ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। ঘটনাস্থলের অতি নিকটেই পুলিশ কেন্দ্র। এতবড় জঘন্য ঘটনার ব্যাপারে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়ার কথা। কিন্তু নেয়া হয়নি। খবর পেয়ে টেকনাফ থেকে একজন মিডিয়াকর্মী ফোনে জনপ্রতিনিধি, টেকনাফ মডেল থানার ওসি, শামলাপুর তদন্ত কেন্দ্রের আইসিকে অবহিত করেন।
প্রকাশ্য দিবালোকে, দিন-দুপুরে এবং জনাকীর্ণ বাজারের পাশে এহেন জঘন্য ঘটনার পর নরপশু স্বামীর বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় নিরীহ সর্বসাধারণ বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠছেন বলে জানা গেছে।
১২ সেপ্টেম্বর রাতে নির্যাতিত গৃহবধূ আয়েশা আক্তারের দুলা ভাই জাহাঙ্গীর (০১৮৪৯৭০৩২০৪) জানান- বিকালে বিষয়টি নিয়ে শামলাপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে এনিয়ে বৈঠক হয়েছে। নির্যাতিত গৃহবধু আয়েশা আক্তার নিজে বাদি হয়ে লিখিত ভভিযোগ দাখিল করেছে। বিচার মানবে মর্মে পুলিশ উভয় পক্ষ থেকে অঙ্গীকারনামা নিয়েছে। ১৩ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় বিচার হবে।
তিনি আরও জানান- ডিশ লাইনের ব্যবসায়ী বেদার উদ্দিন (৩৮) ও আয়েশা আক্তারের সংসারে ৪টি সন্তান রয়েছে। তাঁর শ্যালিকা আয়েশা আক্তার বেদার উদ্দিনের ১ম স্ত্রী। এরপর আরও একটি বিয়ে করেছিল। বনিবনা না হওয়ায় ছেড়ে দিয়েছে। এখন শামলাপুরে ব্যবসা করতে এসে শামলাপুরের এক কোম্পানীর আতœীয়কে বিয়ে করার প্রস্তুতি নিলে ১ম স্ত্রী বাধা দেন। এতে ক্ষীপ্ত হয়ে বেদার উদ্দিন এই জঘন্য ঘটনা ঘটিয়েছে। নির্যাতিত গৃহবধূ আয়েশা আক্তার বর্তমানে স্থানীয় গ্রাম্য ডাক্তার আক্তারের জিম্মায় রয়েছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য হোছন আহমদ মেম্বার (০১৮১১১০৪৫৪৩) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
– বার্তা পরিবেশক।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"



You must be logged in to post a comment.