মুকুল কান্তি দাশ, চকরিয়া:
কক্সবাজার চকরিয়ার উপকূলীয় ইউনিয়ন বদরখালীর কুতুবদিয়া পাড়ায় জমির বিরোধ নিয়ে যুবক হেলাল উদ্দিন শিপু (২৮) হত্যার ঘটনায় ৬০ ঘন্টা পর চকরিয়া থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। নিহত শিপুর মা ছকিনা বেগম বাদী হয়ে শুক্রবার বেলা ২টার দিকে মামলাটি দায়ের করেন। এই মামলায় ৩০ জনের নাম উল্লেখপূর্বক অজ্ঞাত আরো ১৫ জনসহ ৪৫ জনকে আসামী করা হয়েছে ।
মামলায় বাদী ছকিনা দাবী করেন, ৩ নভেম্বর দিবাগত রাত ২টার দিকে অভিযুক্তরা অবৈধ অনুপ্রবেশ করে ৩টি ঘর ভেঙ্গে পুড়িয়ে দেয়। এছাড়া হেলাল উদ্দিন শিপুকে হত্যা করে। ঘর পুড়িয়ে দেয়ায় ৯লাখ ২০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। দায়ের করা মামলা নং-১৯, তারিখ- ০৬.১১.২০১৫ইং,যার ধারা ১৪৩, ৪৪৭, ৩২৩, ৩২৬, ৩০৭, ৩০২, ৪৩৬, ৪২৭, ৫০৬ পেনাল কোড। এই মামলায় সাবেক দুই চেয়ারম্যান ও বদরখালী সমিতির নেতাদেরও আসামী করা হয়েছে। পাশাপাশি বিরোধীয় জমির সাথে একেবারেই সংশ্লিষ্ট না থাকা ব্যক্তিদেরও অভিযুক্ত করা হয়। এতে মামলা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠার পাশাপাশি হত্যা ও হত্যাকারী কে তা নিয়ে শুরু হয়েছে নানা গুঞ্জন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, এম.হোছাইন আহমদ ও ইকবাল বদরীসহ চাচাতো জেঠাতো চার ভাইয়ের প্রায় ১৩ কানি জমি রয়েছে কুতুবদিয়া পাড়ায়। স্থানীয় আলী আহমদ কথিত বিচ্ছু বাহিনীকে ভাড়া করে প্রায় ৫ কানি জমি জবর দখল করে সম্প্রতি। এই জমিতে তারা দুটি কাঁচাঘর সম্পূর্ণ ও অপর একটি আংশিক তৈরী করে। এই দখল ধরে রাখতে সশস্ত্র পাহারাও বসায়। ফলে জমির মালিক পক্ষ জনপ্রতিনিধিসহ প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরে ফিরলেও ওই জমি উদ্ধার করতে পারছিল না।
সূত্র মতে, ভাড়া করা বিচ্ছু বাহিনীর লোভ বেড়ে গেলে আলী আহমদ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নিজেরাই একই জমি দখলের চেষ্টা চালালে দু’পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। কিন্তু ছররা গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হেলাল উদ্দিন শিপুর তলপেটে ধারালো অস্ত্রের আঘাত কোন পক্ষ করেছে তা সঠিকভাবে কেউই বলতে পারছে না। দখলবাজদের কোন পক্ষ নাকি তৃতীয় বা চতুর্থ কোন পক্ষ শিপুকে হত্যা করেছে তা নিয়ে চলছে ঢ়ের আলোচনা।
এই কারণ ব্যাখ্যা করে অনেকেই বলেন, জমির বিরোধকে পুঁজি করে শিপু হত্যার ঘটনায় নেপথ্যে লাভবান কারা হচ্ছে তা প্রশাসন তদন্ত করলেই নেপথ্য অনেক রহস্য উদঘাটন হতে পারে।
গুঞ্জনে প্রকাশ বিচ্ছু বাহিনীর মত বদলানোর পাশাপাশি নারী ঘটিত ঘটনা, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ ও বদরখালী সমিতির নির্বাচনে সম্ভাব্য বাধা দূর করতে নেপথ্য কোন প্রভাবশালীর ইন্ধনে হত্যাকান্ডটি হতে পারে বলেও প্রচার হচ্ছে। মামলায় যাদের আসামী করা হয়েছে তাদের মধ্যে কয়েকজন সম্ভাব্য ইউপি চেয়ারম্যান ও সমিতির নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী থাকায় জমির বিরোধকে চাপিয়ে ভিন্ন গুঞ্জনে কর্ণপাত করছে স্থানীয় সাধারণ মানুষ। তবে, ঘটনার দিন রাতে যে সময় দখল করা জমিতে তৈরী করা কাঁচা ঘর পুড়ছিলো ওই সময় অদুরেই সড়কে পুলিশের একটি টিম অবস্থান করছিল। তাই ওই ঘরে অন্তর্ঘাত মূলক অগ্নিকান্ড ঘটনোর গুঞ্জন অধিক বিশ্বাস করছে স্থানীয় বাসিন্দারা।
চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ প্রভাষ চন্দ্র ধর বলেন, হত্যার ঘটনায় নিহত হেলাল উদ্দিন শিপুর মা বাদী হয়ে গতকাল শুক্রবার এজাহার দিলে সাথে সাথেই মামলাটি এন্ট্রি করা হয়। রাতে ওই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হবে।
সরজমিন তদন্ত করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব হত্যার সঠিক ক্লু উদঘাটন এবং ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"



You must be logged in to post a comment.