একেই বলে ভিমরতি রোগ। প্রেম মানেনা বয়সের পার্থক্য, এটি আবার সত্যি প্রমাণিত হলো। অবশেষে কক্সবাজার সদর উপজেলার মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হেলেনাজ তাহেরা অনেক আলোচনা-সমালোচনা ও নাটকীয়তার পর সুদীর্ঘ ৩ দশকের সংসার ভেঙ্গে পূর্বের স্বামী আবুল হাসেম সওদাগরকে চূড়ান্ত তালাক দিয়েছেন। শুধু তাই নয় বিয়ে করেছেন ৩০ বছর বয়সী এক তরুণ আইনজীবীকে। বসে নেই স্বামী আবুল হাসেম সওদাগর। তিনিও তড়িগড়ি করে হেলেনাজ তাহেরার এক মামাতো বোনকে সাদি করে ঘরে তুলেছেন। কক্সবাজারের পরিচিত স্বামী-স্ত্রীর এই পাল্টাপাল্টি বিয়েতে কক্সবাজার সদর উপজেলার সর্বত্র ব্যাপক চাঞ্চল্য ও হাসির খোরাক হয়েছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে দীর্ঘদিনের স্বামী হতবিহবল আবুল হাসেম সওদাগর জানান, যাকে টাকা-পয়সা, শ্রম সব কিছু দিয়ে পৌরসভার কাউন্সিলর করলাম, সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান বানালাম, আমার দুই ছেলে, দুই মেয়ে এমনকি নাতি-নাতিনীদের দিকে না থাকিয়ে আমাকে তালাক দিয়ে হেলেনাজ অন্যের সাথে ঘর বেধেছে, ভাবতেও অবাক লাগে। আমার দিকে না থাকালেও ছেলে-মেয়ে ছোট ছোট নাতি-নাতিদীদের দিকে থাকিয়ে হলেও সংসারটা না ভাংতে পারত। আমরা এখন লজ্জায় কাউকে মুখ দেখাতে পারছি না। ছেলে-মেয়েরা বাড়ী থেকে বের হতে লজ্জা ও সংকোচ বোধ করছে। অবশেষে সংসার রক্ষার সকল প্রচেষ্টা শেষ হলে ছেলে-মেয়েদের অনুরোধে গত শুক্রবার বিয়ে করলাম। মনে শান্তি নেই। দুঃখ ও যন্ত্রণায় দগ্ধ হয়ে চোখের জলে ভাসছি। বিয়ে করলেও ছেলে-মেয়েদের শুকনো মুখ দেখলে সংসারে মন বসে না। আমার জন্য দোয়া করবেন।
মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হেলেনাজ তাহেরার ০১৮১৮৪৬০৪০৪ নম্বরে যোগাযোগ করা হলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
সূত্র জানায় তিনি বর্তমানে রুমালিয়াছড়া একটি ভাড়াবাসায় থাকছেন।
এব্যাপারে জানতে চাইলে কক্সবাজার সদর উপজেলার চেয়ারম্যান জি.এম রহিমুল্লাহ জানান এটি তাদের একান্ত পারিবারিক বিষয়। এ নিয়ে আমি কোন মন্তব্য করতে চাই না।
সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা সহিদুল ইসলাম জানান, তাদের সংসারে বেশ কিছুদিন ধরে টানা-পোড়েন চলছে শুনছি। তবে এতটুকু গড়িয়েছে তা আমি জানি না।
ভাইস চেয়ারম্যান শহিদুল আলম বাহাদুরকে জিজ্ঞাস করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি আমাদের জন্য বিব্রতকর।
নাম প্রকাশে অনইচ্ছুক কয়েকজন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জানান, বৃদ্ধ বয়সে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান এর এ ধরণের কাজ করা উচিৎ হয়নি। সংসারে ঝামেলা থাকতে পারে। আমাদের সাহায্য চাইলে আমরা সমাধানের চেষ্টা করতাম। এখন সমস্ত উপজেলারই ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হল। এ বিষয়ে কেউ প্রশ্ন করলে আমরা লজ্জা পাই।
উল্লেখ্য বিগত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর সমর্থন নিয়ে প্রায় ৭০ হাজার ভোট পেয়ে সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এই নারী নেত্রী। ইতোপূর্বে তিনি কক্সবাজার পৌরসভার মহিলা কাউন্সিলর ও ভারপ্রাপ্ত পৌর মেয়রের মত গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"



You must be logged in to post a comment.