মনজুর আলম মনজু কক্সবাজারের বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ক্রীড়াবিদ। পঞ্চাশোর্ধ মনজু কক্সবাজার বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন স্টেডিয়ামের বিভিন্ন ইভেন্টের নিয়মিত ক্রীড়াবিদ। তিন সন্তান-সন্তুতির জনক মনজু প্রত্যহ বিকেলে কক্সবাজার স্টেডিয়াম ও লন্-টেনিস কোর্টে প্রতিনিয়ত ব্যস্ত সময় পার করছে।
ফুটবল, তায়াকোয়ানডো, কারাতে সবকিছুরই যেন সব জান্তা শমসের, ক্রীড়ামোদী দর্শকদের অতি পরিচিত মনজু। শুধু কী তাই! স্টেডিয়াম ও লন্ টেনিস কোর্টের যে কোন প্রতিমূলক টুর্নামেন্টে মনজু স্বেচ্ছাসেবক, দারোয়ান, গেইটম্যান, বল বয়ের কাজটিও ভালই আঞ্জাম দিচ্ছে। কাজ দেখে কেউ খুশী হয়ে দু’পয়সা প্রতিবন্ধী মনজুর হাতে গুঁজে দিলে তা খুশী মনে নিয়ে নেয়, না দিলে কারো সাথে তর্ক করে না, খারাপ আচরণও করে না। সুদীর্ঘ চারদশক ধরে প্রতিবন্ধী মনজু যেন কক্সবাজার ক্রীড়াঙ্গনের অতি দায়িত্বশীল এক মানুষ, হাসির খোরাক। বিশেষ করে বড় কোন ফুটবল টুর্নামেন্ট, কিংবা বলী খেলার আসরে বিরতির সময় কৃত্রিম ব্ল্যাক বেল্টধারী মনজুর কারাতে টেকনিক শো হাজারো দর্শক প্রাণ ভরে উপভোগ করে।
বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী মনজু কক্সবাজার শহরের এক ধর্ণাঢ্য পরিবারের সন্তান। শহরের টেকপাড়ার সিকদার মহলের মালিক মমতাজ মিয়া তার বাবা। মনজু জানান-বর্তমানে প্রত্যহ ভোরে, দুপুরে ও এশার নামাজে বৃদ্ধ বাবাকে পাশের মসজিদে নিয়ে যেতে সাহায্য করেন। প্রত্যহ বিকেলে স্টেডিয়ামে ক্ষুদে ফুটবলারদের দেখভাল এখন তার কাজ।
ফুটবলের জন্য স্ট্যামিনা, টেকনিক, টেকটিস না জানলেও বেশ-ভুষার যেন মনজু পুরো দস্তুর ফুটবল কোচ। এ কাজটি সবার সম্মুখে ভালই করে যাচ্ছে মনজু। বিশেষ করে শিশু ফুটবলারদের জন্য ফুটবল, বুট সিনিয়রদের কাছ থেকে সংগ্রহ করে দেয়া যেন মনজুর প্রধান হবি।
মনজু আরও জানান-তার প্রথম স্ত্রী খুশী। খুশীর ঘরে ছেলে শিহাব ও মীম জন্ম নেয়। মীমের বিয়ে হয়েছে। শিহাব পড়ালেখা বাদ দিয়ে বেকার। খুশীর সাথে সংসার ভাঙ্গার পর নতুন করে স্বজনরা বিয়ে পড়িয়েছে পোকখালীর রোজিনার সাথে। বর্তমানে মনজু-রোজির ঘরে আলো ছড়াচ্ছে ২ বছরের লামিয়া। ক্রীড়া পাগল মনজু বাবার ঘরে খেয়েপুরে ক্রীড়া সেবা দিয়ে যাচ্ছে নিত্যদিন। বেঁচে থাক-ক্রীড়া পাগল মনজু, আরও দীর্ঘ সময়।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"



You must be logged in to post a comment.