তিন দিন আগেও যে পরিবার এবং ব্যবসা পরিপাটি ছিল, সপ্তাহে দুদিন যেখানে হাট বসতো ঐতিহ্যবাহী উখিয়া দারোগা বাজার ক্রেতা-বিক্রেতাদের জন্য প্রস্তুত থাকত সেই ব্যস্ততম হাট-বাজার এখন নীরব। শত বছরের পুরাতন বাপ-দাদার স্মৃতিচিহ্ন পরিবারের একটি নিশ্চিত আশ্রয়ের ঠিকানা আগুনে শেষ হয়ে গেল। যুগের পর যুগ ধরে যে মন্দিরে পূঁজা করতো হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন, সেই মন্দিরের আশপাশে থাকা কয়েক পরিবার ২৯ নভেম্বরের ভয়াবহ আগুনের কারণে শিশু ও বৃদ্ধদের কাছে আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। এদের সামনে ধাও ধাও করে জ্বলতে থাকা আগুনের লেলিহান শিখা চোখের পাতা থেকে সরাতে পারছে না।
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, গৃহবধুদের স্বর্ণালঙ্কার, পরিবারের কর্তার অতিকষ্টে অর্জিত ক্যাশ টাকা, ঘরে সাজানো টিভি, ফ্রিজ, কম্পিউটার, ল্যাপটপসহ ইত্যাদি জিনিসপত্র আজ আগুনে পুড়ে ছাঁই হয়ে গেছে। বৈদ্যুতিক আগুনে সেখানে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
মাষ্টার গোপাল বিশ্বাস, সাংবাদিক দীপন বিশ্বাস, মিটু বিশ্বাস, উজ্জল দাশ, শ্যামল দাশের বসত বাড়ি এখন ধ্বংস স্তুপে পরিণত হয়েছে। তাদের জল নেই, খাবার নেই, ওষুধ নেই, দেখারও কেউ নেই। তারা মানবিক বিপর্যয়ের শিকার।
উখিয়া ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব একরামুল হক বলেন- অত্যন্ত মানবেতর জীবন-যাপন করছেন তারা পাশাপাশি দেখা দিয়েছে অর্থনৈতিক দূরবস্থা। সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দরা বলেন, বিপন্ন মানুষের খাদ্য ও আশ্রয়ের সম্পূর্ণ দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে। উখিয়া কেজি স্কুলের অধ্যক্ষ হাসিনা জালাল চৌধুরী বলেন, প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের মানবিক কারণে যদি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় তাহলে মানুষগুলো আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"



You must be logged in to post a comment.