দীপক শর্মা দীপু; কক্সভিউ :
ভর্তির জন্য অতিরিক্ত তদবিরের চাপে পড়ায় পরীক্ষণ বিদ্যালয়ের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। প্রত্যেক শ্রেণিতে নির্ধারিত আসনের বিপরীতে যথাযথ ভর্তি কার্যক্রম শেষ হওয়ার পরও বিভিন্ন পর্যায়ের সরাসরি তদবিরের লাইন প্রতিদিন দীর্ঘ হচ্ছেন। তদবিরকারীদের জবাব দিতে প্রতিষ্ঠান প্রধানকে রাত ৮টা পর্যন্ত অফিসে সময় দিতে হচ্ছে। এর মধ্যে সার্বক্ষণিক বিভিন্ন উর্ধ্বতন কর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের লাল টেলিফোনের জবাব দিতে হয়। অনেকে ফোনে ভূঁয়া পরিচয় দিয়ে ভর্তি করানোর চাপ সৃষ্টি করছে। অতিরিক্ত ভর্তি চাপের কারণে ভালো পাঠদান ও স্কুল কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশংকা করা হচ্ছে।
সরেজমিনে জানা যায়, প্রাক প্রাথমিক শিক্ষায় লটারির মাধ্যমে নির্ধারিত ৩০ জনকে ভর্তি করানো হয় এর জন্য অতিরিক্ত আবেদন রয়েছে আরো ১৫টি। প্রথম শ্রেণীতে লটারীর মাধ্যমে নির্ধারিত ৪০ জন, প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের ১০ জন এবং জনপ্রতি সাংসদ, উর্ধ্বতন, সরকারী কর্তাদের সুপারিশে ১০ জন অর্থাৎ মোট ৬০ জন প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছে। এ শ্রেণিতে ভর্তি হতে আবেদন রয়েছে আরো ২৭টি। ২য় শ্রেণিতে প্রথম শ্রেণি উত্তীর্ণ নিজস্ব প্রতিষ্ঠানের ৬০ জন ও বদলি হওয়া ৭ জন সরকারী চাকুরীজীবীদের পোষ্য ভর্তি হয়েছে। এ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য তদবিরের আবেদন রয়েছে ২১টি।
২য় শ্রেণি থেকে উত্তীর্ণ নিজস্ব প্রতিষ্ঠানের ৬৩ জন ৩য় শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছে। এ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য তদবির রয়েছে ১৩টি। ৩য় শ্রেণি থেকে উত্তীর্ণ নিজস্ব ৬৫ জন এবং বদলিকৃত সরকারী চাকুরীজীবীদের ৫ জন পোষ্য ভর্তি হয়েছে। এ শ্রেণিতে ভর্তির তদবিরের আবেদন রয়েছে ১৫টি।
চতুর্থ শ্রেণি থেকে উত্তীর্ণ নিজস্ব প্রতিষ্ঠানের ৫৭ জন এবং বদলিকৃত সরকারী চাকুরিজীবীদের ২ জন পোষ্য ভর্তি হয়েছে। এ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন রয়েছে ৯টি। এক শ্রেণিতে ৪০ জন পাঠদানের নিয়ম রয়েছে।
এরপরও প্রতি শ্রেণিতে আরো বেশি শিক্ষার্থীকে পড়ানোর সুযোগ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এখন যা ভর্তি হয়েছে তার অতিরিক্ত ভর্তি করানো হলে পড়ালেখা চরমভাবে ব্যাহত হবে বলে জানিয়ে সুপারিনটেনডেন্ট কামরুন্নাহার বলেন প্রতিদিন ভর্তি তদবিরের চাপের কারণে নিয়মিত কার্যক্রম পালন করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। অতিরিক্ত আরো ভর্তি করানো সম্ভব বলে সাফ জানিয়ে দেয়া হলেও অভিভাবকরা তা মানতে চান না।
সচিব, উপ-সচিব, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তার নাম ব্যবহার করে ভূঁয়া পরিচয় দিয়ে ভর্তি করানোর জন্য তদবির করছে। এভাবে প্রতিদিন নানা চাপের কারণে অতিষ্ট হয়ে উঠেছি। স্বনামধন্য এ প্রতিষ্ঠানটি যথাযথভাবে পরিচালনা করতে তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। প্রাক প্রাথমিক শিক্ষা চালু করলেও এর জন্য কোন শিক্ষক নিয়োগ না দেয়ায় অন্যান্য শ্রেণির পাঠদান এর প্রভাব পড়বে বলে জানিয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট একজন শিক্ষক নিয়োগের আবেদন জানান।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.