সাম্প্রতিক....
Home / প্রচ্ছদ / সাম্প্রতিক... / একাত্তরের সেই দু:সাহসী ৮ম শ্রেণীর ছাত্র ৪২ বছর পর কসউবি’তে

একাত্তরের সেই দু:সাহসী ৮ম শ্রেণীর ছাত্র ৪২ বছর পর কসউবি’তে

দীপক শর্মা দীপু; কক্সভিউ :

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের দু:সাহসী ৮ম শ্রেণির ছাত্র সব্বির আহমদ ওসমানী রবিবার কক্সবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন। তাকে দেখার সাথে সাথে মঞ্চে তুলে পরিচয় করে দেন তার ক্লাস বন্ধু কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান লে.কর্ণেল (অব) ফোরকান আহমদ।

তিনি বলেন-‘কসউবি’র এক দু:সাহসিক ছাত্রের নাম হচ্ছে সব্বির আহমদ ওসমানী। তিনি স্কুলে স্বাধীনতার পক্ষে কথা বলে সবাই আমাদের উদ্বুদ্ধ করতেন। সেই অপরাধে একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালিন পাকবাহিনী সব্বিরকে ধরে নিয়ে যায়। পরে প্রাণে রক্ষা পায়।’ এই কথা শুনে সবাই করতালি দিয়ে অভিবাদন জানান।

পরে সাক্ষাতকারে এ প্রতিবেদককে তিনি জানান-‘ একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালিন আমি তখন কক্সবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির ছাত্র। যুদ্ধের সময় আমি বাবার সাথে নিয়মিত স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের প্রচারিত খবর ও মুক্তির গান শুনতাম। তখন বাবুল আক্তার নামের এক খবর পাঠক নিয়মিত খবর পাঠ করতেন। আমি তাকে অনুসরণ করে স্কুলে খবর পাঠ করতাম। আমি আনিসুর রহমান সিদ্দিকী, ফোরকান আহমদসহ কয়েকজনে ক্লাসে-ক্লাসে গিয়ে মুক্তির গান গেয়ে  মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়  ছাত্রদের উদ্বুদ্ধ করতাম। কিন্তু আমার একজন ক্লাস সহপাঠি তা সহ্য করতো না, আমাদের ব্যঙ্গ করতো। মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে কথা বলতো। এমন কি পাক হানাদার বাহিনীর ভয় দেখাতো। তবুও আমরা মুক্তির গান আর মুক্তিযুদ্ধের খবর সবাইকে শুনিয়ে গেছি। কিন্তু আমার সেই সহপাঠির তা সহ্য না হওয়ায় সে পাক বাহিনীর কাছে আমাদের বিষয়ে অভিযোগ করে। তখন একদিন পাক সেনারা এসে আমাকে স্কুল থেকে ধরে নিয়ে যায়। তখন ভেবেই নিয়েছি ওরা আমাকে বাঁচিয়ে রাখবেনা। মনে মনে মৃত্যকে বরণ করে নিলাম। পরে খবর পেয়ে আমার বাবা তথ্য বিভাগ ও জনসংযোগ কর্মকর্তা তাহের মিয়া ক্যান্টেনমেন্টে গিয়ে অনুরোধ করে নিয়ে আসেন। বাবা সরকারি কর্মকর্তা হওয়ায় আমাকে প্রাণে বাঁচিয়ে দেয়। তবে হুমকি দেয় পুনরায় মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে কোন কথা না বলার জন্য। তা না হলে গুলি করে হত্যা করা হবে।’

তাদের সহপাঠি (১৯৭৪ ব্যাচ) আনিসুর রহমান সিদ্দিকী বলেন-‘সেই একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় এক ছাত্র (আমাদের সহপাঠি ‘৭৪ ব্যাচ) আমাদের বিরুদ্ধে পাকবাহিনীকে অভিযোগ করে রাজাকারের ভূমিকা রাখেন। তার বাবাও কক্সবাজারের একজন স্বীকৃত রাজাকার। সেই সময় স্কুলে যেমন মুক্তিকামী ছাত্র ছিল তেমন রাজাকারও ছিলো। রাজাকারের ভূমিকায় সেই দিন যে ছাত্র মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে সব্বিরকে পাক হানাদার বাহিনীকে ধরিয়ে দেয় ২৫ ডিসেম্বর ৪২ বছর পর  কসউবি’র পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে সেই রাজাকার ছাত্র আর মুক্তিকামী ছাত্র সব্বির পাশাপাশি বসে অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। সেই দিন সব্বিরের যে মৃত্যু চেয়েছিলো আজ সে স্বাধীন বাংলায় বেঁচে থাকলেও মানসিকভাবে সুস্থ নেই। চোরের মতো তাদের বাস করতে হচ্ছে।’

Share

Leave a Reply

x

Check Also

কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে মহান বিজয় দিবস উদযাপিত

—V প্রেস বিজ্ঞপ্তি :কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদায় বিজয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। দিবসের ...

Portrait of a professional, showcasing contact details and role information.