সাম্প্রতিক....
Home / প্রচ্ছদ / সাম্প্রতিক... / কুতুবদিয়ায় আদালতের ছাঁদ আকস্মিক ধসে পড়লেও প্রাণহানি হয়নি

কুতুবদিয়ায় আদালতের ছাঁদ আকস্মিক ধসে পড়লেও প্রাণহানি হয়নি

এম.রাসেল খাঁন জয়; কুতুবদিয়া :

কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ায় আদালত ভবনের জি আরও এর রুমের ছাঁদ রবিবার দুপুরে আকষ্মিকভাবে ভেঙ্গে পড়ে। এতে কারও প্রাণহানি ঘটেনি। ৫মিনিটি পূর্বে জি আরও দুদু মিয়া রুম থেকে বের হয়ে কোর্টের বারান্ধায় এলে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিচার প্রার্থী সাধারণ লোকজনের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন কুতুবদিয়া আদালতের জি আরও দুদু মিয়া। তাৎক্ষণিকভাবে ছাদ ভেঙ্গে পড়ার দৃশ্য পরিদর্শন করেন কুতুবদিয়া আদালতের বিজ্ঞ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আলমগীর কবির।

এছাড়াও কুতুবদিয়া আদালত ভবনের আসামী রাখার সেলসহ বিভিন্ন অংশে ফাটল ধরেছে। বর্তমানে আদালত ভবনটি সংস্কার অত্যান্ত প্রয়োজন। অতি শিঘ্রই আদালত ভবণটি সংস্কার না হলে যেকোন মুহুর্তে আদালতের বিচারক, কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং সেবা নিতে আসা লোকজনের প্রাণহানির আশংকা রয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশের মূল-ভুখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ার প্রায় ১ লক্ষাধিক মানুষের দূর্ভোগ লাঘবের জন্য তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেন মুহাম্মদ এরশাদ আদালত ভবনটি স্থাপন করেন। ভবনটি নির্মাণের ৩২ বছর অতিবাহিত হলেও নেই কোন যুগোপযোগী মেরামত। ১৯৯১ সালের প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড়ে আঘাতের পর কোনমতে জোড়া তালি দিয়ে ভবনটিতে আদালতের বিচারিক ও দাপ্তরিক কর্মকান্ড চলে আসছিল। গত ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারী জামায়াত ইসলামীর নায়েবে আমীর আলহাজ্ব মৌলনা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর মানবতা বিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদন্ড রায় ঘোষণার প্রতিবাদে উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরে জামায়াত-বিএনপির সমর্থকরা ভাংচুর ও অগ্নি সংযোগ করার সময় এ আদালত ভবন ভাংচুর হয়। ভাংচুরের পর মেরামত করার জন্য উপজেলার অন্যান্য দপ্তরের জন্য বরাদ্দ আসলেও অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ কুতুবদিয়া আদালত ভবনের মেরামতের জন্য লিখিত ভাবে আবেদন করলেও সাড়া মেলেনি। যার কারণে বর্তমানে অত্যন্ত ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় আদালতের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটসহ আদালতের কর্মচারীরা বিচারিক ও দাপ্তরিক কর্মকান্ড চালাচ্ছেন।

রবিবার দুপুরে সরজমিনে কুতুবদিয়া আদালত পরিদর্শন করতে গেলে দেখা যায় আদালত ভবনের ছাদ ভেঙ্গে পড়া এবং বিভিন্ন অংশে ফাটল ধরে পড়ার দৃশ্য এবং দেওয়াল ও মেঝের মারাতœক ফাটল ও ভাঙ্গার দৃশ্য।

এব্যাপারে কুতুবদিয়া আদালতের আইনজীবী এডভোকেট কামাল উদ্দিন আহামদ জানান, ১৯৮৫ সালে তৎকালীন এরশাদ সরকারের আমলে নির্মিত আদালত ভবনটি সংস্কারের অভাবে ঝুকিপূর্ণ হয়ে পড়ে আছে। তাৎক্ষণিকভাবে আদালত ভবনটি সংস্কারের প্রয়োজন। সংস্কার না হলে আদালত ভবনটিতে বিচারিক কার্যক্রম ব্যাঘাত সৃষ্টি হবে।

এ ব্যাপারে কুতুবদিয়া আদালতের এ পিপি এডভোকটে জিল্লুল করিম জানায়, কুতুবদিয়া আদালত ভবন অত্যান্ত ঝুকিপুর্ণ অবস্থায় রয়েছে। যে কোন মুহুর্তে মৃধু ভূমিকম্প ও টানা বৃষ্টিতে সম্পূর্ণ বিলিন হয়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। জরুরী ভিত্তিতে ভবনটি মেরামত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

এ ব্যাপারে কুতুবদিয়া আদালতের জি আরও দুদু মিয়া জানায়, রবিবার দুপুর ১২টার সময় নিজ কক্ষ থেকে ৫মিনিটি পূর্বে বারান্দায় আসলে আকস্মিক ভাবে ছাঁদ ভেঙ্গে পড়ে। কুতুবদিয়া আদালত ভবন বর্তমানে অত্যন্ত ঝুকিপূর্ন অবস্থায় রয়েছে। যে কোন মুর্হুতে প্রাণহানির ঘটনার আশংকা রয়েছে। যেখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ফাইল রয়েছে সেখানে নেই কোন নিরাপত্তা। বর্তমানে আদালতের গুরুত্বপুর্ণ কাগজপত্র ও কর্মচারীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছে। তাছাড়া আইনজীবীদের জন্য আলাদা কোন বার বা কক্ষ না থাকায় বিচার কার্যে ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট আদালত ভবনের নিরাপত্তা বেষ্টনী ও ভবন সংস্কারের জন্য লিখিত ভাবে আবেদন করেও কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। তাৎক্ষণিকভাবে আদালত ভবনের সংস্কার করা না হলে বিচারিক কার্য পরিচালনায় ব্যাঘাত সৃষ্টি হবে।

Share

Leave a Reply

x

Check Also

কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে মহান বিজয় দিবস উদযাপিত

—V প্রেস বিজ্ঞপ্তি :কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদায় বিজয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। দিবসের ...

Portrait of a professional, showcasing contact details and role information.