
মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, বান্দরবান:
পার্বত্য চট্টগ্রামে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা প্রতি বছর ৪শত কোটি টাকা চাঁদা আদায় করে। আদায়কৃত চাঁদার টাকা দিয়ে তারা জুম্মু ল্যান্ড প্রতিষ্ঠার জন্য অবৈধ অস্ত্র ক্রয় করে। সশস্ত্র সন্ত্রাসি গ্রুপের যোগ সাজসে পার্বত্য চট্ট্রগ্রামে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার মিশন নিয়েই ঐক্য ন্যাপ ও নাগরিক প্রতিনিধি দলের ব্যনারে পঙ্কজ ভট্রাচার্যরা লামায় আসে। বুধবার বান্দরবানের লামায় একটি রেষ্ট্ররেন্টে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মুরুং নেতৃবৃন্দ এই অভিযোগ করেন।
পার্বত্য চট্টগ্রাম মুরুং কল্যান সংসদের সভাপতি মেনরুম মুরুং লিখিত বক্তব্যে বলেন, কথিত কলামিস্ট ও বুদ্ধিজীবী সৈয়দ আবুল মকসুদ এবং পঙ্কজ ভট্টাচায্যরা পার্বত্য চট্টগ্রামকে বেসামরিকরণের দাবি জানিয়ে রাষ্ট্রদ্রোহীতার অপরাধ করেছেন। তারা দেশের সংবিধান ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল নয়! বারবার পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি উপজাতিদের নিয়ে রাজনীতি করে পাহাড়কে অস্থিতিশীল করে তুলছে। আর এতে তাদেও রুটি রুজির ব্যবস্থা হচ্ছে। কিন্তু দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা যেমন হুমকির মুখে পড়ছে, তেমনি স্বপ্নের আধিবাসি বলে বলে সংবিধান লঙ্গন করছে বারবার। কোনো ষড়যন্ত্র নিয়ে পুনরায় পার্বত্য চট্রগ্রামে প্রবেশের চেষ্টা করলে জবাব পেয়ে যাবে। বলেন এই মুরুং নেতা।
ঐক্য ন্যাপ ও নাগরিক প্রতিনিধি দলের ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনে আনা অভিযোগের প্রতিবাদে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন, মুরুং কারবারী মেনরুম মুরুং, গিলা চন্দ্র ত্রিপুরা, ইয়াংলক মুরুং , মংবুশে র্মামা, রনি চন্দ্র ত্রিপুরা, বীর চন্দ্র ত্রিপুরা। এ সময় শতাধিক মুরুং , ত্রিপুরা ও র্মামা জনগোষ্ঠির লোকজন উপন্থিত ছিলেন।
মুরুং নেতৃবৃন্দ বলেন, পাহাড়ে ঘোষনা দিয়ে জে.এস.এস, পি.সি.পি ও ইউপিডিএফ অপহরণ, খুন, চাঁদাবাজীসহ সন্ত্রাসী কর্মকা- চালিয়ে যাচ্ছে। এই ব্যাপারে একবারও কি পার্বত্য চট্টগ্রামে আপনারা সফর করে সচিত্র প্রতিবেদন আকারে সমাধানের জন্য সরকারের নিকট কোনো সুপারিশ করেছেন? নাকি এখনও ঘুমের ঘরেই আছেন?
ন্যাপ ঐক্য ও নাগরিক প্রতিনিধি দলের সদস্যদের উদ্দেশ্যে মুরুং নেতৃবৃন্দরা বলেন, উপজাতি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি মুরুং সম্প্রদায় তাদের দীর্ঘদিনের দাবী দাওয়া নিয়ে পূর্বঘোষিত কর্মসূচী অবরোধ পালন করেছে। এতে নিরাপত্তাবাহিনীর কোনো সম্পৃক্ততা ছিলনা। তবে নিরাপত্তাবাহিনী ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে জড়িয়ে লাগামহীন মিথ্যাচার মূলক বক্তব্য দিয়ে পাহাড়ের পরিবেশকে অশান্ত করার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। পাহাড়ের কোনো বিষয়ে কথা বলার আগে ত্রিশ হাজার বাঙ্গালী ও উপজাতির খুনের নায়ক শন্তু লারমাকে বিচারের কাঠ গড়ায় দাঁড় করানোর জন্য সরকারকে বলুন। এতেই বুঝবো আপনারা সত্যিকারের মানবাধিকার কর্মী। পরে মুরুং ও ত্রিপুরা একত্রি হয়ে উপজেলা পরিষদের সামনে একটি জাতীয় দৈনিকের বেশকিছু কপি পুড়ে ফেলে।
উল্লেখ্য: গত শনিবার বান্দরবানের লামায় ভূমি বেদখল সরেজমিন পরিদর্শনে যাওয়ার পথে নাগরিক প্রতিনিধিদলকে বাধা দেওয়ার অভিযোগে এনে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে আয়োজন করে ঐক্য ন্যাপ ও নাগরিক প্রতিনিধিদল। রোববার তারা এই সংবাদ সম্মেলন করে।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.