
তাইজুল ইসলাম
তাইজুল ইসলাম নামটি শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে তার বল করার দৃশ্য। বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলে স্পিনার হিসেবেই জায়গা করে নিয়েছিলেন তাইজুল। এখন তাকে সবাই চেনে স্পিনার হিসেবেই। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, জাতীয় দলে জায়গা পাওয়ার কয়েক বছর আগেও পুরোদস্তর ব্যাটসম্যান ছিলেন বাঁ-হাতি এই স্পিনার।
তাইজুলের ক্রিকেট ক্যারিয়ারের শুরুই হয়েছিল ব্যাটসম্যান হিসেবে। বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে দলে তার জায়গা হতো ব্যাটসম্যানের কোটায়। অনূর্ধ্ব-১৫ ক্রিকেটে তো ওপেনিং ব্যাটসম্যান ছিলেন ২০১৫ সালে বাংলাদেশ দলে অভিষেক হওয়া তাইজুল। সাফল্যের সিঁড়ি বেয়ে ওপরে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে বদলে যেতে থাকে তার পরিচয়ও। শেষপর্যন্ত অনূর্ধ্ব-১৯ দলে জায়গা পান বোলার হিসেবে।
ব্যাটসম্যান থেকে বোলার হয়ে ওঠার গল্প নিজেই জানালেন তাইজুল। ১৬ মে মঙ্গলবার মিরপুরে তাইজুল তার গল্প জানালেন এভাবে, ‘অনূর্ধ্ব-১৫ দলে ওপেনিং ব্যাটসম্যান ছিলাম। অনূর্ধ্ব-১৮ তে বিভাগীয় পর্যায়ের খেলায় অনেক উইকেট পাই। এরপর অনূর্ধ্ব-১৯ দলে চলে আসি বোলার হিসেবে। মনে হচ্ছিল ব্যাটিং-বোলিং দুইটা দিক সামলানো কঠিন হয়ে যাবে। দুই দিক নিয়ে চিন্তা করলে হয়তো কোনো দিকেই হবে না। ওই সময় বোলিংয়েই ধ্যান বেশি দিই।’
এখনও কি টপ অর্ডার বা ওপেনিংয়ে ব্যাট করতে পারবেন? এমন প্রশ্নে তাইজুল বলছেন, এক বছর সময় মিললে না পারার কিছু নেই। তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে যদি বলা হয় আমার কাছে মনে হয় না আামি পারব। কিন্তু আজ থেকে ৬-৭ মাস বা একবছর পর যদি হয় আমি পারব। সে আত্মবিশ্বাস আমার আছে। আজ থেকে এক বছর পর হলে ভাল কিছুর আশা করা যায়।’
এ পথে ওয়েস্ট ইন্ডিজ স্পিনার সুনীল নারাইনের উদাহারণ টানলেন তাইজুল। এবারের আইপিএলে রীতিমতো ব্যাটসম্যান হয়ে উঠেছেন নারাইন। কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে বেশিরভাগ ম্যাচে ইনিংস উদ্বোধন করেছেন নারাইন। নারাইনকে দেখে তাইজুল বলছেন, ‘নারাইনের ব্যাটিং অবশ্যই অনুপ্রাণিত করে। তাকে সুযোগ দেওয়া হয়েছে, সে সফল হয়েছে। এটা দেখে অন্যরা অনুপ্রাণিত হবে।’
চলতি ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে নিজের ব্যাটিং দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে খেলা তাইজুল। নবম রাউন্ডে বিকেএসপিতে নিশ্চিত হেরে যাওয়া ম্যাচে হার না মানা ৫৭ রানের ইনিংস খেলে মোহামেডানকে জিতিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের হয়ে ১৩ টেস্ট ও চার ওয়ানডে খেলা বাঁ-হাতি এই স্পিনার।
মোহামেডানের অনুশীলনে ব্যাটিংও করেন তাইজুল। দলে স্পিনার হিসেবে জায়গা হলেও কোচ তাকে নেটে ব্যাটিং অনুশীলন করার সুযোগ দেন। তাইজুল বলেন, ‘ব্যাটিং করলে সব ফরম্যাট খেলা সহজ হয়। চেষ্টা করব তিন সাইডেই ভাল করে ওয়ানডে টিমে ঢোকার। মোহামেডান কোচ আমাকে নেটে ব্যাটিং করার সুযোগ দেন। আমি আসলে সলিড ব্যাটসম্যান নই। ওপেনিং করতাম সে ১০ বছর আগের কথা।’
বোলিংয়ে আরও পরিপক্ক হতে সব সময়ই অনুশীলনে ঘাম ঝরান টেস্ট-ওয়ানডে মিলিয়ে ৫১ উইকেট শিকার করা তাইজুল। স্বপ্ন দেখেন আরও ভালো বোলিং করার। তিনি বলেন, ‘আমার যখন ২৮-৩০ বছর বয়স হবে তখন আমার বোলিং আরও ভাল হবে। যখন নাইনটিনে খেলেছি, ‘এ’ দলে খেলেছি, ওই সময় আর এখনকার সময়ের মেধায় অনেক পার্থক্য। সময় গেলে হয়তো আরও পরিণত হব। তখন বুঝতে পারব ব্যাটসম্যান কী করতে চায়।’
সেই সময়ের অপেক্ষায় আছেন ক্রিকেট ইতিহাসের প্রথম বোলার হিসেবে ওয়ানডে অভিষেকে হ্যাটট্রিক করা ২৫ বছর বয়সী এই স্পিনার। নিজেকে আরও গুছিয়ে নিয়ে বাংলাদেশকে তিন ফরম্যাটেই টানা দশ বছর সার্ভিস দিতে চান তাইজুল। তিনি বলেন, ‘একটা সময়ে টানা এক জায়গায় বোলিং করার দক্ষতা তৈরি হবে। এখন যে ঘাটতি আছে সেটি পুষিয়ে নিতে আরও সময় লাগবে। যখন নিজেকে ওই পর্যায়ে নিতে পারব তখন আর চিন্তা করতে হবে না। হয়তো বাংলাদেশকে সব ফরম্যাটেই একটানা দশ বছর সার্ভিস দিতে পারব।’
সূত্র:priyo.com,ডেস্ক।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.