সাম্প্রতিক....
Home / প্রচ্ছদ / অপরাধ ও আইন / টেকনাফে ডিবি পুলিশ সদস্যদের ঘেরাও করে আসামী কেড়ে নিল জনতা : ৫ হাজার ইয়াবা উদ্ধার : অপরাধীদের বিরুদ্ধে পৃথক দুইটি মামলা : আটক-৩

টেকনাফে ডিবি পুলিশ সদস্যদের ঘেরাও করে আসামী কেড়ে নিল জনতা : ৫ হাজার ইয়াবা উদ্ধার : অপরাধীদের বিরুদ্ধে পৃথক দুইটি মামলা : আটক-৩

প্রতিকী ছবি

গিয়াস উদ্দিন ভুলু; টেকনাফ :

সীমান্ত উপজেলা টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নে একটি বাড়িতে মর্মে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মজুদকৃত ইয়াবা উদ্ধারের জন্য ডিবি পুলিশ অভিযানে গেলে বাড়ির লোকজন হয়রানী অভিযোগ এনে ডিবি পুলিশ সদস্যদের ঘেরাও কওে ইট, পাটকেল নিক্ষেপ ও আটককৃত আসামীদের ছিনতাই করার চেষ্টা চালায়।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গত ১২ জুলাই বুধবার রাতে টেকনাফ সাবরাং ইউনিয়নে সিকদার পাড়া এলাকায় কক্সবাজার ডিবি পুলিশের একটি দল ইয়াবা মজুদ রাখার গোপন সংবাদ পেয়ে অভিযানে যায়। এর পর মৃত জহির আহম্মদের স্ত্রী রেহেনা বেগমের বাড়িতে তল্লাশী করে একটি হাড়ি ভর্তি লুকিয়ে রাখা ৫ হাজার ইয়াবার সন্ধান পায়। ইয়াবা রাখার অপরাধে রেহেনা বেগমকে আটক করে ডিবি পুলিশের সদস্যরা। বাড়িতে থাকা মহিলারা শোর-চিৎকারে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা এগিয়ে এসে ডিবি পুলিশ সদস্যদের কাছ থেকে আটককৃতদের ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে এবং তাদেরকে ঘেরাও করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে ডিবি পুলিশের দল প্রায় ১ ঘন্টা অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। এ ঘটনা খবর পেয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যান নুর হোসেন ও প্যানেল চেয়ারম্যান শামশুল আলম বিক্ষুব্ধ জনতার হাত থেকে তাদেরকে উদ্ধার করে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের উপ-পরির্দশক এস আই কামাল হোসেন জানান, সাবরাং ইউনিয়ন সিকদার পাড়া মৃত জহির আহম্মদের স্ত্রী রেহেনা বেগমের বাড়িতে ইয়াবা মজুদ রাখার গোপন সংবাদ পেয়ে অভিযানে যায়। এরপর তাদের বসত বাড়িতে তল্লাশী করে একটি হাড়ি থেকে ৫ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয় এবং জড়িত থাকার অপরাধে রেহেনা বেগমকে আটক করা হয়। এর পর আসার পথে স্থানীয় কিছু উশৃঙ্খল লোকজন ছুটে এসে আমাদের উপর অর্তকিত ভাবে হামলা করে আসামী ছিনিয়ে নিয়ে যায়। তার পর থানায় এসে ঘটনার সাথে জড়িত অপরাধী ও ইয়াবা ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে পৃথক ২ টি মামলা রুজু করা হয়।

টেকনাফ মডেল থানা সুত্রে আরো জানা যায়, উক্ত মামলা গুলো তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই মাহির উদ্দিন একই দিন গভীর রাতে পুলিশের একটি টিম সাবরাং সিকদার পাড়া অভিযান পরিচালনা করে ৩ জন যুবককে আটক করে। তারা হচ্ছে, শামশুল আলম, নুরুল আবছার, দিদার আলম।

আটককৃত তিন যুবক ডিবি পুলিশের কাজে বাধা ও তাদের উপর হামলা করার ঘটনায় এজাহার ভুক্ত আসামী করা হয়েছে। এই ঘটনায় পৃথক ২টি মামলা রুজু করেছে ডিবি পুলিশ। মামলার এজাহার ভুক্ত আসামী ২০ জন অজ্ঞাতনামীয় আসামী ৭০-৮০ জন। ৩৭ মাদক মামলায় এজাহার ভুক্ত করা হয়।

এই ঘটনায় টেকনাফ উপজেলার সুশীল সমাজের ব্যক্তিরা অভিমত প্রকাশ করে বলেন, বর্তমানে টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ সদস্যরা মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে যে অভিযান করছে। সেই অভিযানে সাধারণ মানুষরাও হয়রানী শিকার হচ্ছে। তাই আমাদের দাবি, অপরাধীদের আটক করতে গিয়ে কোন সাধারণ মানুষ যেন হয়রানী শিকার না হয়, সেদিকে সকল প্রশাসনের সদস্যদের নজর রাখতে হবে। তার পাশাপাশি যারা মাদকের সাথে জড়িত তাদেরকে আইনের আওয়াতাই নিয়ে না আসলে সীমান্ত এলাকা থেকে ইয়াবার মত ঘৃন্য ব্যবসা এলাকা থেকে কোন দিন বন্ধ হবে না।

এব্যাপারে টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাইন উদ্দিন খাঁন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মাদক উদ্ধারে পুলিশের কঠোর ভূমিকা ও সাড়াঁশি অভিযানে স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ীরা আতংকে রয়েছে। এবং পুলিশের এ অভিযানে বাধা প্রধান করে মাদক ব্যবসায়ীরা ডিবি পুলিশের উপর হামলা করে। এটি জঘণ্য অপরাধ জন্ম দিয়েছে। তিনি আরো বলেন, এই ঘৃণ্য ঘটনার সাথে যারা জড়িত তাদেরকে চিহ্নিত করে আইনের আওয়াতাই নিয়ে আসা হবে। তার পাশাপাশি অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

Share

Leave a Reply

x

Check Also

কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে মহান বিজয় দিবস উদযাপিত

—V প্রেস বিজ্ঞপ্তি :কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদায় বিজয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। দিবসের ...

Portrait of a professional, showcasing contact details and role information.