
মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, লামা :
সারা জীবনের অর্জিত আয় পিতার হাতে তুলে দিয়ে প্রতারিত হওয়ার অভিযোগ করেছে হতভাগা দুই মেয়ে মেরিনা খাতুন (৩৪) ও সেলিনা আক্তার (৩১)। বান্দরবানের লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নের লম্বাখোলা এলাকার গয়ালমারা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। বুধবার দিবাগত গভীর রাতে ছোট ভাই-বোন কর্তৃক মারধরের শিকার দুই বোন গুরুতর আহত হয়ে লামা হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সরই ইউনিয়নেরর গয়ালমারা এলাকার দরিদ্র আনছার মোড়লের মেয়ে সেলিনা আক্তার ও মেরিনা খাতুন। দারিদ্রতার কষাঘাতে জীবিকার তাড়নায় ১৯৯৯ সালে ঢাকায় চলে যায় দুই বোন। সেখানে গার্মেন্টসে পোশাক শ্রমিকের কাজ করে তিলে তিলে করা সঞ্চয় তুলে দেয় পিতার হাতে। বাড়ির পাশের কাজেম আলী থেকে ১ একর জমি বর্গা নেয়ার কথা বলে দুই মেয়ের কাছ থেকে ২০১৩ কয়েক দফায় ১ লক্ষ ৩৬ হাজার টাকা আনে পিতা আনছার মোড়ল। ৪/৫ বছরের টাকা গুলো কয়েক দফায় লাভে বেড়ে প্রায় ৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা হয়। এই টাকা ফেরত দিতে না পারায় জমির মালিক কাজেম আলী বর্গা টাকার পরিবর্তে জমি দিয়ে দেয়। কিন্তু এই সুযোগে উক্ত জমির মেয়েদের নামে ক্রয় না করে আনছার মোড়ল নিজের নামে রেজিষ্ট্রি করে ফেলে। এছাড়া লম্বাখোলা বাজারে দোকান প্লট ক্রয়ের জন্য ৪ লক্ষ ও দোকান নির্মাণের জন্য আরো ৪ লক্ষ বাবার হাতে দুই মেয়ে। সব মিলে ১১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার সম্পদ হাতে পেয়ে উল্টে যায় আনছার মোড়ল।
মেরিনা ও সেলিনা বলেন, আমরা বর্তমানে স্বামীর বাড়ি সিলেট থাকি। আশপাশের লোকজন থেকে জানতে পারি আমার বাবা দোকানের প্লট ও জায়গা নিজে নামে করে নিয়েছে। শুনে আমরা আমানতের টাকা ফেরত নিতে আসলে বাবা পালিয়ে যায় এবং ছোট ভাই বোন মোঃ আলী (২২), রেহানা আক্তার (১৯), মরিয়ম আক্তার (১৮) ও মুজিরন আক্তার মিনু (১৬) কয়েক দফায় আমাদের মারধর করে। বুধবার দিবাগত রাতে পাশে বড় বোন শিরিনা বেগমের বাড়িতে আশ্রয় নিলে সেখানে গিয়ে লাঠি সোটা নিয়ে হামলা চালায়। লাথি, ঘুষি ও লাঠি দিয়ে মারধর করে। আমাদের পার্শ্ববর্তী লোকজন উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। স্থানীয় মেম্বার চেয়ারম্যান সব জানেন।
এই বিষয়ে আনছার আলীর মোবাইলে (০১৮৮২-২৮২০২৫) একাধিকবার ফোন দিলে সে কল রিসিভ না করায় তার বক্তব্য দেয়া সম্ভব হয়নি।
সরই ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, আমরা বলেছি বিষয়টা মীমাংসা করে দেব। কিন্তু আনছার মোড়লের ছোট ছেলে-মেয়েরা দফায় দফায় মেয়ে গুলোকে মারধর করেছে।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন বলেন, আহত সেলিনা ও মেরিনা লামা থানায় অভিযোগ করেছে। আপাতত দুইজনকে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের জিম্মায় দিয়েছি। আগামীকাল সরজমিনে গিয়ে বিষয়টি সমাধান করা হবে।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.