সাম্প্রতিক....
Home / প্রচ্ছদ / অপরাধ ও আইন / টেকনাফে এক প্রধান শিক্ষকের ভয়ে বিদ্যালয় ছাড়ছে ছাত্রীরা

টেকনাফে এক প্রধান শিক্ষকের ভয়ে বিদ্যালয় ছাড়ছে ছাত্রীরা

নিজস্ব প্রতিনিধি, টেকনাফ :

টেকনাফে এক প্রাথমিক বিদ্যায়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের যৌন হয়রানীর অভিযোগ উঠেছে। এব্যাপারে ভুক্তভোগী এক ছাত্রীর অভিভাবক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি বরাবর লিখিত অভিযোগ প্রদান করেছেন। টেকনাফ সদর ইউনিয়নের মহেশখালিয়া পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঘটনাটি ঘটেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ ইসমাইল প্রথম শ্রেনীর পাঠদানকালে এক ছাত্রীকে ডেকে গালে চুমু দেন ও শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে হাত দেন। এসময় শ্রেনীর অন্যান্য শিক্ষার্থীদের টেবিলে মাথা দিয়ে চোখ বন্ধ রাখতে বলেন তিনি।

২০ সেপ্টেম্বর বুধবার বিকালে ওই ছাত্রীর দাদা সাংবাদিকদের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পিতৃতুল্য শিক্ষক যদি এমন আচরণ করেন তাহলে এই ছোট ছোট বাচ্চাদের তাদের অভিভাবকরা কিভাবে লেখাপড়া করাবে।

তিনি আরো জানান, গত ১৬ সেপ্টেম্বর তার নাতিনকে (সংগত কারণে নাম গোপন রাখা হলে) যথাসময়ে বিদ্যালয়ে যেতে বললে সে বিদ্যালয়ে যেতে রাজি হচ্ছিলনা এবং কান্নাকাটি করছিল। তারপরও জোর করে তাকে বিদ্যালয়ে পাঠানো হয়।

বিদ্যালয়ে গিয়েও সে ক্লাসে ঢুকতে ভয় পায় ও কান্নাকাটি করতে থাকে। এঘটনা দেখতে পেয়ে ৫ম শ্রেণীর কয়েকজন ছাত্রী কান্নার কারণ জানতে চাইলে সে প্রধান শিক্ষকের বিষয়টি খুলে বলে। পরে বিকালে বাড়ীতে ফিরতে দাদীর পুরো ঘটনা জানায়।

এরপর বিষয়টি তার মা জানতে পারলে প্রথমে মৌখিকভাবে বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বিষয়টি জানান এবং ২০ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ প্রদান করেন। অভিযোগে প্রবাসীর স্ত্রী উক্ত ছাত্রীর মা উল্লেখ করেন তিনি নিজে যখন এ বিদ্যালয়ের ছাত্রী ছিলেন তখনও ওই শিক্ষক তার সাথেও এধরনের আচরণ করেছিলেন।

মহেশখালীয়া পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোঃ হারুন জানান, যদিও মেয়েটি ছোট। তারপরও অভিযোগটি গুরুতর। তদন্তের জন্য কমিটির দুই সদস্যকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এব্যাপারে জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রতিনিধি টেকনাফ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ আলী অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিষয়টি আমিসহ পরিচালনা কমিটির অপর সদস্য আবদুল লতিফকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এমদাদ হোসেনকে মুঠোফোনে বিষয়টি অবগত রয়েছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি অফিসে গিয়ে কথা বলতে বলেন।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ ইসমাইলের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের সাথে যৌন হয়রানীমুলক আচরনের এটাই প্রথম ঘটনা নয়। এর আগেও বিভিন্ন বিদ্যালয়ে চাকুরীকালিন তিনি ছাত্রীদের সাথে যৌন হয়রানীমুলক ঘটনা ঘটিয়েছেন। তার এধরনের ঘটনার কারণে ইতিমধ্যে মহেশখালীয়াপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন ছাত্রী অন্য বিদ্যালয়ে চলে যান। আবার অনেক ছাত্রী চিরতরে পড়া লেখা ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। এর আগে একি বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক থাকাকালীন এক ছাত্রীকে বিদ্যালয়ের ছাঁদে দিয়ে যৌন হয়রানীর অভিযোগে স্থানীয় বিচারে দন্ড প্রদান করা হয়েছিল। শুধু এ বিদ্যালয়েই নয়, বেশ কয়েক বছর আগে টেকনাফের হোয়াইক্যং কেরুনতলী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে থাকাকালীন এক ছাত্রীর সাথে যৌন হয়রানীমুলক আচরণের ফলে জনরোষের কবলে পড়েন। এছাড়া টেকনাফ বার্মিজ প্রাইমারি, মিঠাপানিরছড়া প্রাইমারী স্কুলসহ আরো একাধিক স্কুলে এধরনের ঘটনা ঘটান বলে জানা গেছে।

Share

Leave a Reply

x

Check Also

কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে মহান বিজয় দিবস উদযাপিত

—V প্রেস বিজ্ঞপ্তি :কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদায় বিজয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। দিবসের ...

Portrait of a professional, showcasing contact details and role information.