
বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ। ছবি: সংগৃহীত
‘বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য’ হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণকে স্বীকৃতি দিয়েছে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো।
স্থানীয় সময় সোমবার ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে ইউনেস্কোর মহাপরিচালক ইরিনা বোকোভা সোমবার প্যারিসে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
ইউনেস্কোর মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড (এমওডব্লিউ) কর্মসূচির অধীনে আন্তর্জাতিক তালিকায় (ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টার) মোট ৭৮টি দলিলের তালিকায় ৪৮ নম্বরে স্থান পেয়েছে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ।
১৯৭১ সালের ৭ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) জনসভায় লাখো মানুষের উদ্দেশে স্বাধীনতাযুদ্ধের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেওয়ার আহবান জানিয়ে ঐতিহাসিক ভাষণ দেন বঙ্গবন্ধু।
১৯ মিনিটের ওই ভাষণে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘ভায়েরা আমার, আজ দুঃখ ভারাক্রান্ত মন নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। আপনারা সবই জানেন এবং বোঝেন। আমরা আমাদের জীবন দিয়ে চেষ্টা করেছি। কিন্তু দুঃখের বিষয়, আজ ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, রংপুরে আমার ভাইয়ের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত হয়েছে। আজ বাংলার মানুষ মুক্তি চায়, বাংলার মানুষ বাঁচতে চায়, বাংলার মানুষ তার অধিকার চায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘তোমাদের কাছে আমার অনুরোধ রইল, প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোল। তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে। রক্ত যখন দিয়েছি, আরো রক্ত দেব। এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাল্লাহ। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’
বঙ্গবন্ধুর ওই ভাষণ সমগ্র বাঙালি জাতিকে উদ্দীপ্ত ও অনুপ্রাণিত করে। বাঙালি মুক্তি সংগ্রামে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিতে থাকে। ওই ভাষণের ১৮ দিন পরই পাকিস্তানি বাহিনী বাঙালি নিধনে নামে। ডাক আসে মুক্তির সংগ্রামের, স্বাধীনতার। শুরু হয় স্বাধীনতার জন্য মুক্তিযুদ্ধ। নয় মাসের সেই সশস্ত্র সংগ্রামের পর আসে বাংলাদেশের স্বাধীনতা। দেশের বিভিন্ন জাতীয় দিবসে বঙ্গবন্ধুর সেই ঐতিহাসিক ভাষণ বাজিয়ে শোনানো হয়।
১৯৯২ সালে মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড প্রোগ্রাম চালু করে ইউনেস্কো। মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড মূলত বিশ্ব ঐতিহ্য ও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার আন্তর্জাতিক তালিকা। পর্যাপ্ত গ্রহণযোগ্যতা ও ঐতিহাসিক প্রভাব থাকলে তবেই এই তালিকায় ঠাঁই পাওয়া যায়। এই তালিকায় বিশ্বে এখন পর্যন্ত মোট ৪২৭টি নথি যুক্ত হয়েছে।
ইউনেস্কোর মহাপরিচালক ইরিনা বকোভা বলেন, ‘দালিলিক ঐতিহ্য ও স্মৃতি সংরক্ষণের জন্য এ কর্মসূচি পরিচালিত হওয়া উচিত।’
এ বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বার্তা সংস্থা ইউএনবিকে বলেন, ‘আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মহান মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে বিশ্ব এখন আরো বড় পরিসরে জানবে।’
সূত্র:আয়েশা সিদ্দিকা শিরিন-priyo.com;ডেস্ক।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.