
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। ফাইল ছবি
প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা পদত্যাগ করায় রাষ্ট্রপতি নতুন কাউকে নিয়োগ না দেওয়া পর্যন্ত সংবিধানের ৫৭ ধারা অনুসরণ করা হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।
তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি পদত্যাগপত্র পেয়েছেন, এখন তিনি পরবর্তী ব্যবস্থা নিবেন। তিনি নতুন কাউকে নিয়োগ না দেওয়া পর্যন্ত সংবিধানের ৫৭ ধারা বলবৎ থাকবে। সে অনুযায়ী আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞাই প্রধান বিচারপতির দায়িত্বে থাকবেন।’
১১ নভেম্বর শনিবার বিকেলে নিজ বাসভবনে এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী এ কথা বলেন। এ দিন রাষ্ট্রপতির কাছে প্রধান বিচারপতির পদত্যাগপত্র পৌঁছার পর গুলশানের নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি।
সংবিধানের ৯৭ অনুচ্ছেদে বলা আছে, ‘প্রধান বিচারপতির পদ শূন্য হলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে প্রধান বিচারপতি তার দায়িত্বপালনে অসমর্থ বলে রাষ্ট্রপতির নিকট সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হলে ক্ষেত্রমত অন্য কোনো ব্যক্তি অনুরূপ পদে যোগদান না করা পর্যন্ত কিংবা প্রধান বিচারপতি স্বীয় কার্যভার পুনরায় গ্রহণ না করা পর্যন্ত আপিল বিভাগের অন্যান্য বিচারকের মধ্যে যিনি কর্মে প্রবীণতম, তিনি অনুরূপ কার্যভার পালন করবেন।’
এ সময় আরেক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘পদত্যাগের বিষয়ে আমি কিছু বলব না। তার কারণে আগেও আমাকে বিব্রত হতে হয়েছে। তিনি একবার এক কথা বলেন, আরেকবার আরেক কথা বলেন।’
পদত্যাগপত্রে কী লেখা আছে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা বলার পরে আমি জেনেছি। আমার জানা মানে এই না যে, আমি পদত্যাগপত্র পড়েছি।’
সরকার বিচার বিভাগের ওপর হস্পক্ষেপ করেছে কিনা? এমন প্রশ্নে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘বিচার বিভাগ স্বাধীন, সরকার এখানে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করে নাই’।
প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে।
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন বলে ১১ নভেম্বর বেলা ১টার দিকে প্রিয়.কমকে নিশ্চিত করেন রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব জয়নাল আবেদীন।
গতকাল শুক্রবার কানাডা যাওয়ার সময় সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনে পদত্যাগপত্র জমা দেন প্রধান বিচারপতি। শনিবার তা রাষ্ট্রপতির কাছে পৌঁছে।
প্রধান বিচারপতির ছুটি নেওয়া ছিল ১০ নভেম্বর পর্যন্ত। ছুটি শেষ হয়ে যাওয়ার পর পরই এই পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার খবর পাওয়া গেল।
গত ২ অক্টোবর একমাসের ছুটি চেয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে চিঠি পাঠান প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা। আবেদনের দুইদিন পর ৪ অক্টোবর আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সংবাদকর্মীদের জানান, ‘বিচারপতি সিনহা অসুস্থ। তিনি নিজ বাড়িতে একজন চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন।’
সেসময় আইন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, প্রধান বিচারপতি ছুটিতে থাকাকালীন ২ নভেম্বর থেকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত অথবা তিনি ‘দায়িত্বে না ফেরা পর্যন্ত’ বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞা প্রধান বিচারপতির কার্যভার সম্পাদন করবেন।
গত ১৩ অক্টোবর রাতে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা অস্ট্রেলিয়ায় মেয়ের কাছে যান। অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার আগে ১৩ অক্টোবর রাতে সাংবাদিকদের এক বিবৃতি ধরিয়ে দেন।
লিখিত বক্তব্যে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমি সম্পূর্ণ সুস্থ আছি। কিন্তু ইদানিং একটা রায় নিয়ে রাজনৈতিক মহল, আইনজীবী, বিশেষভাবে সরকারের মাননীয় কয়েকজন মন্ত্রী ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে ব্যক্তিগতভাবে যেভাবে সমালোচনা করেছেন, এতে আমি সত্যিই বিব্রত। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, সরকারের একটি মহল আমার রায়কে ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে পরিবেশন করায় প্রধানমন্ত্রী আমার প্রতি অভিমান করেছেন। এই অভিমান অচিরেই দূর হবে বলে আমার বিশ্বাস।’
গত ১৪ অক্টোবর শনিবার বিকেলে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মসহ ১১ টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়ার পর তার সঙ্গে বিচারিক দায়িত্ব পালনে অপারগতা জানিয়েছেন অন্য বিচারপতিরা।
পরে সন্ধ্যায় হাইকোর্টে এক সংবাদ সম্মেলনে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, ‘বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় বিদেশ থেকে ফিরে এসে তার (প্রধান বিচারপতির) দায়িত্ব গ্রহণ করা সুদূর পরাহত।’
২০১৫ সালের ১৭ জানুয়ারি প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব নেওয়া সুরেন্দ্র কুমার সিনহার চাকরির মেয়াদ ছিল ২০১৮ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত।
সূত্র:priyo.com;ডেস্ক।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.