
জাকিয়া সুলতানা রূপা। ফাইল ছবি।
টাঙ্গাইলের মধুপুরে চলন্ত বাসে কলেজ ছাত্রী জাকিয়া সুলতানা রূপাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায়ে ৪ জনের ফাঁসি ও এক জনের সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্তরা হলেন- ছোঁয়া পরিবহনের চালকের সহকারী শামীম (২৬), আকরাম (৩৫) ও জাহাঙ্গীর (১৯) এবং চালক হাবিবুর (৪৫) এ ছাড়া সুপারভাইজার সফর আলীকে (৫৫) সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
১২ ফেব্রুয়ারি বেলা ১১টা ২০ মিনিটে টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে থাকা প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আবুল মনসুর মিয়ার আদালতে এ রায় ঘোষণা করা হয়। এর আগে ৫ ফেব্রুয়ারি এ মামলার রায়ের দিন ধার্য করা হয়।
টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিশেষ পিপি নাছিমুল আখতার জানান, ৫ জানুয়ারি টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত বিচারক এবং অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আবুল মনসুর মিয়া আসামিদের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষের যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন শেষে এ মামলার রায়ের দিন ধার্য করেন।
২৫ অক্টোবর আদালতের বিচারক আব্দুল মান্নান এ অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। ঢাকার আইডিয়াল ‘ল’ কলেজের শিক্ষার্থী রূপা খাতুনকে চলন্ত বাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যা করা হয়। এ মামলায় পাঁচ পরিবহন শ্রমিককে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছিল। টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত এ অভিযোগপত্র গ্রহণ করে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মধুপুরের অরণখোলা ফাঁড়ির পরিদর্শক কাইয়ুম খান সিদ্দিকী টাঙ্গাইল বিচারিক হাকিম আদালতে এ অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
টাঙ্গাইলের আদালত পরিদর্শক আনোয়ারুল ইসলাম জানান, অভিযোগপত্রে পাঁচ জনের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ এবং দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় হত্যার অভিযোগ, ২০১ ধারায় লাশ গুমের অভিযোগ এবং ৩৪ ধারায় সহায়তার অভিযোগ আনা হয় চার্জশীটে ৩২ জনকে সাক্ষী করা হয়। এদের মধ্যে পুলিশ, চিকিৎসকসহ পাঁচ থেকে ছয়জন সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৫ আগস্ট রাতে বগুড়া থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে রূপাকে চলন্ত বাসে গণধর্ষণ করে পরিবহন শ্রমিকরা। বাসেই তাকে ঘাড় ভেঙে হত্যার পর মধুপুর উপজেলার পঁচিশ মাইল এলাকায় বনের মধ্যে মরদেহ ফেলে রাখা হয়।
এলাকাবাসীর কাছ থেকে খবর পেয়ে ওই রাতেই পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে। পরদিন বেওয়ারিশ হিসেবে ময়না তদন্ত শেষে রূপার মরদেহ টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় গোরস্থানে দাফন করা হয়।
এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মধুপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে। পরে ময়মনসিংহ-বগুড়া সড়কের ছোঁয়া পরিবহনের হেলপার শামীম, আকরাম ও জাহাঙ্গীর এবং চালক হাবিবুর ও সুপারভাইজার সফর আলীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সূত্র:ইতি আফরোজ-priyo.com;ডেস্ক।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.