সরকারি নিয়োগে বিদ্যমান কোটা পদ্ধতির সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের মধ্যে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে তার একটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম। সোমবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে তিনি এই ব্যাখ্যা দেন।
সংসদে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাননীয় স্পিকার, আমাদের গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারে সংবিধানে ২৯ (৩) এর ‘ক’ তে বলা আছে, এই অনুচ্ছেদের কোন কিছু নাগরিকদের অনগ্রসর অংশ যাহাতে প্রজাতন্ত্রের কর্ম উপযুক্ত প্রতিনিধিত্ব লাভ করিতে পারেন, সেই উদ্দেশ্যে তাদের অনুকূলে বিশেষ বিধান প্রণয়ন করা যাইবে।
সংবিধানে এই বিধানের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশে যে কোটার সিস্টেম করা হয়েছে। সেই খানে মেধার ভিত্তিতে ৪৫, নারী কোটা ১০, জেলা কোটা ১০, মুক্তিযোদ্ধা কোটা ৩০, প্রতিবন্ধী কোটা ১, ও ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী ৫ শতাংশ।
ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে যে বিভ্রান্তিটা ছড়িয়েছে, সেটিই হচ্ছে জেলা কোটার ভিতরে যে কোটা বলা হয়েছে, ঢাকা বসবাসরত যত বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের আপনি ছাত্র-ছাত্রী হোন না কেন, ফরম পূরণ করার সময় নিচে যে জেলাটি লিখবেন সেটিই তার জেলা কোটা।
এছাড়াও জেলা কোটা যদি বাদ দেওয়া হয়, তাহলে প্রাকান্তরে নিজের অধিকারকে নিজেই খর্ব করছেন।
শিক্ষার্থী কাছে আরেকটি তথ্য পৌঁছানো উচিত সেটা হল, ৪ এপ্রিল ২০১৮ সালে জনপ্রশাসনের ১৭০১১০৩৫১৭৯৬ স্মারকের ‘খ’ নম্বর অনুচ্ছেদে সরকার পূর্বে নির্দেশনা জারি করেছে, সকল সরকারি নিয়োগের ক্ষেত্রে সরাসরি নিয়োগে কোন পদযুক্ত প্রার্থীর অভাবে পূরণ করা সম্ভব না হলেই,সেই সকল পদ মেধাতালিকায় শীর্ষে অবস্থানকারী প্রার্থীদের মধ্য থেকে পূরণ করিতে হইবে।
এছাড়াও বলা হয়েছে, মুক্তিযোদ্ধা, নারী ও ক্ষুদ্র ও নৃগোষ্ঠীর জন্য প্রণীত জাতীয় মেধা তালিকা থেকে পূরণ করিতেই হইবে।
এমনকি ‘খ’তে বলা হয়েছে, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির পদ সমূহে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে কোন বিশেষ কোটা মুক্তিযোদ্ধা, মহিলা, এতিম, ও ক্ষুদ্র ও নৃগোষ্ঠীর এবং শারীরিক প্রতিবন্ধী ও আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা সদস্য কোন পদ যোগ্য প্রার্থীর অভাবে পূরণ করা সম্ভব না হলেই, অপূর্ণ পদ সমূহ জেলার প্রাপ্যতা অনুযায়ী স্বস্ব জেলার সাধারণ প্রার্থীদের মধ্য থেকে মেধা তালিকায় শীর্ষে অবস্থানকারী প্রার্থী থেকে পূরণ করতেই হইবে।
তারানা হালিম একটি পরিসংখ্যানে তথ্য অনুযায়ী, মেধার ভিত্তিতে ৩৩তম বিসিএসএসে ৪৫ থেকে অনেক বেশি ৭৭.৪০ শতাংশ, ৩৫ তম বিসিএসএসে ৬৩.৬৯ শতাংশ, ৩৬তম বিসিএসএসে ৭০.৩৮ শতাংশ লোক চাকরি লাভ করেছে। আর সেটা কোটার চেয়েও অনেক বেশি ।
শিক্ষার্থী তাদের অধিকারের জন্য আন্দোলন করবে, সেটা সাংবিধানিক অধিকার ও যৌক্তিক কণ্ঠস্বর।
তবে, রাতের আঁধারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসায় হামলার কঠোর সমালোচনা করেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এটা শিক্ষার্থীদের জন্য একটা কলঙ্কজনক ইতিহাস। উপাচার্যের মতো একজনের শিক্ষকের বাসভবনে নারকীয় হামলা, সেই সঙ্গে জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে ভাঙচুর, এটিকে কোনভাবেই দাবি আদায়ের পথ বলতে পারি না।
পূর্বে আমরা ছাত্র আন্দোলন অনেক দেখেছি, এই রকম ছাত্র আন্দোলন পূর্বে কখনোই দেখে নাই। সেই কারণে আমরা আন্তরিকভাবে দু:খিত ও লজ্জিত। কেননা একটা বয়সে আমরাও ছাত্র ছিলাম।
এছাড়াও সংসদে তারানা হালিম বলেন, স্বাধীনতা বিরোধী চক্ররা তাদের ফেসবুকে পেজে প্রায় ১৩ লাখ ফলোয়ার সৃষ্টি করেছে। তাদের এডমিনে কোন অ্যাকসেস নেই। যদি মত প্রকাশের স্বাধীনতা বাংলাদেশের সবার থাকে। তাহলে দলের থাকা উচিত। আওয়ামী লীগের থাকা উচিত। আমরা সমান অধিকার চাচ্ছি। ওই ফেসবুকে কোন কমেন্টও করা যায় না।
কোটা সংস্কারের আন্দোলনের সময় একজন তার ফেসবুক থেকে একটি অসত্য পোস্ট করেন, পুলিশের গুলিতে আহত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মার গেছে, ওই পোস্টটি ৩৫ মিনিট ছিল। সেটি সমানে শেয়ার হতে থাকলো। কিন্তু ওই তথ্যটি ভুয়া।
পরে ওই ছাত্রটি নিজের নিজের ফেসবুক থেকে পোস্ট করেন আমি বেঁচে আছি।
সূত্র:somoynews.tv;ডেস্ক।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.