এমপি’র ডিও জাল করে মন্ত্রণালয়ে চাকরী দেয়ার প্রলোভনে ফেলে টাকা আত্মসাৎ
মুকুল কান্তি দাশ; চকরিয়া :
সংরক্ষিত মহিলা আসন ৫০ এর সংসদ সদস্য জাল বরা ডিও লেটার দেখিয়ে মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দপ্তরে চাকরী দেয়ার প্রলোভনে ফেলে টাকা আত্মসাতের অভিযোগে কক্সবাজারের চকরিয়া থানায় মামলা দায়েরের পর প্রতারক চক্র নিয়ে তোলপাড় চলছে। গ্রেপ্তার হওয়া এই প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে বৃহস্পতিবার পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সুকান্ত চৌধুরী।
অপরদিকে, ওই সিন্ডিকেটের মূল হোতা আলমগীর রানাকে ধরতে হন্য হয়ে খোঁজছে পুলিশ। পুলিশের ধারণা দুইজনের সাথে প্রতারণা করে ১২ লাখ ৫৯ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে মামলা হলেও এই সিন্ডিকেট আরো অসংখ্য ব্যক্তিকে প্রতারণার ফাঁদে পেলে ফতুর করতে পারে।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, প্রতারাণার খপ্পরে পড়া কুমিল্লার মো. ফারুক হোসেন বাদী হয়ে চকরিয়া থানায় মামলা করলে প্রতারক চক্রের মুখোশ উন্মেচিত হয়। একই এজাহারে সিলেটের এমআই মওদুদও একই চক্রের ফাঁদে পড়ে খুইয়েছেন ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা।
গ্রেপ্তার প্রতারক চক্রের দুই সদস্য হলেন- চকরিয়া সাহারিবলি ইউনিয়নের মাইজঘোনা গ্রামের নুরুচ্ছফার ছেলে মো. রাসেল (২৫) ও কৈয়ারবিল ইউনিয়নের খোঁজাখালী গ্রামের মৃত মাস্টার শেখাব উদ্দিনের ছেলে মো. সাজ্জাদুর রহমান (২৮)।
তাদের লিডার মামলার প্রধান আসামী বিএমচর ইউনিয়নের কৃষ্ণাপুর গ্রামের নুর আহমদের ছেলে আলমগীর রানা (২৫) পলাতক রয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা গেছে, চকরিয়ার প্রতারক চক্রটি কুমিল্লা ও সিলেটের দুই ব্যক্তিকে মন্ত্রণালয়ে ও কুমিল্লার ডিসি অফিসে চাকুরী দেয়ার প্রলোভনে ফেলে সচিবালয় প্রাঙ্গণে। প্রতারকরা নিজেদের সংরক্ষিত আসনের এমপি খোরশেদ আরা হকের ব্যক্তিগত সহকারী (এপিএস) ও আপন ভাগ্নে বলে পরিচয় দিয়ে চাকরী প্রার্থীদের আকৃষ্ট করে ও টাকা হাতিয়ে নেয়। এ অবস্থায় ওই তিনজনকে চাকরী পাইয়ে দেয়ার জন্য নগদ ৮লাখ টাকা দাবী করেন। তবে দরকষাকষির পর সাড়ে ৫লাখ টাকায় মৌখিকভাবে চুক্তিবদ্ধ হন। সে অনুযায়ী নগদ, ব্যাংক ও বিকাশের মাধ্যমে টাকা দেয়া হয়। টাকা দেয়ার পরও চাকরী না দেয়ায় তাদের সাথে যোগাযোগ করলে টাকা লেনদেনের কথা অস্বীকার করে উল্টো হুমকি দেয়।
এছাড়াও কুমিল্লার ডিসি অফিসের অফিস সহকারী পদে রিপন আহমদকে চাকরী পাইয়ে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সিলেট মৌলভীবাজার কুলাউড়া হাশিমপুর এলাকার হাজী ফয়সাল আহমদের ছেলে এমআই মওদুদের কাছ থেকে ৭লাখ ২০হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে এজাহারে দাবী করা হয়।
প্রতারণার খপ্পরে পড়া ব্যক্তিরা গত ১২ মে চকরিয়ার একটি রেস্তোরাঁয় এসে নিজেদের দেয়া টাকা ফেরৎ চাইলে সম্পূর্ণ ঘটনা অস্বীকার করে। ফলে প্রতারকচক্রের তিনজনকে আসামী করে ১৫মে চকরিয়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
ওসি বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী আরো বলেন, প্রতারক চক্রের মুল হোতা আলমগীর রানাকে গ্রেপ্তার করতে পারলে ওই চক্রের সদস্য কয়জন ও দেশের কয়জন চাকরী প্রার্থী তাদের খপ্পরে পড়ে হয়রানি ও আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছে জানা যাবে।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.