রোহিঙ্গাদের নিয়ে সংকট ক্রমেই বাড়ছে। তাদের ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে মিয়ানমার সরকার কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এ অবস্থায় তাদের জন্য জরুরি আরও অর্থ সহায়তার প্রয়োজন। এক্ষেত্রে দাতা সংস্থাগুলোকে মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিয়ে অর্থ ছাড় করতে হবে।
রোহিঙ্গা ক্যাম্প সফর শেষে রবিবার (৮ জুলাই) রাজধানীর স্থানীয় একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘের বিশেষ দূত প্রফেসর ইয়াংহি লি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, মিয়ানমার সরকার এখনও অত্যাচার-নির্যাতন অব্যাহত রেখেছে। বিষয়টি নিয়ে মিয়ানমার যেতে চেয়েছিলাম কিন্তু দেশটির সরকার অনুমতি দেয়নি।
তিনি বলেন, ‘বর্তমানে রোহিঙ্গাদের জন্য তিনটি বিষয় জরুরি। এগুলো হল- প্রাথমিক শিক্ষা, জীবিকা নির্বাহের জন্য কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে দেশে ফেরত পাঠানো।’
তিনি আরও বলেন, ‘গত ১ সপ্তাহব্যাপী বাংলাদেশে সফরে আছেন। এ সময়ে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনসহ বাংলাদেশের সরকারের বিভিন্ন প্রতিনিধি, দাতা সংস্থা এবং এনজিওদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। রোহিঙ্গাদের শরণার্থীর স্বীকৃতি দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছি।
ইয়াংহি লি বলেন, রোহিঙ্গাদের নিয়ে গঠিত জেআরপি থেকে মাত্র ২৬ শতাংশ তহবিল এসেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মনে রাখা উচিত, কক্সবাজারের স্থানীয়রা তাদের সীমিত সম্পদ রোহিঙ্গাদের সঙ্গে শেয়ার করছেন। তাই দাতাদের দ্রুত অর্থ ছাড় দেয়া উচিত।
তিনি বলেন, মিয়ানমার সরকার শুরু থেকে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব অস্বীকার করে আসছে। এখনও সেটি অব্যাহত রেখেছে। এক্ষেত্রে তারা মানবাধিকার সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সব ধরনের আইন লঙ্ঘন করে আসছে।
জাতিসংঘের সঙ্গে চুক্তির পরও রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমার সরকার কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। সম্প্রতি মিয়ানমার থেকে এসেছে এমন কয়েকজন রোহিঙ্গার সঙ্গে কথা বলেছি।
তারা জানিয়েছেন, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা তাদের গ্রামে ঢুকে তাদের ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কার্ড গ্রহণ করতে বলে, অন্যথায় দেশ থেকে চলে যেতে হবে বলে জানায়। ইয়াংহি লি জানান একজন রোহিঙ্গা নারী তদের বলেছেন, ‘তার ১২ বছরের ছেলেকে মিয়ানমার বাহিনীর সদস্যরা কেটে টুকরো টুকরো করেছে।’
সূত্র:bangla.thereport24.com;ডেস্ক।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.