
মুকুল কান্তি দাশ; চকরিয়া :
কিশোরগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ থেকে পিতা-মাতার সাথে কক্সবাজারের পেকুয়ায় ইটভাটায় কাজ করতে এসেছেন মো.ইরফান, ইকরামুল, মোবারক ও মারুফা বেগমসহ ১২ শিশু। এদের ৬-১১ বছর বয়সী এসব শিশু। শ্রমিক পিতা-মাতার সাথে পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়া ইউনিয়নের এবিএম নামের একটি ইটভাটায় শ্রমিকের সহযোগী হিসেবে কাজ করতো এরা। এসব শিশুর ভবিষ্যৎ ছিল অনিশ্চিত। অল্প বয়সে কঠোর পরিশ্রম ও কর্মস্থলের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে স্বাস্থ্য ঝুঁকিও ছিল।
ঘটনাটি স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করলে ঠনক নড়ে তাদের। স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় ও ইটভাটা মালিক আহমদ নবীর প্রচেষ্টায় সেই ১২ শিশুকে ভর্তি করা হয়েছে বিদ্যালয়ে। প্রত্যেক শিশুকে দেয়া হয়েছে নতুন পোশাক ও বইখাতাসহ শিক্ষা উপকরণ।
পেকুয়ার টইটং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরেজমিন দেখা যায়, শ্রেণী কক্ষের সেসব শিশুদের উপস্থিতি প্রাণোচ্ছল। নতুন স্কুল, নতুন বই-খাতা সাথে বন্ধু পেয়ে বেশ উৎফুল্ল তারা। স্থানীয় শিক্ষার্থীদের সাথে মিলেমিশে ক্লাসে মনোযোগী হয়ে লেখাপড়া করছে।
শিশু ইরফান ও ইকরামুলের পিতা ইউনুছ মিয়া বলেন, সুযোগ সুবিধা ও নানা প্রতিকূলতার কারণে না বুঝে আমি ছোট শিশুদের শ্রমিকের কাজে দিয়েছিলাম। এখন ইটভাটা মালিক ও স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় শিশুদের বিদ্যালয়ে পাঠিয়েছি। ইনশাল্লাহ তাদের শিক্ষা কার্যক্রম আর বন্ধ হতে দিবো না।
এ ব্যাপারে এবিএম ইটভাটার মালিক আহমদ নবী বলেন, ১২জন শিশুকে বিদ্যালয়ে পাঠাতে পেরে আমার খুব খুশি লাগছে। মূলত তাদের পিতামাতার অবহেলার কারণে সময়মতো তাদের বিদ্যালয়ে পাঠানো সম্ভব হয়নি। এর আগে ২০১৬ সালেও আমার ইটভাটায় কর্মরত শ্রমিকদের ২৫ শিশু সন্তানকে আমি নিজ খরচে বই পোশাক দিয়ে বিদ্যালয়ে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছিলাম।
পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব-উল করিম বলেন, ইটভাটা শ্রমিকের শিশুদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা আসলেই প্রশংসনীয় উদ্যোগ। আমার পক্ষ থেকে এসব শিশুদের প্রতি সুদৃষ্টি থাকবে। তাদের জন্য যা যা করা দরকার প্রশাসনের পক্ষ থেকে করা হবে।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.