
ফাইল ফটো
গিয়াস উদ্দিন ভুলু; টেকনাফ :
কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফের মাদক পাচারকারীদের নির্মুল করতে অত্র এলাকায় দায়িত্বরত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের চলমান মাদক বিরোধী অভিযান এখনো অব্যাহত। সেই সূত্র ধরে ৩১মে গভীর রাতে পুলিশ ও বিজিবির পৃথক বন্দুকযুদ্ধে ২ মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। উক্ত ঘটনায় পুলিশ, বিজিবির ৫ সদস্য আহত হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ২ লক্ষ, ১০ হাজার ইয়াবা ও ৯টি অস্ত্র ৩৩ রাউন্ড গুলি।
তথ্য সূত্রে জানা যায়, টেকনাফ থানা পুলিশের সঙ্গে কথিত এক বন্দুকযুদ্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার তালিকাভুক্ত দেশের শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী, বহুল আলোচিত ইয়াবা ডন সাইফুল করিম নিহত হয়েছে।
শুক্রবার রাত দেড়টার দিকে টেকনাফ স্থল বন্দর নাফনদী সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনাটি সংঘটিত হয়।
এব্যাপারে টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ প্রদীপ কুমার দাশ জানান, টেকনাফ সদরের শীলবনিয়া পাড়া এলাকার ডা.হানিফের ছেলে দেশের ১নাম্বার এবং বহুল আলোচিত ইয়াবা ব্যাবসায়ী সাইফুল করিমকে টেকনাফ সদর ইউনিয়ন মেরিন ড্রাইভ লম্বরীপাড়া এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। এরপর তারা স্বীকারোক্তি অনুযায়ী টেকনাফ স্থলবন্দর নাফনদী সংলগ্ন এলাকায় লুকিয়ে রাখা অবৈধ অস্ত্র, ইয়াবা গুলো উদ্ধার করার জন্য অভিযানে গেলে উক্ত এলাকায় উৎ পেতে থাকা সাইফুলের বাহিনীর সদস্যরা পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ী গুলি ছুড়ে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও সদস্যরা প্রায় ৫২ রাউন্ড পাল্টা গুলি ছুঁড়ে। উভয় পক্ষের গোলাগুলিতে আটককৃত আসামী সাইফুল করিম গুলিবিদ্ধ হয়। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে টেকনাফ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে রেফার করে। সদর হাসপাতালে নিয়ে আসার পর তাকে দায়িত্বরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করে। এদিকে ঘটনাস্থল তল্লাশি চালিয়ে ৯টি এলজি বন্দুক, ৩৩ রাউন্ড গুলি ও ১ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
ওসি জানান, নিহত সাইফুলের বিরুদ্ধে ৮টিরও বেশি মাদক এবং অস্ত্র মামলা রয়েছে।
এদিকে দেশের মাদক তালিকার ১নং অপরাধী নিহতের খবর এলাকাবাসীসহ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে সেখানে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইকবাল হোসেন এবং টেকনাফ মডেল থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ।
অপরদিকে ৩১ মে শুক্রবার ভোর রাতে মিয়ানমার থেকে একটি বড় ইয়াবা চালান পাচার হয়ে টেকনাফ উপকুলে প্রবেশ করছে। সেই গোপন সংবাদের তথ্য অনুযায়ী টেকনাফ ২ বিজিবি সদস্যরা টেকনাফ পৌরসভা ৯নং ওয়ার্ড নাফনদী সংলগ্ন গফুর প্রজেক্ট এলাকায় অভিযানে যায়, এরপর ইয়াবা পাচারকারীরা বিজিবি সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে দেশীয় তৈরী ধারালো অস্ত্র দিয়ে বিজিবি উপর হামলা চালায়। এতে বিজিবির ২ জন সৈনিক আহত হয়। আত্মরক্ষার্থে বিজিবি সদস্য বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি ছুঁড়ে। এক পর্যায়ে মাদক পাচারে জড়িতরা পিছু হটলে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থল তল্লাশী করে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় এক যুবকের মৃতদেহ ও ১লক্ষ, ১০ হাজার উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। নিহত যুবক টেকনাফ পৌরসভা ৮নং ওয়ার্ড দক্ষিণ জালিয়াপাড়া এলাকার মোঃ সিদ্দিকের পুত্র মোঃ ইউনুছ (২৩), সে এক কন্যা সন্তানের জনক।
এই অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে ২ বিজিবি অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল ফয়সাল হাসান খাঁন জানান যে সমস্ত অপরাধীরা এখনো মাদক কারবারে জড়িত তাদের নির্মুল করার জন্য সীমান্ত প্রহরী বিজিবি সদস্যদের চলমান মাদক বিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে। এই অভিযান থেকে কেউ রেহাই পাবেনা।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.