
নিজস্ব প্রতিনিধি; টেকনাফ :
টেকনাফে রোহিঙ্গা উগ্রপন্থী সংগঠনের স্বশস্ত্র সন্ত্রাসীদের হাতে শিক্ষানুরাগী, যুবলীগ নেতা, ঠিকাদার ও উন্নয়নকর্মী ওমর ফারুককে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে। এঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সকাল হতে প্রধান সড়ক অবরোধ করে ভাংচুর চালালে প্রশাসন উপস্থিত হয়ে সুবিচারের আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।
এদিকে পোস্টমর্টেম শেষে নিহত ফারুককে সন্ধ্যায় দাফনের প্রস্তুতি চলছে।
এদিকে ২৩ আগষ্ট সকাল হতে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী উপজেলার হ্নীলা দক্ষিণ জাদিমোরা ও মোচনী এলাকায় শত শত মানুষ প্রধান সড়ক অবরোধ করে রোহিঙ্গাদের ব্যবসায়িক স্থাপনা ভাংচুরের পর যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়। এই খবর পেয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ আবুল মনসুর, ওসি প্রদীপ কুমার দাশ এবং ক্যাম্পে নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। প্রশাসনের লোকজন স্থানীয়দের সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার এবং হত্যাকান্ডের সুবিচারের আশ্বাস দিয়ে জনতা অবরোধ তুলে নেয়।
নিহত ওমর ফারুক রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকালে নিজ বাড়িতে রান্না করে রোহিঙ্গাদের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার পাশাপাশি নিজ পৈত্রিক জমিতে প্রায় ৫ হাজার রোহিঙ্গা পরিবারকে আশ্রয় দিয়েছে। আর সেই রোহিঙ্গারাই তাকে নির্মমভাবে গুলি করে নৃশংশভাবে খুনের ঘটনা রোহিঙ্গা জাতির অকৃতজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ বলে সচেতনমহল মনে করেন।
এই ব্যাপারে টেকনাফ মডেল থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, এই ঘটনায় নিহতের পরিবার যাদের বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করবে পুলিশ সে অনুসারে কঠোর আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ আবুল মনসুর জানান, গতরাতে সংঘটিত নৃশংস হত্যাকান্ডের জের ধরে সকাল হতে বিক্ষুব্ধ জনসাধারণ প্রধান সড়ক অবরোধ ও ভাংচুর চালানোর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে এই ঘটনার সুবিচারের আশ্বাস দিলে অবরোধকারীরা চলে যায়।
এদিকে ২৩ আগস্ট বিকালে ওমর ফারুকের মৃতদেহটি ময়না তদন্ত রিপোর্ট তৈরী করার পর বাড়িতে আনা হয়। বাদে মাগরিব স্থানীয় প্রাইমারী স্কুল মাঠে নামাজে জানাজা শেষে দাফন করা হয়েছে।
গত ২২ আগস্ট বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে হ্নীলা ইউনিয়নের জাদিমোরা বাজার এলাকায় ঠিকাদারী কাজের ইট অপসারণের সময় রোহিঙ্গা উগ্রপন্থী সংগঠনের স্বশস্ত্র সন্ত্রাসী এবং মাদক চোরাচালান নিয়ন্ত্রণকারী গডফাদার ডাকাত সেলিম, জকির, সালমান শাহসহ ১০/১২জনের একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ মাদকাসক্ত অবস্থায় স্থানীয় জমিদার আব্দুল মোনাফ ওরফে মোনাফ কোম্পানীর ছোট ছেলে মোঃ ওমর ফারুক (৩০) কে ধরে নিয়ে গিয়ে প্রথমে ছুরিকাঘাত তারপর গুলি করে হত্যা করে। নিহত যুবক হ্নীলা জাদিমোরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ও হ্নীলা ইউনিয়ন ৯নং ওয়ার্ড শাখা যুবলীগের সভাপতি। তার মৃত্যু নিশ্চিত করার পর অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা বীরদর্পে পাহাড়ের দিকে চলে যায়। পরে স্বজনেরা পুলিশকে খবর দেয়। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়না তদন্ত রিপোর্ট তৈরী করার জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.