সাম্প্রতিক....
Home / প্রচ্ছদ / অপরাধ ও আইন / কোর্ট ম্যারেজ ও আইনী বিষয়

কোর্ট ম্যারেজ ও আইনী বিষয়

http://coxview.com/wp-content/uploads/2022/04/Biye.jpg

কোর্ট ম্যারেজ ও আইনী বিষয়

অনলাইন ডেস্ক :
কোর্ট ম্যারেজের কথা অহরহ শুনে থাকবেন। এটি লোকমুখে বহুল প্রচলিত একটি শব্দমাত্র।তবে আদালতের এ বিয়ে সম্পর্কে আমাদের অনেক তথ্যই অজানা।

কোর্ট ম্যারেজ বা আদালতের মাধ্যমে বিয়েকে অনেকে পূর্ণাঙ্গ বিয়ে মনে করেন। অনেক আইনজীবীও কোর্ট ম্যারেজের বিষয়টি ব্যাখ্যা না দিয়ে বিয়ের একটি হলফনামা সম্পন্ন করে দেন। মনে রাখবেন এটি একজন নর-নারীর একসঙ্গে থাকার জন্য বিয়ের ঘোষণা দেয়া মাত্র- এটি পূর্ণাঙ্গ বিয়ে নয়।

আইনে কোর্ট ম্যারেজ বলতে কোনো বিধান নেই। আইনের পাশাপাশি ধর্মীয় বিধানেও উল্লেখ নেই এ ধরনের বিয়ের কথা। মুসলিম পারিবারিক আইন, হিন্দু আইন, বৌদ্ধ বা খ্রিস্টান আইন অনুসারেও এ বিয়ে সম্পূর্ণ অবৈধ। প্রচলিত অর্থে কোর্ট ম্যারেজ বলতে সাধারণত হলফনামার মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিয়ের ঘোষণা দেয়াকে বোঝায়।

এ হলফনামাটি ২০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে লিখে নোটারি পাবলিক কিংবা প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে সম্পন্ন করা হয়ে থাকে। তবে বৈধ বিয়ের শর্তে হলফনামা কখনো বাধ্যতামূলক শর্ত নয়। এটি বিয়ের ঘোষণামাত্র।

পারিবারিক আইন অনুযায়ী- প্রথমে বিয়ে সম্পন্ন করতে হবে, এরপর স্বামী-স্ত্রী চাইলে এ হলফনামা করে রাখতে পারেন। পারিবারিক আইন অনুযায়ী বিয়ে না করে শুধু এ হলফনামা সম্পন্ন করা উচিত নয়। কেননা স্বামী-স্ত্রীর দাম্পত্য জীবনে কখনো কলহ সৃষ্টি হলে দুজনের কেউই আইনি সহায়তা পাওয়ার অধিকার রাখবে না।

মুসলিম বিয়ে ও তালাক আইনি ভাবে স্বীকৃতি পেতে “The Muslim Marriage and Divorce Registration Act, 1974” কাজী অফিসে বিয়ে রেজিস্ট্রি করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। মুসলিম আইনে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে বিয়ে সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এছাড়া উভয়কে অবশ্যই প্রাপ্তবয়স্ক হতে হবে।

মুসলিম বিয়ে ও তালাক (নিবন্ধন) আইন অনুযায়ী, প্রতিটি বিয়ে অবশ্যই নিবন্ধন করতে হবে। কোর্ট ম্যারেজের পর হলফনামার সঙ্গে সব তথ্য, বিয়ের পক্ষদের নামের তালিকা; বিয়ের তারিখ; দেনমোহর ইত্যাদি বিষয়াদি সরকারি নথিতে লিখে রাখাই হলো নিবন্ধন। আইনমতে বিয়ের ৩০ দিনের মধ্যেই নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। কেউ যদি বিয়ে ভেবে নিবন্ধন ছাড়া কেবল হলফনামা করে থাকেন তবে বিচলিত হওয়ার কিছু নেই। সেক্ষেত্রে কাজীর সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করে হলফনামার সঙ্গে সব তথ্য ও তারিখ মিল রেখে বিয়ে নিবন্ধন করে নিতে পারেন। অন্যথায় ৩ হাজার টাকা জরিমানা অথবা ২ বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড কিংবা উভয় শাস্তিই হতে পারে।

Share

Leave a Reply

x

Check Also

কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে মহান বিজয় দিবস উদযাপিত

—V প্রেস বিজ্ঞপ্তি :কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদায় বিজয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। দিবসের ...

Portrait of a professional, showcasing contact details and role information.