
অনলাইন ডেস্ক :
এই পানীয়টির নাম শোনেননি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া বোধ হয় একটু কঠিন। ব্যাপারটা এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, উত্সব মানেই চাই কোকাকোলা। এটি এক প্রকার কার্বোনেটেড কোমল পানীয়। শত বছর পুরোনো এই পানীয়টি বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় কোমল পানীয় এর মধ্যে একটি। কোকা-কোলার আদি রেসিপি তৈরি হয়েছিলো যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের কলম্বাসে অবস্থিত ইগল ড্রাগ এন্ড ক্যামিক্যাল কোম্পানিতে। এটি তৈরি করেছিলেন জন পেম্বারটন নামক একজন ড্রাগিস্ট। এর প্রকৃত নাম ছিলো কোকা ওয়াইন, যাকে বলা হতো ফ্রেঞ্চ ওয়াইন কোকা।
এই প্রিয় পানীয়টি সম্পর্কে কতটা জানেন আপনি? চলুন, জেনে নেয়া যাক সকলের প্রিয় এই পানীয় সম্পর্কে এমন কিছু তথ্য যা আপনি জানেন না। যেমন, আপনি কি জানেন, কোকাকোলা শুরুতে কেবল ওষুধের দোকানেই বিক্রি হতো? লেখাটি পরিবেশন করা হলো ডয়েচ ভেলের সৌজন্যে। ১৯৮২ সালে আব্দুল মোনেম বেভারেজের হাত ধরে এদেশে প্রবেশ করে কোকা কোলা কোম্পানী। কোকা-কোলার ফর্মুলার গোপনীয়তা কোকা-কোলার উপাদানের বিখ্যাত গোপন সূত্রটি সুরক্ষিত। ফর্মুলাটি সর্বকালের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠভাবে সুরক্ষিত গোপনীয়তাগুলোর মধ্যে একটি। প্রতিযোগীরা কোকা-কোলার ফর্মুলা যেন অনুলিপি না করতে পারে তাই বছরের পর বছর ধরে সূত্রটি গোপন রাখা হয়েছে।
কোকাকোলার বেশিরভাগ প্রোডাক্টে কোন প্রকার আমিষ ব্যবহার করা হয় না। কোন ক্ষেত্রে আমিষ ব্যবহার করা হলে সেটিতে পশুর অংশ ব্যবহার করা হয় না। কোকাকোলা তে আমি হিসেবে মাঝে মাঝে দুধ অথবা মাছের অংশে ব্যবহার করা হয় যা রেসিপিতে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে। তাই কোকাকোলা তে শূকরের মাংস ব্যবহার করা হয় এই কথার কোন ভিত্তি নেই।
নামকরণ
কোকাকোলা তৈরিতে ব্যবহৃত হয় কোকা গাছের পাতা আর কোলা গাছের ফল। সেখান থেকেই নাম হয়েছে কোকাকোলা। কোকা গাছ সাধারণত দক্ষিণ অ্যামেরিকায় জন্মায়। আর কোলা গাছের বাসস্থান পশ্চিম আফ্রিকায়। এটি কোকা পাতার কোকেন এবং কোলা বাদামের ক্যাফেইন-সমৃদ্ধ নির্যাসের উপর ভিত্তি করে তৈরি। পরবর্তীতে ১৯০৩ সালের দিকে কোকা কোলার উৎপাদন সামগ্রী হতে কোকেইন সম্পূর্ণরুপে অপসারন করা হয় এবং এটিকে নন-এলকোহোলিক পানীয় হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
কোকা-কোলা কোম্পানি (NYSE: KO) একটি মার্কিন বহুজাতিক কোমল পানীয় প্রস্তুতকারক কোম্পানি। কোকা-কোলা ১৮৮৬ সালে আমেরিকার আটলান্টার ফার্মাসিস্ট, জন এস. পেম্বারটন (১৮৩১-৮৮) তার পেম্বারটন কেমিক্যাল কোম্পানিতে তৈরি করেছিল। পেম্বারটনের হিসাবরক্ষক, ফ্র্যাঙ্ক রবিনসন পানীয়টির নাম দিয়েছিলেন “কোকাকোলা” এবং এর প্রস্তুতকরণ পদ্ধতি লিখে রেখেছিলেন যা পরবর্তীতে কোকা-কোলা ট্রেডমার্ক হয়ে ওঠে। পেমবার্টন মূলত তার পানীয়টিকে সাধারণ অসুস্থতার জন্য একটি টনিক হিসাবে উল্লেখ করেছিলেন।
এক দিনে দেড়শ’ কোটি বোতল!
বিশ্বের দু-শ’টিরও বেশি দেশে প্রতিদিন গড়ে প্রায় দেড়শ’ কোটি বোতল কোকাকোলা বিক্রি হয়! কি বিপুরল পরিমাণ কোকাকোলা একবার ভেবে দেখেছেন! পৃথিবীর প্রায় ২০০ টি দেশে কোকাকোলা প্রস্তুত এবং বিক্রি করা হয়ে থাকে। প্রায় সাত লক্ষেরও বেশি মানুষ কোকাকোলা তৈরীর কাজে নিয়োজিত।
শুরুটা ফার্মেসিতে
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটলান্টার চিকিত্সক ড. জন পেমবার্টন ১৮৮৬ সালের ৮ মে প্রথম কোকাকোলার ফর্মুলা তৈরি করেন। শুরুর দিকে শুধুমাত্র ওষুধের দোকানে পানীয়টি বিক্রি হতো!
জনপ্রিয় শব্দ
এক জরিপ বলছে, বিশ্বের প্রায় ৯৪ শতাংশ মানুষ কোকাকোলার নাম জানে। আর ‘ওকে’ শব্দের পর কোকাকোলাই হলো সবচেয়ে জনপ্রিয় শব্দ, যেটা মানুষ উচ্চারণ করে থাকে।
১,৬৭৭ বার চাঁদে যাওয়া-আসা!
কোকাকোলা কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, এখন পর্যন্ত যত কোকাকোলা উত্পাদন করা হয়েছে সেগুলো যদি সাড়ে সাত ইঞ্চি দৈর্ঘ্যের বোতলে (আট আউন্স সমপরিমাণ পানীয়) রাখা হয়, তারপর একটির পর আরেকটি বোতল জোড়া লাগানো হয়, তাহলে যে দৈর্ঘ্যটা হবে, সেটা পৃথিবী থেকে চাঁদে ১,৬৭৭ বার যাওয়া-আসার সমান হবে!
গরম কোক!
কোকাকোলা মানেই ঠান্ডা পানীয়। তবে হংকং-এ ঠান্ডাজনিত রোগ থেকে মুক্তি পেতে পান করা হয় গরম কোকাকোলা!
বছরে জনপ্রতি ১৪০ লিটার
কোন দেশের মানুষ বেশি কোক খায় জানেন? মাল্টা৷ দক্ষিণ ইউরোপের এই দ্বীপ রাষ্ট্রের একেকজন বাসিন্দা বছরে গড়ে ১৪০ লিটার করে কোক পান করেন।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.