
আবার তৎপর হয়েছেন ড: মুহম্মদ ইউনূস। ‘গ্রামীণ ব্যাংক’ ফিরে পেতে আবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রভাবশালী কংগ্রেসম্যান এবং সিনেটরদের লবিং করছেন এই শান্তিতে নোবেল জয়ী। একারণেই ‘গ্রামীণ ব্যাংক’ নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের মুখোমুখি হচ্ছে সরকার।
বিশেষ করে ২০১১ সালের মার্চের পর থেকে এ পর্যন্ত গ্রামীণ ব্যাংকের পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থাপনা পরিচালক না দেয়াটাকে ইস্যু করছেন ড: ইউনূস।
তিনি অভিযোগ করেছেন, গ্রামীণ ব্যাংককে আস্তে আস্তে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালকের নেতৃত্বে গ্রামীণ ব্যাংক আগের চেয়ে ভালো করছে।
কিন্তু মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলার একাধিক মন্ত্রীর সঙ্গে আলাপকালে জানিয়েছেন যে, গ্রামীণ ব্যাংক লক্ষ্যচ্যুত হয়েছে বলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মনে করে। রবার্ট মিলার বাংলাদেশে দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই ড: মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সরকারের সম্পর্কের বরফ গলাতে উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এনিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর আন্তজার্তিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড: গওহর রিজভীর সঙ্গে কয়েকদফা বৈঠকও করেন।
কিন্তু পরে ড: রিজভী এ বিষয়ে ড: ইউনূসকে আরো অপেক্ষা করার পরামর্শ দেন বলে জানা গেছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সমস্যার সমাধানে ড: মুহাম্মদ ইউনূসকেই উদ্যোগী হতে হবে। ড: ইউনূস প্রসঙ্গে সরকারের প্রধান আপত্তি হলো সরকারের ব্যাপারে তার নেতিবাচক মনোভাব এবং দৃষ্টিভঙ্গি।
ড: ইউনূসের সঙ্গে সমঝোতা এবং বিরোধ মিটিয়ে ফেলার কথা সরকারী মহলে আলোচনা হলেই প্রথমেই যে কথাটি সামনে আসে তা হলো, ইউনূস সাহেব কি সরকারের একটি ভালো কাজও দেখেন না? এতো উন্নতি, দারিদ্র হ্রাস, আট এর উপর প্রবৃদ্ধি, স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশের আত্মপ্রকাশ-এসব কোন বিষয়েই তার একটা ‘রা’ নেই।
সমঝোতা চাইলে আগে সরকারের ভালে কাজের স্বীকৃতি দিতে হবে ইউনূসকে। অন্যদিকে ড: ইউনূসের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, আমাকে গ্রামীণ ব্যাংক ফিরিয়ে দেন, আমিই হবো সরকারের সবচেয়ে বড় দূত। কিন্তু সরকার ড: ইউনূসের কথা বিশ্বাস করতে পারছে না।
জানা গেছে, রবার্ট মিলার আসার পরই ড: ইউনূসের সঙ্গে সমঝোতা নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়। কিন্তু আলোচনার মাঝ পথেই ড: ইউনূস আবার মার্কিন কংগ্রেসম্যান এবং সিনেটরদের কাছে তদ্বির করেন। তবে, ড: ইউনূসের ঘনিষ্টরা বলছেন অন্য কথা।
তারা বলছেন, তিনি আর গ্রামীণ ব্যাংকে ফিরতে চান না। তিনি শুধু চান প্রতিষ্ঠানটি যেন গরীব মানুষের জন্য কাজ করে। কিন্তু সরকার প্রতিষ্ঠানটি ক্রমশঃ দুর্বল করে ফেলছে।
ড: ইউনূসের ঘনিষ্টরা বলেন যে, ড: ইউনূস এখন সামাজিক ব্যবসা এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে ব্যস্ত। তাছাড়া ‘গ্রামীণ ব্যাংক’ আন্তজার্তিক ব্রান্ড হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। বিশ্বের অনেক দেশেই এখন গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তিনি শুধু বাংলাদেশে স্বীকৃতি চান। কিন্তু সরকার মনে করছে গ্রামীণ ব্যাংকের সুদে মানুষ আরো সর্বশান্ত হচ্ছে।
বাংলাদেশ সরকার ক্ষুদ্র সঞ্চয়, পল্লী সঞ্চয়ের মতো নানা উদ্যোগ নিয়েছে। এই উদ্যোগের কারণে গ্রামীণ ব্যাংক থেকে গরীব মানুষ মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।
তাছাড়া, ড: ইউনূস বিদেশে গিয়ে দেশের বিরুদ্ধে কথা বলেন। পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন বন্ধে ড: ইউনূসের হাত আছে বলে সরকার বিশ্বাস করে। তাই ড: ইউনূস ইস্যুতে আবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরকারের টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।
সূত্র:deshebideshe.com-ডেস্ক।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.