
নিজস্ব প্রতিনিধি; চকরিয়া:
কক্সবাজারের চকরিয়ায় যুবদল নেতা শহিদুলের নেতৃত্বে একদল দুর্বৃত্ত লাঠি-সোট ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে মন্দির ও বসতঘরে হামলা ও লাঠিপেটা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এসময় মারধর ও লাঠির আঘাতে নারীসহ ১২জন আহত হয়েছে। আহতদের চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
রবিবার (২৮ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের দিগরপানখালীস্থ ধরপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন- ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের দিগরপানখালীস্থ ধরপাড়ার ধন ধরের স্ত্রী শিখা ধর (৪৫) ও ছেলে মিটুন ধর (১৮), সুকুমার ধরের ছেলে কমল ধর (২৮), ছোটন ধরের স্ত্রী প্রিয়া ধর (২২), মৃত মনোরঞ্জন ধরের স্ত্রী শোভেদা বালা ধর (৭২), অজিত ধরের ছেলে রুপনে ধর (২০), ধনরঞ্জন ধরের ছেলে টিটু ধর (২৪), বিকাশ ধরের ছেলে বাঁধন ধর (২৮), সজীব ধরের ছেলে রিপন ধর (১৮), হেমাংশু ধরের ছেলে সুকান্ত ধর (১৯), অজিত ধরের ছেলে আপেস ধর (১৭) ও মৃত হরিপদ ধরের ছেলে রনজিত ধর (৩৫)।
আহত শিখা ধর বলেন, ১৫-২০জন যুবক লাঠি-সোটা নিয়ে হঠাৎ আমাদের বাড়িতে হামলা চালায়। যাকে সামনে পায় তাকেই পিটিয়ে আহত করে। তাদের পিটুনি থেকে রক্ষা পেতে নিকটবর্তী মন্দিরে প্রবেশ করেও রক্ষা পায়নি। মন্দিরের ভেতরে ঢুকে আমি ও আমার ছেলে-মেয়েকে পিটিয়ে আহত করেছে হামলাকারীরা। আমার পরিবারের পাঁচ সদস্য ছাড়াও বাড়ি লাগোয়া আত্মী-পরিবারের আরো সাত সদস্যকে পিটিয়ে আহত করেছে।
শিখা ধর আরো বলেন, হামলার সময় সুদুর মারধর করে ক্ষান্ত হয়নি। তারা আমার ও আমার মেয়ের পরনের স্বর্ণালংকারসহ কয়েকটি ঘর থেকে টাকা ও মালামাল লুট করেছে।
হামলার ব্যাপারে স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে দুধরনের বক্তব্য পাওয়া গেছে, কেউ বলছেন মোবাইল চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে বেপরোয়া হামলা চালানো হয়েছে। আবার কয়েকজন বলেছেন পক্ষকাল পুর্বে একটি ইভটিজিংএর ঘটনার জের ধরে আইনে আশ্রয় না নিয়ে হামলা চালানো হয়েছে।
ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী ঘটনার ব্যাপারে নিন্দা জানিয়ে বলেন, ঘটনাটি শোনার সাথে সাথে ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মুজিব ও গ্রাম পুলিশ সোলেমানকে ঘটনা জানতে ধরপাড়ায় পাঠায়। তারা ঘুরে এসে আমাকে জানায় হিন্দু পরিবারের উপর ভয়াবহ হামলা চালানো হয়েছে। এটি মর্মান্তিক। যুবদল ক্যাডার শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে যারা হামলা করেছে তাদের গ্রেপ্তারপুর্বব দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ঘটনা শোনা মাত্রই ঘটনাস্থলে পুলিশ টিম পাটিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। আহতদের পক্ষ থেকে থানায় একটি এজাহার দেয়া হয়েছে। সেটি মামলা হিসেবে এন্ট্রি করা হবে। ইতোমধ্যেই হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশ টিম অভিযান শুরু করেছে।
এদিকে, হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দির ও বাড়ি-ঘরে হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে হামলাকারীদের ত্বরিৎ গ্রেপ্তারপুর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ কক্সবাজার জেলার সহ-সভাপতি সাবেক কাউন্সিলর লক্ষণ কান্তি দাশ, চকরিয়া উপজেলা শাখার সভাপতি রতন বরণ দাশ, সভাপতি মন্ডলির সদস্য কাজল বড়ুয়া ও সাধারণ সম্পাদক মুকুল কান্তি দাশ, পৌরসভা শাখার সভাপতি নারায়ন কান্তি দাশ, সাধারণ সম্পাদক সুনিপ দাশ।
পৃথক অভিন্ন দাবি জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন বাংলাদেশ পুজা উদযাপন পরিষদ চকরিয়ার সভাপতি তপন কান্তি দাশ ও সাধারণ সম্পাদক বাবলা দেবনাথসহ নেতৃবৃন্দ।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.