
গিয়াস উদ্দিন ভুলু; টেকনাফ :
সীমান্ত উপজেলা টেকনাফ উপকূল জুড়ে সাগর ও নদীতে মাছ শিকার ও ট্রলার চলাচল বন্ধ। কারন এই সময়টি হচ্ছে মা ইলিশের ডিম ছাড়ার মৌসুম। এই মা ইলিশকে রক্ষা করার জন্য সরকার ইলিশের প্রজনন মৌসুম চিহ্নিত করে এই সময়টিকে। ১লা অক্টোবর থেকে আগামী ২২ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন যাবত বঙ্গোপসাগর ও মজার ইলিশ মাছ খ্যাত টেকনাফের নাফ নদীতে মাছ শিকার ও ট্রলার চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে। এর পর থেকে টেকনাফ উপকূলীয় জেলে পরিবার গুলোতে নেমে এসেছে চরম হতাশা ও দুর্ভোগ। বর্তমানে হতদরিদ্র জেলে পরিবারের সদস্যরা অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে। তারা অপেক্ষার প্রহর গুণছে কখন সাগরে মাছ শিকার করতে পারবে।
১৫ অক্টোবর সরেজমিনে সাগর উপকূলীয় এলাকা গুলো ঘুরে দেখা যায়, দীর্ঘদিন সাগর ও নদীতে মাছ শিকার করতে না পেরে অসহায় জেলে পরিবাবের সদস্যরা পড়েছে বিপাকে তাদের পরিবারে নেমে এসেছে অভাব অনটন। টেকনাফ সদর, সাবরাং ইউনিয়ন, পৌরসভার নাফ নদী সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকার জেলে পরিবার গুলোতে এই ধরনের চিত্র বর্তমানে চোখে পড়ার মত।
এদিকে মাছ শিকারে ব্যবহার করা নৌকা ও ট্রলারের মালিকরা তাদের ট্রলার গুলোর গায়ে নতুন রং এবং সাজ সজ্জায় লিপ্ত রয়েছে। কারন আর কয়েকদিন পর তারা আবার সাগরে মাছ ধরা শুরু করবে, আবার অনেক জেলেরা বেড়ীবাঁধ, মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন সাগর ও নদীর কিনারায় বসে জাল বুনে অলস সময় পার করছেন। সাগরে মাছ শিকার বন্ধ থাকায় বেশীর ভাগ জেলে পরিবারে বর্তমানে চলছে আর্থিক অভাব অনটন।
অপরদিকে এই সীমান্ত এলাকায় মাছ শিকার, নৌকা ও ট্রলার চলাচল বন্ধ থাকায় জেলেদের পরিবারে হতাশা নেমে এলেও মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশের ঢল কিছুটা হলেও কমে এসেছে।
অভিমত আর দুঃখ প্রকাশ করে স্থানীয় সুশীল সমাজের ব্যক্তিরা জানান, আগামী ২৩ অক্টোবর জেলেরা নৌকা ও ট্রলার নিয়ে নদী আর সাগরে মাছ ধরা শুরু করবে। সেই সুযোগকে কাজে লাগাবে স্থানীয় অসাধু মানব পাচারকারী দালাল চক্রের সদস্যরা। তারা বেশী লোভের আশায় তাদের অপকর্ম অব্যাহত রাখার চেষ্টা করবে।
সুশীল সমাজের ব্যক্তিরা টেকনাফ উপজেলা প্রশাসনের সদস্যদের প্রতি জোর দাবী জানিয়ে আরো বলেন, যে সমস্ত অপরাধীরা উপকূলীয় এলাকায় আদম বাণিজ্যে এখনো লিপ্ত রয়েছে তাদের চলাচলের প্রতি কড়া নজরদারী রাখলে রোহিঙ্গাদের আগমন অনেকটা প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।
এদিকে আগামী ২৩ অক্টোবর সোমবার দিনটাকে ঘিরে অনেক জেলে পরিবার ও মাছ শিকার করা ট্রলার মালিকদের মাঝে দেখা দিয়েছে আনন্দ ও উদ্দীপনা। কারণ বহুদিন যাবত সাগরে মাছ শিকার বন্ধ ছিল। এখন মাছে ভরপুর নদী আর সাগর, ঝাঁকে ঝাঁকে ধরা পড়বে ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। মুছে যাবে জেলেদের অভাব অনটন, প্রতিদিন বাজারে মাছ বিক্রি করে তারা ফিরে আসবে আগের অবস্থানে। সেই খুশী আর আনন্দে মাতোয়ারা জেলে পরিবার গুলো।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.