
সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা (বামে) ও সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক।। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা গোয়েন্দা সংস্থা ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্সের (ডিজিএফআই) চাপের মুখে নয়, বরং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তের কারণেই দেশ ছেড়েছেন বলে দাবি করেছেন সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক।
বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, ‘আপিল বিভাগের অন্য পাঁচজন বিচারক সিনহার সঙ্গে কাজ করতে অস্বীকৃতি জানালে প্রধান বিচারপতির পদত্যাগ করা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সিনহার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত শুরু করার কারণেই তিনি বিদেশে পাড়ি দিয়েছেন।’
‘প্রধান বিচারপতি অত্যন্ত ক্ষমতাশালী একজন মানুষ, কিন্তু তাকে বের করে দেওয়া তো চাট্টিখানি কথা না। প্রধান বিচারপতি অনেক কিছু করতে পারেন। উনাকে বললেন যে আপনি দেশ ছেড়ে চলে যান আর উনি চলে যাবেন- আমি নিজেও বিচারপতি ছিলাম এটা আমি বিশ্বাস করতে নারাজ। প্রধান বিচারপতি তো দূরের কথা একজন হাইকোর্টের বিচারপতিকেও এভাবে দেশ থেকে বিতাড়ন সম্ভব নয়।’
সুরেন্দ্র কুমার সিনহা তার বইয়ে দেশ থেকে বের করে দেওয়ার যে বর্ণনা দিয়েছেন সেটা অসত্য বলে দাবি করেছেন শামসুদ্দিন চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘প্রথম কথা হলো যখন কতগুলো অভিযোগ তার বিরুদ্ধে এলো তখন আপিল বিভাগের পাঁচ জন বিচারপতি অভিযোগগুলোর নথিপত্র দেখে দৃঢ়ভাবে সিদ্ধান্ত নিলেন যে তারা প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আর বসবেন না। সে অবস্থায় তার পদত্যাগ করা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না। কারণ তিনি কাজ করতে পারতেন না। তা ছাড়া অভিযোগগুলো যখন আসলো তখন দুদক সচল হলো। আমি মনে করি দুদককে এড়ানোর জন্য উনি দেশ ছেড়ে ছিলেন।’
অন্য বিচারপতিদের চাপ দেওয়ার দাবিকে প্রত্যাখ্যান করে শামসুদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘দেখুন এ সব বিচারপতির সঙ্গে দীর্ঘদিন কাজ করেছি। এরা অত্যন্ত দৃঢ় চিত্তের এবং দৃঢ় চরিত্রের, ইস্পাত কঠিন চরিত্রের মানুষ কিন্তু এই পাঁচজনই। তারা কারো প্রভাবে প্রভাবিত হওয়ার লোক নয়। কারো চাপের মুখে নতি স্বীকার করার মানুষও তারা নয়। সুতরাং সিনহা বাবুর এই অভিযোগ একেবারেই অসত্য বলে মনে করছি।’
ঘটনার পরই অন্য বিচারপতিদের সঙ্গে তার কথা হয়েছে উল্লেখ করে শামসুদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘পাঁচজনের সঙ্গেই আমার কথা হয়েছে। তারা পরিষ্কার বলেছেন যে তারা যেসব প্রমাণাদি দেখেছেন এরপর সিনহা বাবুর সঙ্গে বসার প্রশ্নই উঠতে পারে না।’
কিন্তু এত অভিযোগ থাকার পরেও সরকার প্রধান বিচারপতিকে দেশ থেকে বের হতে দিলো কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে শামসুদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘ওই মুহূর্তে সিনহার বিরুদ্ধে কোনো মামলা ছিল না, যদিও তদন্ত চলছিল। সুতরাং সেই মুহূর্তে তাকে বাধা দেওয়ার সুযোগ ছিল না।’
গৃহবন্দী করে রাখার বিষয়ে বইতে যা লিখেছেন সে দাবিও প্রত্যাখ্যান করে শামসুদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘উনি লিখেছেন বা বলেছেন তাকে গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছিল। কিন্তু ওই সময় অনেক সাংবাদিক তার বাড়ির চারপাশে ছিল। তারা কিন্তু কখনোই এমনটি বলেনি। ওই সময় তিনজন মন্ত্রী তাকে দেখতে গিয়েছিলেন। উনি দাঁতের ডাক্তারের কাছে গেছেন। বিভিন্ন দূতাবাসে গেছেন ভিসার জন্য। আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করতে গেছেন। প্রচুর আইনজীবী বিশেষ করে বিএনপি জামায়াতের আইনজীবীরাও দেখা করতে গেছেন। তারাও এমনটি বলেননি যে প্রধান বিচারপতিকে গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছে। উনিও বলেননি। এখন নতুন শোনা যাচ্ছে।’
নির্বাচনের আগে বই প্রকাশ করে সরকার বা ক্ষমতাসীন দলকে বেকায়দায় ফেলার অভিযোগ সরকারি দলের নেতাদের তরফ থেকে ওঠার পর সুরেন্দ্র কুমার সিনহা তার বইটি এই সময়ে প্রকাশের বিষয়ে যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন সেটিও মানতে নারাজ বিচারপতি শামসুদ্দিন। তিনি বলেন, ‘আমি বইটি পড়েছি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস এটি আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে প্রচারণার একটি দলিল। নির্বাচনে যাতে আওয়ামী লীগকে হেস্তনেস্ত করা যায় সেই উদ্দেশ্যেই এই বইটি তিনি লিখেছেন।’
সূত্র:priyo.com;ডেস্ক।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.