গিয়াস উদ্দিন ভুলু; টেকনাফ :
টেকনাফ উপজেলার সীমান্ত এলাকায় স্বর্ণ ও ইয়াবা পাচারকারিরা আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। স্থানীয় প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে চোরাকারবারিরা প্রতিনিয়ত মিয়ানমার থেকে নাফনদীর বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে চোরাই পথে নিয়ে আসছে বিপুল পরিমান স্বর্ণের বার ও লক্ষ লক্ষ মরণ নেশা ইয়াবা। ঈদকে সামনে রেখে বেশি টাকা মুনাফার আসায় হঠাৎ করে স্বর্ণ ও ইয়াবা পাচারের সংখ্য দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। টেকনাফ সীমান্তের ও বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকার ইয়াবা ও স্বর্ণ পাচারকারি মূল হোতারা তাদের নিত্য নতুন কৌশলে এই অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় টেকনাফ ২৩ জুন ২ বিজিবি সদস্যদের পৃথক অভিযান চালিয়ে ৩ লক্ষ মরণ নেশা মালিকবিহীন ইয়াবা উদ্ধার ও বিপুল পরিমান স্বর্ণের বার সহ তিন স্বর্ণ পাচারকারিকে আটক করে।
বিজিবি সুত্রে জানা যায়, ২৩ জুন গভীর রাতে দমমমিয়া বিওপির বিজিবি সদস্যরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি বাসে তল্লাশী চালিয়ে ৬টি স্বর্ণেবারসহ মিয়ানমারের দুই নাগরিককে আটক করে। আটককৃতরা হচ্ছে, মো. আরাফাত (২৬) ও মো. রফিক (২৮)। পরে একই বিওপির সদস্যরা সকাল ৯টার দিকে আরেক একটি বাসে তল্লাশী চালিয়ে ৪টি স্বর্ণ বার সহ মো: ওসমান (৫২) নামে এক পাচারকারিকে আটক করে। সে টেকনাফ পৌরসভার পুরাতন পল্লান পাড়ার মৃত সৈয়দ আলমের ছেলে বলে জানা যায়। আটককৃত তিন স্বর্ণ পাচারকারিকে টেকনাফ থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে তাঁদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
বিজিবি সুত্রে আরো জানা যায়, পৃথক অভিযানে জব্দ করা ১০টি স্বর্ণের বারের ওজন ১৪৩ র্ভরি বলে বলে জানা গেছে। যার বাজার মূল্য ৫৭ লক্ষ ২৭ হাজার ৫০ টাকা। আটক স্বর্ণের বারগুলো টেকনাফ শুল্ক বিভাগে জমা দেওয়া হয়েছে।
অপরদিকে ২৩ জুন দুপুর ২টার দিকে টেকনাফ ২ বিজিবি অধিনায়ক লে: কর্ণেল আবুজার আল জাহিদ, বিজিবিএম, পিবিজিএম নেতেত্বে গোপন সংবাদে একটি বিশেষ টহলদল দল টেকনাফ সদর ইউনিয়নের বিজিবি সদর সংলগ্ন নতুন পল্লান পাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি ঝোঁপের ভিতর থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ৩ লক্ষ মালিকবিহীন ইয়াবা উদ্ধার করে। যার আনুমানিক মূল্য ৯ কোটি টাকা। তবে এই অভিযানে বিজিবি সদস্যরা কাউকে আটক সক্ষম হয়নি। হঠাৎ করে স্বর্ণ ও ইয়াবা পাচার বেড়ে যাওয়ায় টেকনাফের সুশীল সমাজের কয়েকজন অভিমত প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে টেকনাফের চিহ্নিত ও স্বররাষ্টমন্ত্রনালয়ের তালিকাভুক্ত চোরাকারবারিরা আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ইদানিং বেশ কয়েকজনকে টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরা ফেরা করতে দেখা যাচ্ছে। এই চোরাকারবারীরা আবারও প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে তাদের এই অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা মনে করি এই ইয়াবা ও স্বর্ণ পাচারকারি গডফাদারদের যত দিন পর্যন্ত নির্মূল করা না হবে। তত দিন অবৈধ ব্যবসা প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে না।
এই অভিযানে সত্যতা নিশ্চিত করে ২ বিজিবি অধিনায়ক লে: কর্ণেল আবুজার আল জাহিদ জানান, বিজিবি উপস্থিতি টের পেয়ে ইয়াবা পাচারকারিরা সু-কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। তিনি আরো বলেন, স্বর্ণ ও ইয়াবা ব্যবসায়ীদের ধরতে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাচারকারীরা যতই কৌশল অবলম্বন করুক না কেন তাদেরকে ধরতে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"



You must be logged in to post a comment.