কক্সবাজার সদরের ভারুয়াখালী ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের মৃত্যুর দীর্ঘ একমাস পরও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়নি কাউকে। এতে করে ইউনিয়নের ৩০ হাজার জনগণ চরম নাগরিক সুবিধা বঞ্চিত হয়ে পড়েছে। অভিভাবকহীন ইউনিয়নে নাগরিক সুবিধা নিতে যাওয়া অসংখ্য জনসাধারণ প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছে। স্থানীয় সরকার বিধি অনুযায়ী চেয়ারম্যান পদ শূন্য ঘোষণার পরে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দ্রুত সময়ে অর্পণের বিধান রয়েছে। কিন্তু রহস্যজনকভাবে চেয়ারম্যান আবুল কাশেম ভুঁইয়া ১৫ সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করলেও অদ্যাবধি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়নি কাউকে।
সরেজমিনে জানা যায়, চেয়ারম্যান আবুল কাশেম ভুঁইয়া মৃত্যুর পূর্বে প্রায় এক বছর যাবত অসুস্থ ছিল। মৃত্যুর ৩ মাসাধিককাল পূর্বে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে জনসাধারণ নাগরিক সুবিধা গ্রহণ নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ে। ইউপি সদস্যরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শহিদুল ইসলামের কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইলে তিনি প্যানেল চেয়ারম্যান-১ এবাদুল হককে নাগরিক সুবিধা সম্বলিত কাগজপত্রে স্বাক্ষরের মৌখিক নির্দেশনা দেন। কিন্তু প্যানেল চেয়ারম্যানের স্বাক্ষরে কাগজপত্র গ্রহণকারী জনসাধারণ ঐসব কাগজপত্র নিয়ে সরকারী-বেসরকারী বিভিন্ন দপ্তরে গেলে তাদের চেয়ারম্যান কিংবা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সীলের স্থলে কাগজপত্রে প্যানেল চেয়ারম্যানের সীল সম্বলিত স্বাক্ষর থাকায় তাদের বারবার ফিরিয়ে দেয়। সে থেকে চেয়ারম্যানের মৃত্যুর একমাস পরেও এ হয়রানি অব্যাহত রয়েছে। চেয়ারম্যান মৃত্যুবরণ করলে তা আরো প্রকট আকার ধারণ করে। অসংখ্য ভোগান্তির শিকার জনসাধারণের সাথে কথা হলে জানায়, চেয়ারম্যানের অসুস্থতার সময়ও মৃত্যুর পর প্যানেল চেয়ারম্যানের স্বাক্ষরে যেসব কাগজপত্র পরিষদ থেকে তারা সংগ্রহ করেছে তা নিয়ে তাদের চরম হয়রানির শিকার হতে হচেছ। ওইসব কাগজপত্র তারা কোন কাজে ব্যবহার করতে পারছে না। অবিলম্বে ইউনিয়নের ৩০ হাজার জনগণের ভোগান্তি লাঘব ও থমকে যাওয়া উন্নয়ন প্রকল্প এগিয়ে নিতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের নিকট তারা জোর দাবী জানান।
অপরদিকে ইউপি সদস্যদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারাও একই সমস্যা উল্লেখ করে বলেন, জনসাধারণকে হয়রানি থেকে মুক্তি ও বন্ধ হয়ে পড়া উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নিতে তারা দ্রুত সময়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব প্রদানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবরে আবেদন প্রদান করেছে।
প্যানেল চেয়ারম্যান এবাদুল হকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনিও একই সমস্যার কথা উল্লেখ করে জানান, প্যানেল চেয়ারম্যান-১ এর সীল সম্বলিত স্বাক্ষরে তিনি যেসব নাগরিক সুবিধা সম্বলিত কাগজপত্র প্রদান করেছেন তা নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে বলে ভুক্তভোগীরা তাকে এবং পরিষদের সদস্যদের অভিযোগ করে আসছে। চেয়ারম্যানের মৃত্যুর একমাস পরও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব না দেওয়ায় এ ভোগান্তি অব্যাহত রয়েছে। তিনি অবিলম্বে ইউনিয়নের ৩০ হাজার জনসাধারণের নাগরিক সুবিধার কথা চিন্তা করে অতিসত্ত্বর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব প্রদানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।
ইউনিয়নের সচেতন জনসাধারণের অভিমত চেয়ারম্যানের মৃত্যুর ১ মাস পার হলেও কি রহস্যজনক কারণে স্থানীয় সরকার বিধির তোয়াক্কা না করে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে না তা নিয়ে ইউনিয়নে আলোচনা-সমালোচনার শেষ নেই। তারা বর্তমান সরকারের অব্যাহত উন্নয়ন কর্মকান্ড এগিয়ে নিতে জরুরী ভিত্তিতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দায়িত্ব প্রদানের দাবী জানান।
জেলা স্থানীয় সরকার প্রধান আলাউদ্দীন শাহরিয়ার খানের কাছে মোবাইলে উক্ত বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্বের ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগের পরামর্শ দেন। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শহিদুল ইসলামের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্বের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন বলে জানান।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"



You must be logged in to post a comment.