
রোহিঙ্গা বস্তিতে বৃষ্টির পানিতে থৈ থৈ করছে
হুমায়ুন কবির জুশান; উখিয়া :
মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বর্বরতা ভুলতে পাচ্ছি না। পথে পথে জিরিয়ে নিয়ে তেরো দিন পর দীর্ঘ পথ হেঁটে ১৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন আরেফা বেগম। টমটম নিয়ে ক্যাম্পে আসার সময় আরেফা বেগম ও সেতারার সাথে কথা হয় এ প্রতিবেদকের।
তারা বলেন, প্রাণ বাঁচাতে মাতৃভূমি ত্যাগ করলেও দেশের মায়া অন্যরকম। স্বদেশে ফিরতে চায় শান্তি ফিরে এলে, অন্যতায় ফিরব না। গতকালও সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে দলে দলে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছেন অসংখ্য রোহিঙ্গা নারী পুরুষ। প্রতিটি নারীর কোলে রয়েছে এক থেকে দুই মাসের শিশু। পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার আশায় এতদিন তারা আসেননি।

টমটম করে কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরে যাচ্ছেন রোহিঙ্গা নারী
এদিকে গতকালও উখিয়ায় অঝোর বৃষ্টি হয়েছে। বালুখালী কাষ্টমস এলাকায় খালের পাশের অস্থায়ী রোহিঙ্গা বস্তি পানিতে থৈ থৈ করছে। রোহিঙ্গা বস্তির নারীরা বুকের সঙ্গে জড়িয়ে শিশুদের বৃষ্টির হাত থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করলে ও মায়েদের ভিজতে দেখা গেছে। বৃষ্টিতে ভেজা রোহিঙ্গা নারীদের চোখে নামছে শ্রাবণ ধারা। রাস্তার ধারে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের বস্তি ভেঙ্গে দিয়েছে প্রশাসন। তাদেরকে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় একত্রে রাখতেই এ ব্যাবস্থা নেয়া হয়েছে। অনেকে তাঁবু না পেয়ে বৃষ্টিতে ভিজে সর্দি জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন। নারী ও শিশুদের চিকিৎসা ক্যাম্পে দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। অবর্ণনীয় দুর্দশায় আছেন তারা।
মিয়ানমারের নৃশংসতার হাত থেকে নিজে বাঁচতে তিন সন্তানকে বাঁচাতে বাংলাদেশে ছুটে এসেছেন আরেফা বেগম ও সেতারা বেগম। নিজেরা অভুক্ত। অভুক্ত তাদের সন্তানেরা। আর্তনাদ করে হাত পাতছেন। কিন্তু না, কোনো খাদ্য পাননি। ত্রাণ নিতে যে যুদ্ধ করতে হয় তাতে বিজয়ী হতে পাচ্ছেন না। কারণ এরা নতুন এসেছেন। গত দুদিনের বৃষ্টি তাদের আরো দুর্বিপাকে ফেলেছে। সন্তানদের কিভাবে বাঁচাবেন। নিজে কিভাবে বাঁচবেন। মানবতার ইতিহাসে সবচেয়ে জঘন্য নির্মমতার শিকার হয়ে আরেফা ও সেতারা এখন উখিয়ার কুতুপালং নতুন বস্তি এলাকায়। তাদের কোনো খাবার নেই। আশ্রয় নেই। রান্না করার মতো কোনো উপায় নেই। কি করবেন তারা। কিভাবে বাঁচাবেন সন্তানদের। আরেফা ও সেতারার মতো হাজার হাজার রোহিঙ্গা নারী মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নৃশংস নির্যাতন, ক্ষত নিয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছে অসংখ্য মানুষ।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.