মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম; লামা :
এখন গ্রীষ্মকাল। খরতাপ ও অনাবৃষ্টির কারণে প্রায় মরুভূমিতে রুপ নিয়েছে পার্বত্য অঞ্চল। নদীর বুকে চর জেগে মৃত প্রায় সকল খাল, বিল, পুকুর ও নদী। টিউবওয়েল, রিংওয়েল ও নলকূপে উঠছেনা পানি। গত এক মাসের গড় তাপমাত্রা ৪০-৪৪ ডিগ্রী সেলসিয়াস। অপরদিকে হচ্ছেনা বৃষ্টিপাত। এরমধ্যে কৃত্রিম বনায়ন, বাগান ও জুম চাষের জন্য বাগান মালিক ও স্থানীয়রা পাহাড় পরিষ্কার করতে সহজ উপায় হিসেবে বেছে নিচ্ছে পাহাড়ে আগুন দেয়া।
বিস্তৃর্ণ পাহাড়ি এলাকায় আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়ার কারণে হারিয়ে যাচ্ছে নানান মূল্যবান বনাজি, ঔষুধি গাছ। বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে কয়েক হাজার প্রজাতির জীব জন্তু। অসতর্কতার কারণে অনেক সময় আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুড়ে যাচ্ছে সাধারণ মানুষের বসতবাড়ি, সৃজিত ফলের বাগান ও সবজির মাঠ। পাহাড়ের আগুন নিয়ন্ত্রণের বাহিরে চলে গেলে হয় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি। নিয়ম না মেনে পাহাড়ের আগুন দেয়ায় অনেকের মূল্যবান বাগান পুড়ে পড়ছে ব্যাপক ক্ষতির মূখে। মূহুর্তে ধ্বংস হচ্ছে দীর্ঘদিনের সৃজিত বাগান।
শুষ্ক মৌসুম হওয়ায় কোন এক জায়গায় আগুন লাগিয়ে দিলেই তা ছড়িয়ে পড়ে কয়েক মাইল এলাকায়। গত বছর লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের মিরিঞ্জা এলাকায় স্কাই রাবার বাগানের আগুন দিলে তা ছড়িয়ে পড়ে প্রায় ৯কিলোমিটার এলাকায়। পুড়ে যায় ১৩টি বসতবাড়ি। আগুনে পুড়ে ১৮টি রাবার, ৩টি মিশ্র ফলের বাগান। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় কয়েক কোটি টাকা।
পাহাড়ে নিয়ম না মেনে আগুন দেয়ার বিষয়ে লামা বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, রিজার্ভ ও সংরক্ষিত এলাকায় যদি কেউ আগুন দেয় তাকে আমরা আইনের আওতায় আনতে পারি।
এছাড়া পার্বত্য এলাকায় জুমিয়ারা খাস জায়গা বা ব্যক্তি মালিকানা জায়গায় জুম চাষ ও বনায়ন করার উদ্দেশ্যে যদি আগুন দেয় সে বিষয়ে পদক্ষেপ নিবেন উপজেলা বা জেলা প্রশাসন। সেক্ষেত্রে আমাদের সহায়তা চাইলে আমরা সাহায্য করতে প্রস্তুত। যেভাবেই আগুন দেয়া হোক না কেন তা পরিবেশ ও জীব বৈচিত্রের জন্য যথেষ্ট হুমকিস্বরুপ।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"





You must be logged in to post a comment.