
মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম; লামা :
বান্দরবানের লামা উপজেলায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে যুবককে আইনী হয়রানী করতে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করার হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে অভিযুক্ত আসামী হাফিজুর রহমানের স্ত্রী রেবেকা আক্তার (২৩) বাড়িতে ডেকে নিয়ে তার স্বামীকে ফাসানো হয়েছে বলে সে দাবী করেন। গত ১৫ অক্টোবর রোববার রাত ৮টায় উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নের মোহাম্মদ পাড়ায় এই ঘটনা ঘটে।
রেবেকা বেগম বলেন, পার্শ্ববর্তী আয়েশা বেগম (৪৯) নামে এক নারী আমার স্বামীকে তার বাড়িতে ডেকে নিয়ে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আটক করে। এরপর তার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানীর অভিযোগে মিথ্যা মামলার সৃষ্টি করে গত ১৭ অক্টোবর ২০১৭ইং লামা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা ৫ দায়ের করে। আমার স্বামী নির্দোষ।
রেবেকা বেগম আরো জানান, আমার স্বামী হাফিজুর রহমান ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। এছাড়া সে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করে। তাছাড়া এলাকার ছোটখাট বিচার শালিসে যায়। গত ২০/২৫ দিন আগে মামলার বাদী আয়েশা বেগমের বোনের নামে সেনাবাহিনীর কাছে বিচার দেয় পার্শ্ববর্তী বটতলী পাড়ার একজন। সেই বিচারটি স্থানীয়ভাবে ভেঙ্গে দিতে আমার স্বামীকে দায়িত্ব দেয়া হয়। সেই বিচারে আয়েশা বেগমের বোন দোষী হিসেবে অভিযুক্ত হয়। তখন আয়েশা বেগম আমার স্বামীকে দেখে নিবে বলে হুমকী দেয়। সেই ক্ষোভ থেকে পরিকল্পিতভাবে এই মামলার সৃষ্টি করা হয়েছে। আয়েশা বেগম একা বাড়িতে বাস করে। কিন্তু ঘটনার দিন তার বাড়িতে অন্য ২টি ছেলে ছিল। তাহলে আয়েশা বেগম কি করে জানত আমার স্বামী তার বাড়িতে যাবে? নিশ্চয় সে আগে থেকে লোক রেখে আমার স্বামীকে তার বাড়িতে ডেকে নিয়ে এই ঘটনার জন্ম দেয়। আমার দুই ছেলে মেয়ে। আমার স্বামী জেল হাজতে থাকায় তাদের নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছি। মায়ের বয়সী একটি মহিলার দিকে কখনও আমার স্বামী খারাপ দৃষ্টিতে তাকাতে পারেনা।
এই বিষয়ে মোহাম্মদ পাড়ার সর্দ্দার মোহর আলী (৫৭) বলেন, মাস দু’য়েক আগে বাদী আয়েশা বেগমের ফুফাত বোনের সংসারে স্বামী স্ত্রীর বিরোধ ছিল। সেই ঘটনায় হাফিজুল আয়েশার বোনের স্বামী ছাবের আলীর পক্ষে কথা বলেছিল। সেই থেকে তাদের মধ্যে মানসিকভাবে দূরত্ব ছিল। এই ঘটনাটি আমাদের কাছে সাজানো মনে হয়।
স্থানীয় ইউপি মেম্বার মো. মিজান বলেন, এই ঘটনার কোন সত্যতা আছে বলে আমাদের মনে হয়না। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মিমাংসার জন্য আমরা বলি। কিন্তু আয়েশা বেগম না মানায় মিমাংসা হয়নি।
এবিষয়ে মামলার বাদী আয়েশা বেগম বলেন, কোন স্থানীয় মিমাংসা আমি মানিনা। আমি মামলা করবই। হাফিজুলকে একদিনের জন্য হলেও আমি জেলের ভাত খাওয়াব।
মামলার তদন্তকারী অফিসার ও লামা থানার পুলিশের উপ-পরিদর্শক গিয়াস উদ্দিন বলেন, আয়েশা বেগম মামলা করেছে। আমরা মামলাটি আমলে নিয়ে আসামীসহ আদালতে প্রেরণ করি। বাদী আসামীর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সংশোধিত) ২০০৩ এর ১০ ধারা ও পেনাল কোট এর ৩২৩ ধারায় অভিযোগ আনেন।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.