এম আবু হেনা সাগর; ঈদগাঁও :
সাপ্তাহিক ছুটির দিন শনিবারে বসে কচিকাঁচার মেলা। সাথে অভিভাবকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠে ঈদগাঁও পাবলিক লাইব্রেরীর ঘুমন্ত প্রাঙ্গণ। সাত সকাল থেকে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের আনাগোনা শুরু হয়। বেলা বাড়ার সাথে শিশু কিশোর ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের কোলাহল ও হৈ-হুল্লোড়ে প্রাণময় হয়ে উঠে নীরবে দাঁড়িয়ে থাকা শহীদ মিনার থেকে সবুজ ঘাসে ভরা আঙ্গিনা। শিশু শিক্ষার্থীদের শুদ্ধ উচ্চারণ ও আবৃত্তি, গান এবং চিত্রাঙ্গন শিখানোর অনন্য প্রয়াসে যাত্রা শুরু করেছেন ঊষা আর্টস ইনস্টিটিউট।
দিনে দিনে বিস্তৃত এই প্রতিষ্ঠানের কলেবর। বাড়ছে শিক্ষার্থীর সংখ্যাও। নিজ সন্তানদের জন্য হাতের নাগালের মধ্যে এমন একটি শিল্পচর্চার ক্যানভাস ও ক্যাম্পাসের সমন্বয়ে মুগ্ধ সচেতন অভিভাবক ও বোদ্ধামহল। সামাজিক সম্প্রীতি, শিক্ষাশিল্পসংস্কতির বিকাশ, পর্যটনশিল্পের প্রসার, আর্থ-সামাজিক টেকসই উন্নয়নের লক্ষে মুক্তিযুদ্ধের মুল্যবোধ ও চেতনায় আত্মপ্রণোদিত স্বেচ্ছাসেবী ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা উষা’র (অর্গনাইজেশন ফর সোস্যাল হারমনি এন্ড এডভান্সমেন্ট)।
২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে চিরায়ত বাংলার শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চা ও বিকাশে নবগঠিত ঈদগাঁও উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে শিল্পসংস্কৃতি ও চারুকলা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঊষা আর্টস ইনস্টিটিউটের পথচলা আনুষ্ঠানিক শুরু হয়।
সৃষ্টি সৌন্দর্য্যের প্রেরণা এবং এর লক্ষ্য হল মনন শীল শিল্পসাহিত্যসংস্কৃতির প্রশিক্ষণ, নিরবচ্ছিন্ন চর্চার মাধ্যমে শিশুদের সৃজনশীলতা ও সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ, সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধি, উদার ও অসাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন সংবেদনশীল ও পরমতসহিষ্ণু মননশীল সমাজ গঠন।
ঈদগাঁও পাবলিক লাইব্রেরীতে প্রতি শনিবার সকাল ৯টা থেকে শুরু হয় শিখন কার্যক্রম। সাধারণ সঙ্গীত শিখনের মাধ্যমে শুরু দিনের কার্যক্রম। পর্যায়ক্রমে চিত্রাঙ্কন, শুদ্ধ উচ্চারণ ও আবৃত্তির প্রশিক্ষণ চলে বেলা সাড়ে ১২টা। প্রতিটি বিষয়ে প্রশিক্ষিত ও দক্ষ প্রশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে নিয়মিত স্বাস্থ্য বিরতি ও টিফিন বিরতি দিয়ে চলা শিখনকার্যক্রম ক্ষুদে শিক্ষার্থী দের মাঝে যেমন ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে তেমনি সাড়া ফেলেছে অভিভাবকদের মধ্যেও।
ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন করেছেন ঈদগাঁও থানার ওসি শিল্প ও সংস্কৃতিবান্ধব মানবিক পুলিশ আবদুল হালিম, ঈদগাঁও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথিতযশা প্রধান শিক্ষক মোঃ রফিকুল ইসলাম, ঈদগাঁও সাংস্কৃতিক একাডেমির নির্বাহী পরিচালক সংস্কৃতিকর্মী সেলিম রেজা, জাতীয় শিশুকিশোর সংগঠন খেলাঘর আসর ফুলেশ্বরী শাখার সভাপতি নূরুল আলম নিশান’সহ অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও শিল্পবোদ্ধা অংশীজন।
ঊষা’র প্রধান নির্বাহী কাফি আনোয়ার বলেন, অস্থির বিশ্বের চারপাশে যেমন চলছে নীতি, আদর্শ ও মূল্যবোধের চরম অবক্ষয় তেমনি প্রযুক্তির আগ্রাসন কোমলমতি শিশুদের উপর সৃষ্টি করছে অদৃশ্য ও বীভৎস মনস্তাত্ত্বিক চাপ। এই নাভিশ্বাস থেকে শিশুকে মুক্ত করতে প্রয়োজন মুক্ত প্রকৃতি ও প্রকৃতিবাদী শিখন কার্যক্রমের মাধ্যমে এদের অপার বিস্ময়, কৌতুহল, উদ্দীপনা, সংবেদনশীলতা ও অন্ত র্নিহিত উদ্ভাবনী শক্তিকে জাগ্রত করে মনন শীলতা ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে সুপ্তপ্রতিভা বিকাশের যথাযথ পরিচর্যার ক্ষেত্র প্রস্তত করা।
সেই লক্ষ্যেই ঊষা’র এই সাংস্কৃতিক আন্দোলন ও অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.