
এখন মাঝে মাঝেই তীব্র ও ভ্যাপসা গরম চলছে। এসময় ঘামে অনেকেরই নাজেহাল অবস্থা। জামা কাপড় ভিজে গিয়ে এমন হয় যেন গোসল করেছেন। এতে কত যে অস্বস্তি ভুক্তভোগীরাই বুঝতে পারেন। ঘামে শুধু কি জামা কাপড়ই ভিজে যায়, শরীর দুর্বল লাগার পাশাপাশি লোকসমাজে ঘামের গন্ধে লজ্জায় পড়ে যেতে হয়।
শরীর সুস্থ রাখতে এবং শরীরের মধ্যে থাকা অপ্রয়োজনীয় ও ক্ষতিকর পদার্থ বের করে দিতে ঘাম অপরিহার্য। কিডনি মানব শরীরে ছাঁকনির কাজ করে। শরীরের যাবতীয় দূষিত পদার্থ কিডনির ছাঁকনিতে ছেঁকে নিয়ে বাইরে বেরিয়ে যায়। তবে সবাই কিন্তু সমানভাবে ঘামেন না। কারো শরীরে ঘাম বেশি হয়।
বেশি ঘামলে ক্ষতি কী
অতিরিক্ত ঘামের কারণে ছত্রাক জনিত রোগগুলো খুব সহজে হয়ে যায়। আমাদের শরীরে যে সাদা সাদা ছুলি হয় এটা অতিরিক্ত ঘামের কারণেই হয়। অতিরিক্ত ঘামের কারণে শরীরে অনেক সময় ইলেকট্রোলাইট ইমব্যালেন্স হয়ে যায়। এতে শরীরে লবণের পরিমাণ কমে যায়। এটার পাশ্বর্প্রতিক্রিয়াগুলো আসতে থাকে।
চলুন জেনে নিই বেশি ঘাম হলে কী করবেন?
১। গরমে দইয়ের ঘোল ও ডাবের পানি খেতে পারেন। ঘোলে থাকা র্যাকটিক অ্যাসিড চটজলদি হজম করাতে সাহায্য করে। আর ডাবে থাকা পটাশিয়াম শরীর তরতাজা রাখতে পারে।
২। কাঁচা আমপোড়ার শরবতও শরীর ঠাণ্ডা রাখে।
৩। বয়স্ক মানুষদের ঘাম বেশি হলে অবিলম্বে নুন লেবুর শরবত খাওয়ানো দরকার। না হলে হঠাৎ জ্ঞান হারাতে পারেন।
৪। গরমে ঘাম বেশি হয় বলে এ সময়ে সাড়ে তিন থেকে চার লিটার পানি, শরবত ও পাতলা চা খেলে শরীরের পক্ষে ভালো হয়।
৫। যাদের সারাক্ষণ রোদে ঘোরাঘুরি করতে হয় তারা সঙ্গে নুন, লেবু, চিনি সম্ভব হলে ছাতু মিশিয়ে শরবত করে সঙ্গে রাখুন। শরীর দুর্বল লাগলে ও ঘাম বেশি হলে দু-তিন ঢোক করে খেতে পারেন। কাজে এনার্জি পাবেন।
৬। পানি ঢালা ঠাণ্ডা ভাত (পান্তা ভাত) খেলে শরীর ঠাণ্ডা থাকে, ঘুমও ভালো হয়।
৭। গরমে ফল বেশি করে খেলে পানির পিপাসা অনেকটাই কমে। ফলে থাকা ভিটামিন, মিনারেল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীর তরতাজা রাখতে সাহায্য করে। জামরুল, তরমুজ, লিচু, শসা, পাকা পেঁপে, পাকা আম যথেষ্ট পরিমাণে খাবেন। পাকা আমের ভিটামিন ‘এ’ ভবিষ্যতের জন্য শরীরে স্টোর করা যায়।
৮। কোল্ড ড্রিংসের বদলে টেট্রা প্যাকের জুস ভালো। তবে সবচেয়ে ভালো বাড়িতে তৈরি ফ্রেশ ফ্রুট জুস ও টাটকা ফল।
৯। গরমের সময়ে বেশি তেলমসলা দেয়া মাটন, চিকেন, মাছ না খেয়ে মুরগির স্টু, মাছের পাতলা ঝোল- এই ধরনের খাবার খেলে ভালো হয়।
তবে প্রত্যেকের খাবারের রুচি ও সহ্য ক্ষমতা আলাদা আলাদা হওয়ায় গাইডলাইন অনুযায়ী শরীর বুঝে খাওয়াই বাঞ্ছনীয়।
সূত্র:deshebideshe.com,ডেস্ক।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.