এম.বেদারুল আলম; কক্সভিউ:
সরকারি খরচে গৃহকর্মীর ভিসায় সৌদি আরব গিয়ে বিপাকে পড়েছে কক্সবাজার জেলার ২০ জন দরিদ্র মহিলা। চুক্তি অনুযায়ী কাজ পেলেও নিয়োগদাতার নানা হয়রানী শারীরিক নির্যাতনসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ডের কারণে জীবন দূর্বিসহ হয়ে পড়েছে এসব মহিলাদের। ইতোমধ্যে ৪ জন মহিলা দেড় মাসের মাথায় দেশে ফিরে এসেছে। ফিরে আসা নারী শ্রমিকদের নির্যাতনের বর্ণনা শুনে হতবাক হয়েছেন স্বয়ং জেলা জনশক্তি ও কর্মসংস্থান কার্যালয়ের কর্মকর্তারা। অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের সৌদি আরব থেকে ফিরিয়ে আনার আবেদনও করেছে জেলা জনশক্তি কার্যালয়ে।
জেলা জনশক্তি ও কর্মসংস্থান কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক রমিয়ন কান্তি দাশ জানান, ২০ থেকে ২৮ আগস্টের মধ্যে কক্সবাজারের বিভিন্ন উপজেলা থেকে ২০ জন মহিলা গৃহকর্মীর ভিসায় সৌদিয়া গমন করে। সেখানকার ‘গামা’ নামের একটি সংস্থা তাদের নিয়োগ প্রদান করে বিভিন্ন সৌদি বাসিন্দাদের পরিবারে। তারা গৃহকর্মীর ভিসা নিয়ে ৮’শ রিয়াল বেতনে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে কাজে লেগে যায়। চুক্তি অনুযায়ী কাজ করলেও রাতের বেলায় নির্যাতন বেড়ে যায় এমনটাই জানিয়েছেন ১৪ অক্টোবর ফিরে আসা সদরের খুরুশকুলের খালেদা, ৭ অক্টোবর ফিরে আসা চকরিয়ার তৈয়বা বেগম।
ফেরত আসা মহিলা শ্রমিকরা নিজ খরচে বিমান ভাড়ায় দেশে ফিরতে পারলেও বাকী অনেকে ফিরতে পারছেনা বিমান ভাড়ার অভাবে। কারণ বাংলাদেশ ও সৌদি শ্রম মন্ত্রণালয়ের সাথে ২ বছরের চুক্তি থাকায় নিয়োগদাতারা শ্রমিকদের ছাড়তে নারাজ। ফলে অনেকে নির্যাতন সহ্য করে কাজ করছে বলেও জানিয়েছেন ফিরে আসা ২ জন মহিলা শ্রমিক।
এদিকে কক্সবাজার শহরের লাইট হাউজ পাড়ার সোনা মিয়া জানান, তার মেয়ে মনোয়ারা ২৫ আগস্ট গৃহকর্মীর ভিসা নিয়ে সৌদি আরব গমন করে। ২ মাস কাজ করলেও কোন টাকা দেয়নি নিয়োগদাতা। সৌদি আরবের ‘মেঘায়’ কাজ করছে তার মেয়ে দাবী সোনা মিয়ার। মেয়েকে ফেরত আনতে ১২ অক্টোবর জেলা জনশক্তি কর্মকর্তার কার্যালয়ে আবেদন করেছেন মনোয়ারার বাবা সোনা মিয়া।
আবেদনের বিষয়ে সহকারি পরিচালক রমিয়ন কান্তি দাশ জানান, আমরা মনোয়ারার বাবার লিখিত আবেদন পেয়েছি। কিন্তু ২ বছর পর্যন্ত চুক্তি থাকায় সম্ভবত আনা সম্ভব হবেনা তবে আমি বিষয়টি ‘ডিজি’ বরাবরে পাঠিয়েছি। ওখান থেকে কি সমাধান দেয় অপেক্ষা করতে হবে।
এদিকে মনোয়ারাকে নির্যাতনের কারণে মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েছে বলে দাবি পরিবারের। কক্সবাজার থেকে সৌদি আরব যাওয়া অনেক মহিলার সাথে জেলা কর্মসংস্থান কার্যালয়ের ২জন কর্মকর্তার প্রায় যোগাযোগ হয়। মহিলা শ্রমিকরা নির্যাতন ও যৌন নিগ্রহের বিষয়টি তাদেরকে জানিয়েছেন বলেও জানান উক্ত কর্মকর্তারা খরচে নিজেদের ভাগ্য ফেরাতে সৌদি আরব গিয়ে বিপাকে পড়া নারীদের বিষয়ে খোঁজ রাখেননা দূতাবাসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা এমন অভিযোগ অভিভাবকদের।
নির্যাতনের শিকার এসব মহিলা শ্রমিকদের নিরাপত্তায় দ্রুত পদক্ষেপ জরুরী হয়ে দাঁড়িয়েছে।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"



You must be logged in to post a comment.