
প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। ফাইল ছবি
প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেছেন, ‘সরকার কর্তৃক নির্ধারিত গেজেটের তারিখ থেকে কার্যকর হবে বলা আছে। অথচ মাসদার হোসেন মামলায় নির্দেশনা আছে, সুপ্রিম কোর্ট যে তারিখ থেকে কার্যকরের পরামর্শ দেবেন, সেই তারিখ থেকে কার্যকর হবে। উল্টো পাঠিয়েছেন। ১৬ বছরেও হয়নি। এভাবে হলে ১৬০০ বছরেও গেজেট হবে না।’
৩০ জুলাই রোববার নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা ও আচরণ সংক্রান্ত বিধিমালা গেজেট আকারে প্রকাশের জন্য সরকারের চূড়ান্ত খসড়া পর্যালোচনা করে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমকে এসব কথা বলেন প্রধান বিচারপতি।
বিধিমালার নতুন খসড়া তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ বলতে কী বোঝায়, প্রত্যেক আইনে সংজ্ঞায়িত করা আছে। তা আমি আইনমন্ত্রীকে দেখিয়েছি। কর্তৃপক্ষ বলতে বিচার বিভাগের জন্য রাষ্ট্রপতিকে রাখলেন। তাহলে তো আইন মন্ত্রণালয়ই থাকছে। এটি উল্টো। এভাবে চলতে পারে না। এ বিষয়ে সমাধানে না গেলে চলবে না।’
সে সময় বৈঠকে বসার আহবান জানিয়ে সরকারের উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি বলেন, বিষয়টি নিয়ে আসুন আমরা বৈঠকে বসি। ওই বৈঠকে আপিল বিভাগের সব বিচারপতি উপস্থিত থাকবেন। একই সঙ্গে আইনমন্ত্রী, অ্যাটর্নি জেনারেল এবং সরকারের যদি কোনো এক্সপার্ট থাকে, আপনারা আসেন, এটা নিয়ে রশি টানাটানি আর নয়।
এ ছাড়া সরকারের চূড়ান্ত খসড়া গ্রহণ না করে এই বিষয়ে পরবর্তী আদেশের জন্য আগামী ৬ আগস্ট দিন ধার্য করেন সুপ্রিম কোর্ট।
প্রসঙ্গত, মাসদার হোসেন মামলার রায়ের ৭ নম্বর নির্দেশনা অনুযায়ী জুডিশিয়াল সার্ভিসের সদস্যদের জন্য পৃথক শৃঙ্খলাবিধি তৈরি নিয়েই এই শুনানি চলছে। ২০১৫ সালের ৭ মে একটি খসড়া শৃঙ্খলা-সংক্রান্ত বিধি প্রস্তুত করে সুপ্রিম কোর্টে পাঠায় আইন মন্ত্রণালয়।
২০১৬ সালের ৭ নভেম্বর বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিধিমালা ২৪ নভেম্বরের মধ্যে গেজেট আকারে প্রণয়ন করতে সরকারকে নির্দেশ দেন আপিল বিভাগ। নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিধিমালা প্রণয়ন না করায় আইন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিবকে ২০১৬ সালের ১২ ডিসেম্বর তলবও করেছিলেন আপিল বিভাগ।
গত ২৭ জুলাই বৃহস্পতিবার বিকেলে সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বৈঠককালে বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা ও আচরণ সংক্রান্ত বিধিমালা গেজেট আকারে প্রকাশের জন্য খসড়া বিধিমালা হস্তান্তর করেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।
সে সময় আইনমন্ত্রী বলেন, ‘শৃঙ্খলাবিধির খসড়া আমি প্রধান বিচারপতির কাছে হস্তান্তর করেছি। এটি এখন তিনি দেখবেন। এরপর খসড়া বিধিটি রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হবে। রাষ্ট্রপতির চূড়ান্ত অনুমোদনের পর মন্ত্রণালয় এটি গেজেট আকারে জারি করবে।’
সূত্র:আয়েশা সিদ্দিকা শিরিন/priyo.com,ডেস্ক।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.