
গিয়াস উদ্দিন ভুলু; টেকনাফ :
মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ও মাদক পাচার অব্যাহত রয়েছে। এতে বৃদ্ধি পাচ্ছে প্রতিদিন রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের সংখ্যা। তার পাশাপাশি এই রোহিঙ্গাদের মাধ্যমে প্রতিদিন আসছে বিপুল টাকার মরণ নেশা ইয়াবা ও বিভিন্ন প্রকার মাদক। এই মরণ নেশা ইয়াবা ও বিভিন্ন প্রকার মাদকের নেশায় ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে এই দেশের যুব সমাজ।
তথ্য-অনুসন্ধানে জানা যায়, পাশ্ববতীদেশ মিয়ানমার থেকে বেশ কয়েক বছর ধরে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, রোহিঙ্গা মুসলিমদের উপর নির্বিচারে নির্যাতন, গণহারে মানুষ হত্যাসহ সেই দেশের সেনা কর্মকর্তাদের জুলুম, নির্যাতন থেকে বাচঁতে নাফনদী ও বঙ্গোপসাগরের সীমান্ত ফাঁড়ি দিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে হাজার হাজার রোহিঙ্গা। এই সমস্ত রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় বসতি স্থাপন করে। তার পর এই দেশে থাকা রোহিঙ্গারা তাদের নিত্য নতুন কৌশল অবলম্বন করে। তার পর স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় দিনের পর দিন তাদের আত্মীয় স্বজনদেরকে এই দেশে নিয়ে আসতে শুরু করে। এইভাবে দিনের পর দিন বাড়তে থাকে রোহিঙ্গাদের সংখ্যা।
তথ্য সুত্রে আরো জানা যায়, বাংলাদেশে এক বছর আগের রোহিঙ্গা সংখ্যা প্রায় ৫ লক্ষ। বিভিন্ন সুত্রে খবর নিয়ে জানা যায়, এই রোহিঙ্গারাই টেকনাফের সীমান্তের বিভিন্ন এলাকা দিয়ে মিয়ানমার থেকে প্রতিদিন নিয়ে আসছে লক্ষ লক্ষ মরণ নেশা ইয়াবা ও বিভিন্ন প্রকার মাদক।
এদিকে বাংলাদেশ সীমান্ত প্রহরী বিজিবি, কোষ্টগার্ড ও প্রশাসনের বিভিন্ন সদস্যরা রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ও মাদক পাচার প্রতিরোধে কঠোরভাবে কাজ করে যাচ্ছে। অথচ প্রশাসনের সদস্যদের কঠোর নিরাপত্তা, কঠোর পাহারার মধ্যেও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ও লক্ষ লক্ষ মাদক পাচার অব্যাহত রয়েছে। এমন কোন দিন নেই টেকনাফ সীমান্তের বিভিন্ন উপকূল দিয়ে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ও মাদক পাচার হচ্ছে না!
টেকনাফ বিজিবি ও কোষ্টগার্ড সুত্রে জানা যায়, মিয়ানমারের সহিংসতাকে কেন্দ্র করে টেকনাফ সীমান্তের উপকূলের বিভিন্ন এলাকা থেকে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ও মাদক পাচার প্রতিরোধ করার জন্য তাদের সদস্যরা কঠোরভাবে কাজ করে যাচ্ছে দিনের পর দিন। সেই সুত্র ধরে বছরে পর বছর বিজিবি ও কোষ্টগার্ড সদস্যরা আটক করছে মিয়ানমার থেকে পাচার হয়ে আসা লক্ষ লক্ষ ইয়াবা। তার পাশাপাশি শত শত রোহিঙ্গাকে আটক করার পর স্ব-দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। বিজিবি ও কোষ্টগার্ড সুত্রে আরো জানা যায়, গতকাল ২ ডিসেম্বর বিজিবি ও কোষ্টগার্ড সদস্যরা পৃথকভাবে অভিযান চালিয়ে ২ লক্ষ ২০ হাজার ইয়াবাসহ ১৫ জন পাচারকারীকে আটক করেছে।
শুক্রবার সকালের দিকে টেকনাফ নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরের সেন্টমার্টিন উপক‚ল থেকে ৫০ হাজার ইয়াবাসহ ১৫ জন পাচারকারীকে আটক করে কোষ্টগার্ড। একই অভিযানে এই সদস্যরা সেন্টমাটিনের গভীর বঙ্গোপসাগর থেকে একটি ইয়াবা বহনকারী ট্রলারকে ধাওয়া করে ১ লক্ষ মালিকবিহীন ইয়াবা উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। তবে এই সমস্ত ইয়াবার সাথে কাউকে আটক করতে পারেনি কোষ্টগার্ড। অপরদিকে টেকনাফ ২ বিজিবি সদস্যরা পৌরসভার নাইট্যং পাড়া নাফনদীর উপকূল থেকে ইয়াবা পাচারকারীদেরকে ধাওয়া করে। এই সময় তাদের পেলে যাওয়া একটি পোটলা থেকে ৫০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। একইদিনে আরেক অভিযানে বিজিবি সদস্যরা সাবরাং নাফনদীর সীমান্ত এলাকা থেকে ২০ হাজার পিস মালিকবিহীন ইয়াবা উদ্ধার করে। তবে এই সমস্ত অভিযানে বিজিবি সদস্যরা কোন পাচারকারীকে আটক করতে সক্ষম হয়নি।
দেড় লক্ষ ইয়াবা উদ্ধার ও ১৫ জন পাচারকারী আটকের অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে টেকনাফ কোস্টগার্ড স্টেশন কমান্ডার লে. কমান্ডার নাফিউর রহমান জানান, মিয়ানমার থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা বাংলাদেশে ঢুকছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেন্টমার্টিনের ছেড়াদ্বীপের এক কিলোমিটার দূরে একটি ট্রলারকে ধাওয়া করা হয়। পরবর্তী ট্রলারটি আটক করে তল্লাসি চালিয়ে এক লক্ষ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। তবে এই অভিযানে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। এই সময় আরেকটি ট্রলার থেকে ৫০ হাজার ইয়াবাসহ ১৫ জন পাচারকারীকে আটক করতে সক্ষম হয়েছি। তাদেরকে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা করে টেকনাফ থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে টেকনাফের সচেতন মহল ও সুশীল সমাজের ব্যক্তিরা অভিমত প্রকাশ করে বলেন, যেভাবে দিনের পর দিন রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের সংখ্যা ও মাদক পাচার অব্যাহত রয়েছে। এইভাবে চলতে থাকলে এমন একদিন আসবে রোহিঙ্গা ও মাদকের আগ্রাসন থেকে আগামী প্রজন্মকে রক্ষা করা যাবে না। তাই আমাদের দাবি রোহিঙ্গা ও মাদক পাচার প্রতিরোধ করতে হলে অ-রক্ষিত সীমান্তকে কাঁটা তারের বেড়া দিয়ে সীমান্ত এলাকাকে রক্ষিত করে সীমান্ত প্রহরী প্রশাসনের সদস্যদেরকে আরো কঠোর ভূমিকা পালন করতে হবে।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.