
জঙ্গি রোহান ইমতিয়াজ ও অন্যতম সহযোগী তাহমিদের সঙ্গে হলি আর্টিসানের ছাদে হাসনাতের শলাপরামর্শ (বাঁয়ে)। ব্রিফিং শেষে বেরিয়ে যাচ্ছেন হাসনাত। এ সময় সশস্ত্র অবস্থায় ছিল জঙ্গিরা (গোল চিহ্নিত) ছবি : সংগৃহীত
গুলশানের হলি আর্টিসান রেস্টুরেন্ট থেকে সপরিবারে বের হয়ে আসেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক হাসনাত রেজা করিম। এর কিছুক্ষণ আগে ওই রেস্টুরেন্টের ছাদেই জঙ্গি রোহান ইমতিয়াজ ও অস্ত্র হাতে থাকা তাহমিদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।
এ সময় পাশের একটি ক্লিনিক থেকে একজন দক্ষিণ কোরিয়ান নাগরিক ডিকে হোয়াং তার মোবইলে একটি ভিডিও ও কিছু স্থিরচিত্র ধারণ করেন। সেইসব চিত্র পর্যালোচনা করে গোয়েন্দারা এখন অনেকটাই নিশ্চিত যে ওই হামলার ‘নাটের গুরু’ ছিলেন হাসনাত রেজা করিম।
শুধু তাই-ই নয়, হাসনাত রেজা করিমের মোবাইল ফোনের ফরেনসিক রিপোর্টেও এমন প্রমাণ মিলেছে যে তার মোবাইল ফোন থেকে জঙ্গি হামলার নানা তথ্য ও চিত্র ছড়িয়ে দেয়া হয়েছিল বিশ্বের নানা প্রান্তে।
ভিডিও ফুটেজেও হাসনাত করিমের সন্দেহজনক ঘোরাফেরার দৃশ্য লক্ষ করা যায়। ফুটেজে দেখা যায়, ন্যাড়া মাথার চেক গেঞ্জি ও জিন্স পরা হাসনাত একাধিক স্থানে সন্ত্রাসীদের সহযোগিতার করার মতো সন্দেহজনক আচরণ করছে। হলি আর্টিসান রেস্টুরেন্টের কাচের তৈরি মূল ফটকটিতে তাকে বেশ কয়েকবার এসে ঘুরে যেতে দেখা যায়। দুই অস্ত্রধারীর সঙ্গে ছাদেও দেখা গেছে তাকে।
গোয়েন্দা সূত্রের ভাষ্যমতে, কাছ থেকে অপারেশনটির সম্বন্বয় করার জন্যই সেদিন গুলশানের হলি আর্টিসান রেস্টুরেন্টে পরিবার নিয়ে উপস্থিত ছিলেন হাসনাত করিম। আর তাহমিদও এই অপারেশনে অংশ নিতেই সেদিনই কানাডা থেকে দেশে আসেন।
হাসনাত করিম ও তাহমিদকে নিয়ে প্রথম দিকে গোয়েন্দারা কিছুটা ধোঁয়াশার মধ্যে থাকলেও পরবর্তীতে হাসনাতের মোবাইল ফোনের ফরেনসিক ও কোরিয়ান নাগরিকের ধারণ করা স্থিরচিত্রে সেই ধোঁয়াশা কাটতে শুরু করে।
বর্তমানে এই দুজনই ৮ দিনের রিমান্ডে রয়েছেন মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে।
এর আগে গত ২ জুলাই হলি আর্টিসান রেস্টুরেন্টে জিম্মিদশা থেকে মুক্ত হওয়ার পর হাসনাত করিমের সাথে দেখা করেন তার বাবা এ আর করিম।
সে সময় তিনি হাসনাত করিমের বরাত দিয়ে জানিয়েছিলেন, সন্ত্রাসীরা অমুসলিম জিম্মিদের ধরে ধরে হত্যা করেছে। তবে হাসনাত করিমের স্ত্রী হিজাব পরায় তাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেনি তারা। রাতে একবার খেতেও দিয়েছিল।
হাসনাত ২০ বছর দেশের বাইরে ছিলেন। ইংল্যান্ডে প্রকৌশলবিদ্যায় পড়াশোনার পর যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে এমবিএ করেন। দেড় বছর আগে দেশে ফিরে আসেন তিনি।
গত ১ জুলাই রাত পৌনে ৯টার দিকে গুলশান ২ নম্বরের হলি আর্টিসান রেস্টুরেন্টে একদল অস্ত্রধারী ঢুকে বিদেশিসহ বেশ কয়েকজনকে জিম্মি করে। সকালে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে যৌথ অভিযান পরিচালনা করে ওই রেস্টুরেন্টের নিয়ন্ত্রণ নেয় নিরাপত্তাবাহিনী।
এ সময় ১৩ জন জিম্মিকে জীবিত উদ্ধারের পাশাপাশি এই ২০ জনের মৃতদেহ এবং ৬ জঙ্গির মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।
সূত্র:banglamail24.com, ডেস্ক।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.