
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম। ফাইল ছবি
জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) ভয়-ভীতি দেখিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে আওয়ামী লীগ।
৭ নভেম্বর, বুধবার বিকেলে ইসির সঙ্গে বৈঠক করে সাংবাদিকদের এ কথা জানান প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম।
এর আগে এইচ টি ইমামের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দল ইসির সঙ্গে বৈঠক করে।
তফসিল ঘোষণা থেকে বিরত থাকতে ৫ নভেম্বর ইসির সঙ্গে বৈঠক করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। ওই বৈঠকে ঐক্যফ্রন্ট ইসিকে ভয়-ভীতি দেখিয়েছে বলে অভিযোগ এইচ টি ইমামের।
ইসির সঙ্গে বৈঠক শেষে আলোচ্য বিষয় সম্পর্কে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে এইচ টি ইমাম বলেন, ‘সম্প্রতি বিভিন্ন দল, জোট নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের দাবি-দাওয়া পেশ করেছে। তাদের কেউই নির্বাচন কমিশনকে হেয়-প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করেননি কিংবা ভয়-ভীতিও প্রদর্শন করেননি। কিন্তু এর একমাত্র ব্যতিক্রম ঘটিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট, যার মধ্যে অনেক অনিবন্ধিত দলের ব্যক্তিবর্গও ছিলেন। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন যেভাবে অমার্জিত, কুরুচিপূর্ণভাবে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে কথা বলেছেন, তাতে জনগণ বিস্মিত ও হতবাক হয়ে গেছে। দল-মত নির্বিশেষে সবাই এটিকে ধিক্কার জানিয়েছে। কেউ কেউ তর্জনি উঠিয়ে ভয়-ভীতিও প্রদর্শন করেছেন নির্বাচন কমিশনকে।’
বিভিন্ন বিষয়ে আওয়ামী লীগ ইসিকে পরামর্শ দিয়েছে উল্লেখ করে এইচ টি ইমাম জানান, কমিশনের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ দেশের জনগণ সহ্য করবে না।
৮ নভেম্বর তফসিলের সমর্থন করে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, ‘নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার এখতিয়ার একমাত্র নির্বাচন কমিশনের। যেহেতু নির্বাচন কমিশন বলেছে, আগামীকাল (৮ নভেম্বর) তফসিল ঘোষণা করবে, আমরা তাদেরকে বলেছি, সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সম্পূর্ণ সমর্থন থাকবে।’
‘তফসিল ঘোষণার পর সরকারের নির্বাহী বিভাগ নির্বাচন কমিশনের অধীনে চলে যাবে। কালকের পর থেকে সরকারি দল নির্বাচন কমিশনকে নিয়ন্ত্রণ করবে নাকি স্বাধীনভাবে নির্বাচন করার জন্য কমিশনকে সুযোগ দিবে?’
এমন প্রশ্নের জবাবে এইচ টি ইমাম বলেন, ‘আমি সুস্পষ্টভাবে বলতে পারি, আমরা কখনো নির্বাচন কমিশনকে কোনোভাবে নিয়ন্ত্রণ করিনি। আমরা বরাবর চেয়েছি, আমাদের নির্বাচন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। আপনারা, জনগণ, নিবন্ধিত দলগুলো সবাই যদি সহযোগিতা করি, তাহলে নির্বাচন কমিশন এমন এক উচ্চতায় চলে যাবে, তখন আর কেউ তাকে কিছু বলার বা চোখ রাঙাবার সাহস পাবে না।’
এবারের নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে নাকি ২০১৪ সালের মতো হবে জানতে চাইলে এইচ টি ইমাম বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন বলেছে, নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে। সবাই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। আমাদের আশা, বিএনপিসহ সব দল নির্বাচনে অংশ নেবে।’
তফসিল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট কর্মসূচি দিয়েছে। একে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের সহিংসতা বন্ধে ইসিকে কোনো ধরনের অনুরোধ বা দাবি করেছেন কি না, জানতে চাইলে ইমাম বলেন, ‘এ সম্পর্কে ইসিকে আমরা কিছুই বলিনি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়-দায়িত্ব যাদের, তারাই স্বাভাবিকভাবে দায়িত্ব পালন করবে।’
নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিষয়ে এইচ টি ইমাম বলেন, ‘আমরা কখনো সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিরুদ্ধে ছিলাম না, এখনো নাই। প্রচলিত আইনের আওতায় আর্মিকে যেকোনো সময় ব্যবহার করা যায়। কমিশন প্রয়োজনে সেনাবাহিনীকে ব্যবহার করবে।’
এইচ টি ইমাম জানান, ৭ লাখ জনবল দরকার ভোট সম্পন্ন করতে। এ ক্ষেত্রে তাদের দাবি, কোনোভাবেই যাতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি ব্যাংক কিংবা এনজিওর কাউকে নির্বাচনি দায়-দায়িত্ব দেওয়া না হয়।
সূত্র:প্রদীপ দাস-priyo.com;ডেস্ক।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.