সাম্প্রতিক....
Home / প্রচ্ছদ / সাম্প্রতিক... / উখিয়ায় ওআইসির মহাসচিব ড.ইউসেফ বিন আহমাদ

উখিয়ায় ওআইসির মহাসচিব ড.ইউসেফ বিন আহমাদ

রোহিঙ্গারা নাগরিকত্ব ও মৌলিক অধিকার ফিরে পেলে স্বদেশে ফিরতে চায়

 

হুমায়ুন কবির জুশান; উখিয়া :

ওআইসির মহাসচিব ড. ইউসেফ বিন আহমাদ আল অথাইমিন বাংলাদেশের কক্সবাজারের উখিয়া কুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্টীর জন্য উন্নত ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে দুই দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। কারণ, তাঁর মতে নাগরিকত্বসহ মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত, রাখাইন রাজ্যের সংখ্যালঘু ওই জনগোষ্টীর নাগরিকত্ব নিশ্চিত করতে সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে হবে। প্রথম বাংলাদেশে সফরে এসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন।

এ ছাড়া সরেজমিনে রোহিঙ্গাদের সর্বশেষ অবস্থা জানতে তিনি ৪ আগষ্ট বেলা ১২ টায় কক্সবাজারের উখিয়া কুতুপালংয়ে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের লোকজনের সঙ্গে কথা বলেন। কুতুপালংয়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ড. ইউসেফ বিন আহমাদ বলেন, আমি সেখানে অনেক নারী-পুরুষ ও শিশুদের সাথে কথা বলেছি। তাঁদের সবাই বলেছেন, উন্নত ভবিষ্যৎ দিন। তাঁরা অন্য কিছু চাননি। আমরা যদি তাঁদের উন্নত ভবিষ্যৎ দিতে না পারি, তা স্থিতিশীলতার জন্য মঙ্গলজনক নয়। অদূর ভবিষ্যতে একটি স্থায়ী সমাধানের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর কাজ চলছে। তবে তা কখন, কোন সময় বাস্তবায়ন হবে তা এ মুহুর্তে নিশ্চিত করে বলা যাবে না।

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার কুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শনে গেলে তিনি এ কথা বলেন ওআইসির মহাসচিব ড. ইউসেফ বিন আহমাদ আল-অথাইমিন। শুক্রবার তিনি শিবির পরিদর্শন করেন। এ সময় ৫ সদস্যের  একটি উচ্চপর্যায়ের পতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন তিনি। ঢাকা থেকে বিমানে কক্সবাজার বিমানবন্দরে অবতরণের পর প্রতিনিধিদলটি সড়কপথে ২৫ কিলোমিটার দূরের উখিয়া কুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে যায়।

বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে ওই শিবিরের একটি কমিউনিটি হলে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকের শুরুতে রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ এক সাথে আবেগাপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। তিনি প্রথমে রোহিঙ্গাদের খোঁজ নেন। এরপর কোনো অভিযোগ আছে কি না জানতে চান। এ সময় একজন রোহিঙ্গা বলেন, বাংলাদেশ সরকার আমাদের (রোহিঙ্গাদের) যথেষ্ট সহযোগিতা দিচ্ছে। কিন্তু এখানে প্রকৃত সুখ-শান্তি পাচ্ছি না। আমরা নাগরিকত্ব ও মৌলিক অধিকার ফিরে পেলে নিজ জন্মভূমিতে ফিরতে চাই।

আরেক রোহিঙ্গা নারী নুর বাহার বলেন, আমার যুবতি মেয়েকে আমার চোখের সামনে ধর্ষণ করেছে। বাধা দিতে গেলে আমার স্বামীকে গুলি করে মেরেছে। তফুরা বেগম (২৫) বলেছে, সেনাবাহিনী এসেছে দেখে আমার ৮ ও ১০ বছর বয়সী দুই বোন দৌড়াচ্ছিল। তাদের গুলি করা হয়নি। আমার দুই বোনকে ছুরি দিয়ে জবাই করা হয়েছে।

তিনি তাদের কথা মনোযোগ সহকারে শুনেন এবং গভীর সমবেদনা জানান। ওআইসি রোহিঙ্গাদের পক্ষে আছে। তাঁদের ধৈর্য্য ধারণের ও আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়ার আহবান জানান। রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে ইতিপূর্বে বাংলাদেশ সরকার  মিয়ানমারের সঙ্গে  একাধিকবার আলাপ-আলোচনা করেছে। বর্তমানেও তা অব্যাহত আছে। আমি বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীসহ সকল রাজনৈতিক দলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। বৈঠকের আগে তিনি হেঁটে শিবিরের ভেতরে ছোট্র রোহিঙ্গাদের থাকার ঘরে ঢোকেন। সেখানে রোহিঙ্গা পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলেন। গত বছরের ৯ অক্টোবর মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে তিনটি পুলিশ ফাঁড়িতে হামলার ঘটনায় অত্যাচার ও নির্যাতনের মুখে প্রায় ৯০ হাজার (জাতিসংঘের তথ্য মতে ৭৪ হাজার) রোহিঙ্গা নাফ নদী অতিক্রম করে টেকনাফ ও উখিয়ার চারটি পৃথক রোহিঙ্গা শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে।

Share

Leave a Reply

x

Check Also

কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে মহান বিজয় দিবস উদযাপিত

—V প্রেস বিজ্ঞপ্তি :কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদায় বিজয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। দিবসের ...

Portrait of a professional, showcasing contact details and role information.