সাম্প্রতিক....
Home / প্রচ্ছদ / উপকূলে ভেজাল পণ্য : হুমকির মূখে জনস্বাস্থ্য!

উপকূলে ভেজাল পণ্য : হুমকির মূখে জনস্বাস্থ্য!

(4) - Jinsin - 2শহীদুল ইসলাম কাজল; মহেশখালী :
কক্সবাজার উত্তর উপকূলে ভেজাল পণ্যে সয়লাব হওয়ায় হুমকির মূখে পড়েছে জনস্বাস্থ্য। প্রশাসনের নজরদারী না থাকায় নিম্নমানের ভোগ্য পণ্য প্রস্তুতকারী অসাধু পাইকারী ব্যবসায়ীরা পণ্য বাজারজাতকরণ ও উত্পাদনের জন্য বেছে নেয় উপকূলের গ্রামাঞ্চল। অভিযোগ উঠেছে, বিশেষ করে কক্সবাজার উত্তরের অন্যতম পাইকারি পণ্যের বদরখালী বাজার, পেকুয়া (কবির আহমদ চৌধুরী) বাজার, কুতুবদিয়ার বড় ঘোপবাজার, চকরিয়া পৌরসভা ও মহেশখালীতে নিম্নমানের ও ভেজাল ভোগ্য পণ্যের বেশ কিছু পাইকারী দোকান রয়েছে। জলে ও স্থলে যাতায়াত সুবিধা থাকায় উপকূলীয় এলাকার ব্যবসায়ীরা পেকুয়া এবং বদরখালী বাজার থেকে পণ্য সংগ্রহ করে উপকূলীয় এলাকার গ্রাম-গঞ্জের অলিতে গলিতে প্রতিনিয়ত বিক্রি করে থাকেন। স্থানীয়দের অভিযোগ গ্রামাঞ্চলের বড় বাজার গুলোতে প্রায় সময় ভেজাল, মেয়াদ উত্তীর্ণ, নিম্নমানের পণ্যের অবাধ কেনা কাটা থাকলেও দেখার যেন কেউ নেই। বিশেষ করে শিশু খাদ্য ও পানীয় (জুস), স্বাস্থ্যের ক্ষতিক্ষর বিক্রয় নিষিদ্ধ যৌন উত্তেজক দেশি বিদেশি নিম্নমানের বিভিন্ন প্রকারের পানীয়/ ট্যাবলেট আইটেম হাত বাড়ালেই পাওয়া যায় যত্রতত্র। ফলে বিপদগামী হচ্ছে উঠতি বয়সের তরুণ ও যুব সমাজ এমনটি মনে করেন অভিভাবকেরা।
এছাড়া বাজারে কলার আড়ত্গুলোতে জনস্বাস্থের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর ফরমালিন ও অন্যান্য কেমিক্যাল ব্যবহার করায় বিভিন্ন প্রকার জটিল রোগ ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে উপকূলীয় এলাকার স্বাস্থ্যসেবা বঞ্চিত অবহেলিত জনগোষ্ঠি।
অভিযোগ পাওয়া যায়, কক্সবাজার জেলা উত্তরের পাইকারী পণ্যের বাজার গুলোতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তেমন কোন অভিযান পরিচালিত না হওয়ায় বেপরোয়াভাবে চলছে মেয়াদ উত্তীর্ণ, ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্যের অবাদ বিক্রি। জানা যায়, প্রতি বছর পবিত্র রমজান সামনে রেখে পাইকারী ব্যবসায়ী নিম্নমানের ভোগ্য পণ্যের অতিরিক্ত মজুদ করে রাখেন। বদরখালী বাজারে নিম্নমানের শিশু খাদ্যের বিক্রি অব্যাহত থাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মূখীন হচ্ছে শিশু স্বাস্থ্য।
সরেজমিনে উপকূলের বিভিন্ন এলাকা পরির্দশনে দেখা যায়, ক্ষতিক্ষর কেমিক্যাল/ রং মিশ্রিত বিভিন্ন প্রকার শিশু খাদ্য ও পানীয় (চকলেট, চানাচুর, বিস্কুট,জুস, স্যাকারিন মিশ্রিত মুড়ির প্যাকেট, টকঝাল, মিষ্টি আচার, স্থানীয়ভাবে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরী কেক, বন, পাউরুটি থেকে শুরু করে হরেক রকমের নিম্নমানের ভোগ্য পণ্যের) প্রতি আর্কষণ বেশি ছাত্র ছাত্রীদের। অভিভাবকরা জানান, স্কুল ছুটির পর বাড়ী ফেরার পথে খালি পেটে এসব নিম্নমানের খাবার খেয়ে বিভিন্ন প্রকার রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন ছাত্র-ছাত্রীসহ গ্রামাঞ্চলের শিশুরা। এছাড়া উপকূলীয় এলাকার বাজার গুলোতে পরিমানে কম দেওয়ার অভিযোগ প্রায় শুনা যায়।
মহেশখালী, কুতুবদিয়া, পেকুয়া ও চকরিয়ার হাঠবাজার গুলোতে ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের হলেও কার্যত কোন পদক্ষেপ না থাকায় বাজার সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার পাচ্ছেনা ভোক্তভুগিরা এমনই জানান ক্রেতারা। বিশেষ করে বদরখালী বাজারে পরিমাপে কম দেওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের হলেও তা নিয়ে কার্যত কোন ভূমিকা নেই বাজার পরিচালনা সমিতি কিংবা প্রশাসনের। বিশেষ করে ওই বাজারে মাংস বিক্রেতা সিন্ডিকেট ক্রেতাদের’কে পরিমানে কম দিলেও তা নিয়ে বাজার সমিতি ও স্থানীয় চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ দিলেও কোন প্রতিকার পাওয়া যায়না বলে জানান ভোক্তভুগিরা।
বদরখালী বাজারের খাবার হোটেল গুলোতে দীর্ঘদিন থেকে পচাঁ ও ভাসি খাবার বিক্রি হলেও মাথা ব্যথা স্থানীয় চেয়ারম্যান কিংবা উপজেলা স্যানিটেশন কর্মকর্তার। অভিযোগ পাওয়া যায়, মাঝে মধ্যে স্যানিটেশন কর্মকর্তা পরির্দশনে আসলেও অভিযুক্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে সুবিধা নিয়ে ম্যানেজ হওয়ায় মানসম্মত পণ্যের নিশ্চয়তা পাচ্ছেনা ভোক্তা সমাজ।
এছাড়া ঔষধ প্রশাসনের তেমন নজরদারী না থাকায় ওই বাজারের কয়েকটি ফার্মেসীতে মেয়াদ উত্তীর্ণ ঔষধ বিক্রির মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সরকার কর্তৃক কালো তালিকাভুক্ত বেশ কয়েকটি ঔষধ কোম্পানীর বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ১৫-২০ টাকায় কেনা ভিটামিন (আমলকি প্লাস, জিনসিন পাওয়ার) বোতল ১০০-১৫০ টাকায় বিক্রি করে যাচ্ছেন গ্রামাঞ্চলের অশিক্ষিত লোক জনের মধ্যে। অভিযোগ উঠেছে, নামে বেনামে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে এল.এম.এ.এফ প্রশিক্ষণ নিয়ে ডিগ্রী (সনদ) প্রাপ্ত চিকিত্সকদের মতো নামে সাথে ডাক্তার লিখে চেম্বারে বসে ১০০-১৫০ টাকা ভিজিট নিয়ে নিম্নমানের বিভিন্ন ঔষধ কোম্পানীর ঔষধ দিয়ে চিকিক্সা সেবার নামে রোগীদের সাথে প্রতারণা করে যাচ্ছেন। এছাড়া তদারকী না থাকায় হাতেকলমে প্রশিক্ষণ বিহীন লোকজন দিয়ে অনেকটা বেপরোয়া ভাবে চলছে বেকারী ও আইচক্রীম শিল্প।
এ বিষয়ে বদরখালী বাজার পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারী মোঃ শাহজাহান জানান, মেয়াদ উত্তীর্ণ, নিম্নমানের ও পরিমানে কম দেওয়া বিষয়ে অভিযোগ আসলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রশাসনের সহায়তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নওয়া হবে। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় ভেজাল মেয়াদ উত্তীর্ণ নিম্নমানের পণ্যের অবাদ বিক্রয়, উত্পাদন রোধকল্পে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উপকূলবাসির।

Share

Leave a Reply

x

Check Also

https://coxview.net/wp-content/uploads/2023/01/BGB-Rafiq-24-1-23.jpeg

বিপুল পরিমাণ পপিক্ষেত ধ্বংস করল বিজিবি

মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম; লামা-আলীকদম : পার্বত্য জেলা বান্দরবানে থানচি উপজেলা গহীণ অরণ্যে মাদক দ্রব্য প্রস্তুতকারক ...

Portrait of a professional, showcasing contact details and role information.