সাম্প্রতিক....
Home / প্রচ্ছদ / সাম্প্রতিক... / এখনো ক্রেতা শূন্য কোরবানির হাট : খামারিদের মাথায় হাত

এখনো ক্রেতা শূন্য কোরবানির হাট : খামারিদের মাথায় হাত

সংগৃহীত ফটো

হুমায়ুন কবির জুশান; উখিয়া :

কোরবানির ঈদ সামনে রেখে উখিয়ায় হাটগুলোতে পর্যাপ্ত পশু থাকলেও তেমন বেচাকেনা নেই। করোনার কারণে জেলার বাইরের ব্যবসায়ীরা পশু কিনতে আসছেন না। পশুর হাটের ওপর ভরসা করতে পারছেন না উখিয়ার গরু খামারিরা। আদৌ হাট জমবে কিনা, ক্রেতারা আসবে কি না- এ ধরণের নানা চিন্তা পেয়ে বসেছে তাদের। এছাড়া করোনা পরিস্থিতিতে তারা লাভবান হতে পারবেন কি না- সে হিসাবও মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। সবমিলিয়ে দুশ্চিন্তা পিছু ছাড়ছে না খামারি ও পশু ব্যবসায়ীদের। তাই হাটের জন্য অপেক্ষায় না থেকে এখন থেকেই যারা কোরবানি করবেন তাদের সাথে মোবাইলে যোগাযোগের মাধ্যমে গরু বিক্রির চেষ্টা করছেন তারা।

খামারিরা বলছেন, পরিস্থিতি বুঝেই তারা সিদ্ধান্ত নিতে চান। দাম পেলেই কেবল গরু হাটে তুলবেন। অন্যথায় লোকসান দিয়ে তারা গরু বিক্রি করবেন না। যে কারণে সঠিক দামে আগে থেকেই বিক্রির চেষ্টা করছেন।

আরিফ নামের এক খামারি বলেন, পশু খাদ্যের অতিরিক্ত মূল্য। এছাড়া অন্যান্য খরচ মিলে গরুর লালন-পালনে ব্যয় বেড়েছে। তবে মিয়ানমার থেকে পশু না আসলে এবং হাটে ক্রেতা সমাগম হলে লোকসান হবে না বলে মনে করছেন তিনি।

গরু ব্যবসায়ী নুরুল আলম বলেন, তার কোরবানিযোগ্য ১০টি গরু রয়েছে। কিন্তু করোনার পরিস্থিতির কারণে এবার গরু কেনায় আগ্রহী কোনো ব্যাপারীর দেখা পাওয়া যাচ্ছে না। এতে করে পশুর হাটে ক্রেতার অভাবে দাম পড়ে যেতে পারে বলে আশংকা করছেন তিনি। এদিকে খামারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেকেই বলেছেন, করোনার কারণে সংকটে রয়েছেন মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষেরা। যারা সাধারণতঃ একাধিক ভাগে কোরবানি দিয়ে থাকেন। ফলে তাদের অনেকেই চলতি বছর কোরবানি দিতে পারবেন কিনা- তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। এতে করে কোরবানির পশু বিক্রি কমে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। করোনা মহামারি থেকে বাঁচার অন্যতম একটি উপায় হচ্ছে ভিড় এড়িয়ে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা। সামাজিক দূরত্ব না মানার কারণেই আমাদের দেশে করোনা বেশি ছড়িয়েছে বলে ধারণা করছেন সচেতন মহল। আর আমাদের মানুষগুলোও এ বিষয়ে অভ্যস্ত নয় বিধায় উখিয়াতে কোরবানির পশুর হাটে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীর সহযোগীতা চেয়েছেন এখানকার সুশীল সমাজ। কোরবানির পশুর হাটে একটি পশু থেকে আরেকটির পশুর দূরত্ব পাঁচ ফুট থাকতে হবে। কিন্তু কোনো পশুর হাটে এ নিয়ম মানা হচ্ছে না। এছাড়াও পশুর হাট বসানোর জন্য পর্যাপ্ত খোলা জায়গা থাকতে হবে। মুখে মাস্ক না থাকলে ক্রেতা-বিক্রেতাকে হাটে প্রবেশ করতে না দেয়া, হাটে প্রবেশ মুখে তাপমাত্রা পর্যবেক্ষণকারী যন্ত্র স্থাপন এসব কিছুই চোখে পড়ছে না।

পরিকল্পিত উখিয়া চাই এর আহবায়ক সাংবাদিক নুর মোহাম্মদ সিকদার জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে ঈদ-উল-আজহায় সারাদেশে কোরবানির পশুর হাট থেকে করোনাভাইরাস সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি ও পরামর্শ মেনে চললে হয়তো সংক্রমণ প্রতিরোধ করা যাবে।

এদিকে প্রতি বছর কোরবানির সময়ে বিভিন্ন এনজিওর পক্ষ থেকে রোহিঙ্গাদের গরু বরাদ্দ দেয়া হয়। রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকা উখিয়ায় হয়তো কোরবানের ঈদ যতই ঘনিয়ে আসবে ততই পশুর হাট জমে ওঠবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

টেকনাফ মেরিন সিটি হসপিটালের এমডি মোহাম্মদ নুরুজ্জামান বলেন, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যে কোরবানি দিতে হবে। এবার অনেক মধ্যবিত্ত পরিবার কোরবান করতে পারবেন না। করোনার এই সময়ে আমরা অসহায় মানুষের পাশে থাকবো এমনটাই প্রত্যাশা করেন তিনি।

Share

Leave a Reply

x

Check Also

কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে মহান বিজয় দিবস উদযাপিত

—V প্রেস বিজ্ঞপ্তি :কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদায় বিজয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। দিবসের ...

Portrait of a professional, showcasing contact details and role information.