সাম্প্রতিক....
Home / প্রচ্ছদ / সাম্প্রতিক... / কুতুবদিয়ায় পূর্ণিমার জোয়ারে সাগরের পানি ফুঁসে উঠে ব্যাপক এলাকা প্লাবিত

কুতুবদিয়ায় পূর্ণিমার জোয়ারে সাগরের পানি ফুঁসে উঠে ব্যাপক এলাকা প্লাবিত

এম.রাসেল খাঁন জয়; কুতুবদিয়া :

কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ায় ১২ জুন (সামবার) দিবাগত বাতে ও দুপুরে সাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ হওয়া ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ফুসেঁ উঠা পূর্ণিমার জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেয়ে ভাঙ্গা বেড়িঁবাধ দিয়ে ও বেড়িবাধ টপকে ২ দপায় সাগরের লোনা পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে ব্যাপক এলাকা প্লাবিত হয়েছে। দমকা হাওয়ার তোড়ে সমুদ্রের লোনা পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে ঘর-বাড়ি, মূল্যবান মালামাল নষ্ট হয়ে যায়। সমুদ্রের লোনা পানি লোকালয়ে প্রবেশ করতে দেখে বেঁড়িবাধ এলাকার লোকজন আশ্রয় কেন্দ্রর আশ্রয় নিতে দেখা গেছে।

১২ জুন দুপুরে উপজেলার আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নের কাহার পাড়া, তেলি পাড়া, কিরণ পাড়া সরজমিনে গেলে সমুদ্রের পানিতে প্লাবিত হওয়ার দৃশ্য চোখে পড়ে। এ ব্যাপারে স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি মোঃ বেলাল, আব্দুল মোনাফ, মুহাম্মদ সাদেক জানায়, গত রবিবার রাতে জোয়ারের সময় পানি এক দফা প্রবেশ করে। সোমবার ফের দুপুরে জোয়ারের সময় ২ দফায় বেড়িঁবাধ দিয়ে সাগরের লোনা পানি বসত বাড়িতে প্রবেশ করে কয়েকটি  গ্রামে। বেঁড়িবাধ সংলগ্ন চৌধুরী পাড়া, কিরণ পাড়া, কাজীর পাড়া, নাছিয়ার পাড়া, কাহার পাড়া, তেলি পাড়া, পন্ডিত পাড়া, বায়ু বিদ্যুৎ ও তাবলরচর এলাকা দিয়ে দুপুর বাড়ার সাথে সাথে জোয়ারের পানি বাতাসের তোড়ে বসত ভিটে  ঢুকে পড়ে। এ সময় অনেকেই স্থানীয় টেকপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশয় নেয়। গৃহপালিত পশু-পাখি ও মূল্যবান মালামাল সমুদ্রের লোনা পানিতে ভেঁসে যায়। মুহুর্তের মধ্যে কাজির পাড়ার প্রায় ২শতাধিক পরিবার পানিতে তলিয়ে যায়। সব মিলিয়ে বেশ কয়েকটি গ্রামের প্রায় ২ হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে এলাকাবাসী জানায়।

এ ছাড়াও উপজেলার বড়ঘোপ, কৈয়ারবিল, দক্ষিণ ধূরুং, লেমমীখালী, উত্তর ধূরুং ইউনিয়নের প্রবল বাতাসের তোড়ে কাচাঁ ঘর-বাড়ি ও গাছপালা নষ্ট হয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

এ ব্যাপারে আলী আকবর ডেইল ইউপি চেয়ারম্যান নূরুচ্ছাফা বি,কম জানায়, সাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে পূর্ণিমার জোয়ারে স্বাভাবিকের চেয়ে ৩/৪ ফুট  পানি বৃদ্ধি পেয়ে প্রবল বাতাসের তোড়ে সমুদ্রের লোনা পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে শত-শত কাঁচা ঘর-বাড়ি নষ্ট হয়ে যায়। প্রায়  ৫শত ছোট-বড় মৎস্য ঘের সমুদ্রর লোনা পানিতে তলিয়ে গিয়ে ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়। বর্তমানে অনেকে আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছেন।

এদিকে তাৎক্ষণিক ভাবে প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এ.টি.এম নূরুল বশর চৌধুরী, উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা সুজন চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আওরঙ্গজেব মাতবর, সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ শহিদুল ইসলাম লালা প্রমুখ।

এ সময় উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা সুজন চৌধুরী বলেন, যে সব এলাকায় জোয়ারের পানি প্রবেশ করেছে সেই সব এলাকার লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ক্ষয়-ক্ষতি সম্পর্কে জেলা প্রশাসককে অবহিত করবেন বলেও জানায়।

Share

Leave a Reply

x

Check Also

কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে মহান বিজয় দিবস উদযাপিত

—V প্রেস বিজ্ঞপ্তি :কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদায় বিজয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। দিবসের ...

Portrait of a professional, showcasing contact details and role information.