পৃথিবীর মানচিত্রে নবীন রাষ্ট্রটির নাম দক্ষিণ সুদান। ২০১১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর দেশটিতে গৃহবিবাদ আর উপজাতি সংঘাত শুরু হয়ে যায়।
জাতিসংঘের হিসাবে এই সংঘাত-সহিংসতায় গৃহহীন হয়েছে ২০ লাখেরও বেশি মানুষ। আর মারা গেছে কয়েক লাখ লোক।
সারা দেশে যখন এই উথাল-পাথাল চলছে তখন রাজধানী জুবা থেকে উত্তরে নীল নদের তীরে বাস করা মুনদারি উপজাতি ভাবলেশহীনভাবে অস্ত্র হাতে তাদের গরু পাহারা দিচ্ছে। আর দেবেই না কেন? এই গরুই যে তাদের কাছে সব।
মুনদারি সম্প্রদায়ের কাছে সবচেয়ে প্রিয় প্রাণী হচ্ছে লম্বা শিংওয়ালা সাদা গরু। ওরা একে ডাকে ‘অ্যাঙ্কোল-ওয়াতুসি’ নামে অর্থাত্ পশুদের রাজা।
এই গরুগুলো আট ফিট পর্যন্ত লম্বা হয়। আর এগুলো একেকটি বিক্রি হয় ৫০০ মার্কিন ডলারে। তাই স্বাভাবিকভাবেই এটি মুনদারি জনগোষ্ঠীর কাছে সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। তাদের কাছে এটা ভ্রাম্যমাণ গুদাম ঘর, ওষুধের দোকান, যৌতুক এমনকি ঘনিষ্ঠ বন্ধু।
আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন স্থির চিত্রগ্রাহক তারক জাইদি চলতি বছরের শুরুর দিকে মুনদারি জনগোষ্ঠীর সঙ্গে কয়েক দিন কাটিয়েছেন। এ সময় তিনি গভীরভাবে তাদের জীবনযাত্রার দিকে পর্যালোচনা করেছেন।
তিনি বলেন, মুনদারিদের কাছে এই প্রাণীগুলোর গুরুত্ব কত বেশি তা বলে শেষ করা যাবে না। এগুলোই তাদের কাছে সবকিছু। আমি যত পুরুষের সঙ্গে দেখা করেছি, তারা সবাই স্ত্রী-সন্তানদের তুলনায় তাদের প্রিয় গরুর সঙ্গে ছবি তুলতে চেয়েছে।’
লম্বা আর পেশিবহুল মুনদারিরা সুঠাম দেহের অধিকারী। দুধ আর দই তারা বেশি খায়। গোমূত্র তারা অ্যান্টিসেপটিক হিসেবে ব্যবহার করে। আর গোবর জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের পর এর ছাই অ্যান্টিসেপটিক এবং রোদ থেকে বাঁচতে চেহারা ও গায়ে সানস্ক্রিন লোশন হিসেবে ব্যবহার করে।
মুনদারিরা তাদের এই গৃহপালিত প্রাণীটির সঙ্গে ঘুমায় এবং মেশিনগান হাতে একে পাহারা দেয়। এর কারণ হিসেবে জাইদি বলেন, তাদের কাছে গরু অর্থেরই আরেক রূপ। এ ছাড়া এটি পারিবারিক মর্যাদা, অবসরের আয় অথবা যৌতুক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
সূত্র:risingbd.com
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"





You must be logged in to post a comment.