সাম্প্রতিক....
Home / জাতীয় / ঘূর্ণিঝড়ের নামগুলো এমন কেন!

ঘূর্ণিঝড়ের নামগুলো এমন কেন!

মোরা। ছবি: সংগৃহীত।

বাংলাদেশের উপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’। আমাদের দেশের মোরা শব্দের অর্থ ‘আমরা’ হলেও, থাই ভাষায় মোরা শব্দের অর্থ ‘সাগরের তারা’। থাই ভাষাতেই এর নাম করণকরা হয়েছে এবার। ‘মোরা’ ছাড়াও আরও কিছু ঘূর্ণিঝড়ের নাম হচ্ছে- নার্গিস, সিডর, রেশমী, বিজলি, ফাইলিন, হেলেন, লহর, মাদী, নানাউক, হুদহুদ, নিলুফার, প্রিয়া, কোমেন, চপলা, মেঘ, ভালি, কায়নতদ, নাদা, ভরদাহ, সামা, অক্ষি, সাগর, বাজু, দায়ে, লুবান, তিতলি, দাস, ফেথাই, ফণী, বায়ু, হিকা, কায়ের, মহা, বুলবুল, সোবা ও আমপান। এই নামগুলো পূর্ব থেকেই নির্ণীত থাকে। ভারত মহাসাগরে সৃষ্ট সব ঝড়ের নামকরণ করে WMO-এর আটটি সদস্য রাষ্ট্র। দেশগুলো হচ্ছে- বাংলাদেশ, মিয়ানমার, ভারত, পাকিস্তান, মালদ্বীপ, শ্রীলংকা, থাইল্যাণ্ড এবং ওমান। এই আট রাষ্ট্রকে একত্রে ‘স্কেপে’ বলা হয়।

সিডর। ছবি: সংগৃহীত।

কিন্তু কেন এমন নাম করণ করা হয়? প্রতিটি ঘূর্ণিঝড়ের একটি ভৌগলিক অবস্থান থাকে। সে অবস্থান ব্যক্ত করতে গেলে বাক্য দীর্ঘায়িত হয়ে যায়। যেমন ধরুন, ‘তিন ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ ও ৭২ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশের ঝড়টি এখন মিয়ানমারের দিকে ধেয়ে আসছে’- এ বাক্যটি বলার চেয়ে ‘ঘূর্ণিঝড় ‘হেলেন’ ধেয়ে আসছে’ বলা অনেক সহজ। আর যেহেতু ঘূর্ণিঝড় একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সেহেতু গণ সচেতনতা বৃদ্ধিতে কিংবা সতর্কতা জারিতে বারবার একটি দীর্ঘ বাক্য বলার চেয়ে ঘূর্ণিঝড়ের একটি নামকরণ করে নিলে বিষয়টি সহজ হয়।

রোয়ানু ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ। ছবি: সংগৃহীত।

আগে ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জের ঝড়গুলোর নাম হতো ‘সন্ত’দের নামে। যেমন সান্তা আনা, স্যান ফেলিপ ১, স্যান ফেলিপ ২ ইত্যাদি। সন্তদের পরবর্তীতে ঝড়ের নামকরণ করা হতো অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশের উপর ভিত্তি করে। বিভিন্ন অভিজ্ঞতায় দেখা গিয়েছে সন্ত বা অক্ষ-দ্রাঘিমা কেন্দ্রিক নামগুলো মানুষের কাছে একটু বেশিই জটিল শোনায়। তাই এসব নামের চেয়ে সংক্ষিপ্ত ও সুনির্দিষ্ট নামকরণ- গণযোগাযোগের ক্ষেত্রে অধিকতর সহজ। তাই ২০০০ সালে স্কেপের প্রস্তাবানুযায়ী প্রতিটি দেশ থেকে ১০টি করে নাম জমা নেওয়া হয়েছিল ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করার জন্য। উক্ত নামগুলো থেকেই পরবর্তী ঘূর্ণিঝড়গুলোর নামকরণ করা হয়। ঝড় যেহেতু মৃত্যু ও ধ্বংসের সঙ্গে জড়িত, তাই কোনো নাম পুনরায় ব্যবহার করা হয় না।

আইলা দুর্গত অঞ্চল। ছবি: সংগৃহীত।

এর আগে ‘রোয়ানু’ নামক একটি ঘূর্ণিঝড়ের নাম শোনা গিয়েছিল। ‘রোয়ানু’ শব্দটি দ্বীপরাষ্ট্র মালদ্বীপের ভাষার একটি শব্দ। বাংলায় রোয়ানু শব্দের অর্থ দাঁড়ায় ‘নারকেলের ছোবড়ার আঁশের দড়ি’। এছাড়াও ‘সিডর’ ঘূর্ণিঝড়, যার বাংলা হচ্ছে চোখ। সিডর শব্দটি সিংহলী ভাষার শব্দ থেকে এসেছে। আর আইলা শব্দের অর্থ হচ্ছে ‘ডলফিন’। সর্ব প্রথম যে ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করা হয়েছিল, সেটা ছিল প্রায় ৩০০ বছর আগে শ্রীলংকার একজন মহাপরাক্রমশালী রাজা ‘মহাসেন’এর নামে।

সূত্র:শিবলী আহমেদ/priyo.com,ডেস্ক।

Share

Leave a Reply

x

Check Also

কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে মহান বিজয় দিবস উদযাপিত

—V প্রেস বিজ্ঞপ্তি :কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদায় বিজয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। দিবসের ...

Portrait of a professional, showcasing contact details and role information.