
এম আবুহেনা সাগর; ঈদগাঁও :
চাকুরী নিয়মিত করণ, চাকুরীচ্যুতদের পুন:বহাল ও কাজের পরিমাণ কমানোর দাবীতে জেলা ব্যাপী পল্লী বিদ্যুতের মিটার রিডার কাম ম্যাসেঞ্জারদের কর্মবিরতি কর্মসূচী উপলক্ষে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা বরাবরে ১০ অক্টোবর স্মারকলিপি প্রদান করেছেন মিটার রিডার কাম ম্যাসেঞ্জারগণের পক্ষে আলা উদ্দিন নামের পবিসের চুক্তিভিক্তিক এক কর্মচারী।
তবে স্মারকলিপি সূত্র মতে, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের আওতায় ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে মিটার রিডার কাম ম্যাসেঞ্জার (চুক্তিভিক্তিক) হিসেবে কর্মরত আছে তারা। বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও জননেত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা মোতাবেক- শেখ হাসিনার উদ্যোগ, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ। কিন্তু দু:খের বিষয় ঘরে ঘরে মিটার লাগলেও গণহারে তাদেরকে ছাটাই করা হচ্ছে।বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডে অনুষ্ঠিতব্য বিগত ২০১২ সালের ২০ ডিসেম্বর ৪৯৪ তম বোর্ড সভায় সিদ্ধান্ত নং ১২৫৯২ মোতাবেক একই একই পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে ৯ বছর চাকুরী করার পর অভিজ্ঞতার আলোকে বিহীন সমিতিতে আবেদনের মাধ্যমে পরীক্ষা ৫৫ বছর বয়স পর্যন্ত চাকুরী করার সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়। কিন্তু কতিপয় কিছু অসাধু কর্মকতারা তাদের অসৎ উদ্যোর্শ হাসিলের জন্য উক্ত বোর্ডের সিদ্ধান্ত বরখেলাপ করার পায়তারা করছেন পাশাপাশি সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় প্রত্যায়কে নস্যাৎ করার নীল নকশা প্রণয়নে পায়তারা করছে।
পূর্বে বিদ্যুৎ ছিল উপজেলা ও জেলা শহরসহ প্রায় এলাকায় বর্তমানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে উন্নত সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে শতভাগ বিদ্যুতায়ন হচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় গ্রামে-গঞ্জে বা পাহাড় পর্বতসহ উপকূলীয় এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়েছে। যার কারণে পূর্বের ন্যায় কাজ করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।
তাছাড়া পূর্বে বাড়ীঘরে মিটারও ছিল এনালগ। যা সহজে রিডিং করা সম্ভব, আর বর্তমানে মিটার হচ্ছে ডিজিটাল। যা রিডিং করতে এনালগ মিটারের প্রায় তিনগুণের বেশি সময় ব্যয় হয়। এমতাবস্থায় চলতি ২০১৮ সালের গত জানুয়ারী থেকে দুই হাজার রিডিং এবং সমপরিমান বিল বিতরণ করার নির্দেশ দিয়ে দপ্তরাদেশ করেন। অথাৎ তাদেরই কাজের পরিমান দ্বিগুণ করা হয়েছে। তারা কাজ সঠিকভাবে করতে পারছেনা।
সমিতিকে কাজ বুঝিয়ে দেওয়ার লক্ষে তারা তাদের বেতনের টাকা দিয়ে তাদের চাকুরীচ্যুত সহকর্মীদের দিয়ে কাজ করে চাকুরী বাঁচানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু কাজের বোঝা দ্বিগুণ হওয়ায় তাদের পক্ষে কঠিন কাজ করা সম্ভব হচ্ছেনা। যার ফলে অফিস ভূতুড়ে বিল করে তাদের উপর দোষ চাপিয়ে দেয়। এতে মাননীয় সংসদ সদস্যরা এলাকায় জনসভা করতে গেলে জনগণের রোষানলে পড়ে। এতে সর্বোপরি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে।
কাজ সঠিকভাবে করতে গিয়ে তারা ১৬ ডিসেম্বর, ১৫ আগষ্ট, ২৬ মার্চ ও ২১শে ফ্রেরুয়ারীর মত মহান জাতীয় দিবসসমুহের দিনগুলোতেও কাজ করতে হচ্ছে।এতে দেশের শ্রেষ্ট্র সন্তান বীর শহীদসহ জাতির পিতাকে অবজ্ঞা করা হচ্ছে। যা বাঙ্গালী জাতির জন্য কখনো শুভ হতে পারেনা। তাছাড়া কাজের পরিমান দ্বিগুণ করায় তা সঠিকভাবে করতে গিয়ে তারা শারিরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এতে তাদের মানবতা বিপন্ন হয়েছে।
এদিকে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মিটার রিডার কাম ম্যাসেঞ্জার ব্যতিত আর অন্য কোন পদের কর্মচারীদের উপর এমন দ্বিগুণ কাজের বোঝা চাপিয়ে দেয়া হয়না। তারা চুক্তিভিত্তিক বলেই তাদের উপর নির্যাতন সরুপ জোরপূর্বক অতি রিক্ত কাজ চাপানো হয়েছে।
উন্নয়ন মেলা ২০১৮ সালের তথ্য অনুয়ায়ী, বর্তমানে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের অধীনে ৮০টি সমিতিতে গ্রাহক সংখ্যা ২ কোটি ৩৪ লক্ষ বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুয়ায়ী ২০০০ রিডিং এবং সমপরিমান বিল বিতরনের জন্য মিটার রিডার প্রয়োজন হয় ১১৭০০ জন। কিন্তু বর্ত মানে কর্মরত রয়েছে প্রায় ৮ হাজার। এতে বাকী আরো চার হাজার কর্মীর কাজ তাদের উপর মাননীয় জেনারেল ম্যানেজারেরা বেশি করাচ্ছে।যার দরুন, আরো চার হাজার কর্মচারী কর্মহীন হয়ে চাকুরীর দাবীতে বিভিন্ন প্রেসক্লাব এবং বিআরইবি বোর্ডের সামনে মানববন্ধন, অনশনসহ নানা কর্মসুচী পালন করে চলছে। এতে এক দিকে কিছু কর্মচারী চাকুরী হারিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে, অন্যদিকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভাবর্মূতি নষ্ট হচ্ছে। এ অবস্থায় তাদের চাকুরী নিয়মিত করন এবং অভিজ্ঞতা সনদধারীদের পুন:বহাল ও কাজের পরিমাণ কমানোর প্রয়োজন। এরই প্রতিবাদ সরুপ তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন, কর্মবিরতি পালন করে যাচ্ছে। এমনকি পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের কাছেও স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। যদি বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড তাদের ন্যার্য দাবী সাদরে মেনে না নেয়, তাহলে তারা ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সমস্ত মিটার রিডার কাম ম্যাসেঞ্জারগণ অনিদিষ্ট কালের জন্য স্ব স্ব পবিসের সদর দপ্তরে কর্মবিরতি পালন করার সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়।
এই কর্মবিরতির সাথে একাত্মতা পোষণ করেন – সদর অফিসের নুর করিম, সাইফুল ইসলাম, মহি উদ্দিন, কাজী নাজমুল হক, জয়নাল আবেদীন, রাশেদুল ইসলাম, মোকতার হোসেন, দুলাল হোসেন, রিপন হোসেন, আতাউর রহমান, মোস্তাফিজুর রহমান, আমিনুল ইসলাম, হাসান, হাবিবুর রহমান, মুজিবুর রহমান।
উখিয়া জোনাল অফিস পক্ষে – আবদুল আজিজ, জাহেদুল ইসলাম, মোহাম্মদ হোসেন সরওয়ার আলম, আবদুল কাইয়ুম তালুকদার, রুহুল আমিন, শিবু দে, মাহবুবুল আলম, আবু বক্কর, নুরুল কাসেম, রাসিব তালুকদার, শাহ আলম, ইলিয়াছ মিয়া, আবদু সত্তর ভুইয়া, আলমগীর হোসেন।
টেকনাফ জোনাল অফিসের পক্ষে – সোহেল চৌধুরী, সেন্টু শর্মা, হানিফ, খালেক, হোসেন, হারুন রশিদ, ফরিদ, সজিব শেখ, আবুল কালাম, জসিম উদ্দিন, রবিউল, আয়ুব, রহিম ও খোরশেদ।
মহেশখালী জোনাল অফিসের পক্ষে – আশরাফ, মনিরুল,গোলাম আজম, সেলিম, দুলাল, সেলিম, সরওয়ার, মাহবুব, আরিফ, আহম্মদ, জাহাঙ্গীর, মান্নান, আজগর, সাইফুল, জহির ও আমির।
ঈদগাঁও সাব জোনাল অফিসের পক্ষে – আলা উদ্দিন, শফিক, সিরাজ, আজিজ, শহিদু, আমিন, কবির, খোরশেদ, সামিরুল, কিবরিয়া, সামাদ, জসিম, বাবুল শেখ, শাহিন, সুভাষ, ইকবাল ও মীর হোসেন।
চকরিয়া জোনাল অফিসের পক্ষে- শফিক, মহিদ, নাজির, দিলিপ, মামুন, বিমল, মাহমুদুল, মাসুদ, শফিক, জসিম, বদরুল, আরশেদ, জসিম, আবদু নুর, নাছির, আশরাফ, মিজান, শামশু, মইন ,রেজাউল, রবিউল, শাহজাহান, মহির ও শাহ আলম।
এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম বিভাগীয় মিটার রিডার কাম ম্যাসেঞ্জার ঐক্য পরিষদের আহবায়ক উৎপল কান্তি দে’র সাথে কথা হলে তিনি তাদের যোক্তিক দাবী বাস্তবায়নে বিভিন্ন দপ্তরে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে বলে জানান এ প্রতিবেদককে।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.