সাম্প্রতিক....
Home / প্রচ্ছদ / সাম্প্রতিক... / চিংড়ি চাষে বাংলাদেশের প্রথম পাইনিওর কক্সবাজারের অংছিন স্বর্ণপদকে ভূষিত

চিংড়ি চাষে বাংলাদেশের প্রথম পাইনিওর কক্সবাজারের অংছিন স্বর্ণপদকে ভূষিত

Aung Sein

দীপক শর্মা দীপু, কক্সভিউ :

বিদেশি রপ্তানী আয়ের নতুন ক্ষেত্র সৃষ্টিকারী কক্সবাজারের অংছিন নতুন পথ দেখিয়েছে মত্স্য চাষীদের। বাণিজ্যিক কাঁকড়া উত্পাদনে বাংলাদেশের প্রথম উদ্যোক্তা অংছিনের পথ ধরে এখন দেশজুড়ে কাঁকড়া উত্পাদনের হিড়িক পড়েছে। অংছিনেরর কারণে বাংলাদেশের রপ্তানী আয়ে নতুন করে যোগ হয়েছে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন। বিকাশ উন্মুখ শিল্প সৃষ্টিকারী অংছিন এখন বাংলাদেশের মডেল। তার পথ ধরে সারাদেশ থেকে কাঁকড়া ও কুচিয়া রপ্তানী করে গত বছর ২০১৫ সালে ১৯৯.৩৮ কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে বাংলাদেশ। তাই স্বর্ণ পদক পাওয়ার যোগ্য মানুষটি অংছিন। কথাগুলো বললেন জেলা মত্স্য কর্মকর্তা অমিতোষ সেন।

আগামী ২০ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় মত্স্য সপ্তাহ ২০১৬ উদ্বোধন করবেন। এ অনুষ্ঠানে মত্স্য চাষ উন্নয়নে বিশেষ অবদানের জন্য তথা মত্স্য উত্পাদন ও রপ্তাপনীর জন্য সারাদেশ থেকে ৫ জনকে স্বর্ণ পদক ও ১৫ জনকে রোপ্য পদক প্রদান করবেন। ৫ জন স্বর্ণ পদক পাওয়ার তালিকায় রয়েছেন কক্সবাজার শহরের এন্ডারসন রোডস্থ মৃত মেমং ও মিসেস আমা’র পুত্র অংছিন।

অংছিন বলেন, ২০১০ সালে তিনি বিদেশে রপ্তানী করার উদ্দেশ্যে চৌফলদন্ডীতে মানসম্মত কাঁকাড়া চাষ শুরু করেন। বাণিজ্যিক পদ্ধতিতে কাঁকড়া চাষে সফলতার মুখ দেখে ২০১১ সালে। মত্স্য অধিদপ্তরের সহায়তায় প্রথম বিদেশে কাঁকড়া রপ্তানী করা হয়। সেই থেকে তার আর পেছনে তাকাতে হয়নি।

সদর উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা ড. মঈন উদ্দিন আহমদ বলেন, নরম কোলস বিশিষ্ট কাঁকড়া উত্পাদন করে অংছিন। তার দেখাদেখি উত্সাহিত হয়ে জেলায় ১২৬ জন কাঁকড়া চাষী তালিকাভূক্ত হয়েছেন। এর বাইরে আরো শতাধিক ব্যক্তি কাঁকড়া চাষ করছেন। থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, জাপান, হংকং ও সিঙ্গাপুরে কাঁকড়ার প্রচুর চাহিদা রয়েছে। নিয়মিত প্রায় ২০টি দেশে কাঁকড়া রপ্তানী করা হচ্ছে।

জেলা মত্স্য কর্মকর্তা অমিতোষ সেন বলেন, চিংড়ি চাষের চেয়ে কাঁকড়া চাষ অনেকাংশ নিরাপদ বেশি। চিংড়ি সহজে ভাইরাস আক্রান্ত হয়। চিংড়ি ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে কাঁকড়া। কারণ কাঁকড়া ভাইরাস বহনকারী প্রাণী। যা চিংড়ির জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ। কাঁকড়া নিজেই ভাইরাস বহন করে বলে তারা অন্য ভাইরাসে আক্রান্ত হয়না। ভাইরাসমুক্ত কাঁকড়া চাষে ঝুঁকি না থাকায় সফলতা বেশি। আগে মানসম্মত কাঁকড়া চাষের জন্য বিদেশ থেকে প্লাস্টিকের ঝুড়ি আনা হতো। এতে প্রতিটি ঝুড়ির পেছনে  ব্যয় হতো ১৩০ টাকা। এখন সরকার দেশে এসব ঝুঁড়ি তৈরির ব্যবস্থা করার কারণে মাত্র ৩০ টাকায় ঝুঁড়ি পাচ্ছে চাষিরা। তাই কক্সবাজার জেলায় কাঁকড়া চাষ ক্রমান্বয়ে বেড়ে যাচ্ছে। যা রপ্তানী আয়ের ব্যাপক ভূমিকা রাখবে কাঁকড়া চাষ।

Share

Leave a Reply

x

Check Also

কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে মহান বিজয় দিবস উদযাপিত

—V প্রেস বিজ্ঞপ্তি :কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদায় বিজয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। দিবসের ...

Portrait of a professional, showcasing contact details and role information.