মোহাম্মদ শাহাবউদ্দীন, মহেশখালী
কক্সবাজার জেলার দ্বীপ উপজেলা মহেশখালী উপজেলার কুতুবজোম ইউনিয়নের সোনাদিয়া একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপ। যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই নাজুক ফলে ওই এলাকার জনগণ সরকারী বেসরকারী কোন ভাবে স্বাস্থ্য সেবা পাচ্ছে না। কোন প্রকার অসুস্থ হলে ওখানে চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা না থাকায় নদী ও সাগর বেষ্টিত এ এলাকার যোগাযোগ সমস্যার কারণে অধিকাংশ রোগীকে জরুরী ভিত্তিতে হাসপাতালে পৌঁছানো সম্ভব হয় না। এজন্য মারাত্মক জটিলতায় পড়েন রোগীরা এবং অনেক ক্ষেত্রে বিনা চিকিৎসায় মারাও যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সোনাদিয়ায় স্থায়ী অস্থায়ী ব্যাবসায়ীক ভাবে প্রায় ৩ হাজার মানুষের বসবাস।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, সোনাদিয়ার পশ্চিম পাড়ার শফি আলমের স্ত্রী সাফিয়া বেগম গত এক সাপ্তাহ আগে অসুস্থ হয়ে পড়ে। নৌ পথে উপজেলা হাসপাতালে আসার পথে তার মৃত্যু হয়।
এছাড়াও উক্ত এলাকায় ১ বছরে একবারও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কোন কর্মী দেখা মিলেনি বলে জানান ওই এলাকার সাকের আলম, ওবাইদুল হক, ফারুক, রহিমা, জন্নাত সহ অনেকে। যার ফলে ৩৫ বছর বয়সী মহিলার ৬/৭টি করে সন্তান রয়েছে। যা সচেতন মহলকে ভাবিয়ে তুলেছে। এছাড়াও গড়ে প্রতি পরিবারে ৫ সন্তান করে রয়েছে বলে স্থানীয় আজিজ মিয়া জানান।
ওই এলাকার বাসিন্দা পরিবেশবাদী ও জলবায়ু নিয়ে কাজ করেন গিয়াস উদ্দীন। সে জানান, সোনাদিয়ার জনগণ দ্বীপে কোন প্রকার সরকারী বেসরকারী চিকৎসা সেবা পায় না। যার ফলে আর্টম্যান আমিন রোগিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে থাকে। সে আরো জানান সে না থাকলে অনেক রোগী মারা যেত। কারণ সে স্যালাইন দেওয়া, ছোট কাটা সেলাই, গর্ভবতীদের ইনজেকশান পর্ষন্ত দিয়ে থাকে বলে জানান।
এ ব্যাপারে আমিনুল ইসলাম ওরফে জামাই আমিন জানান, সে পেশায় একজন আর্টম্যান, সোনাদিয়ার দ্বীপের মানুষের কথা চিন্তা করে উপজেলা সদরের বিভিন্ন ডাক্তারের কাছ থেকে প্রাথমিক চিকিৎসার ধারানা নিয়ে জনগনের সেবা দিচ্ছে বলে জানান। পাশাপাশি সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের একটি এনজিওর মাধ্যমে শিক্ষা দিয়ে থাকে।
এদিকে আমিনের লেখাপড়া ৮ম শ্রেনী পর্ষন্ত হলেও সোনাদিয়ার জনগণ তার কাছ থেকে চিকিৎসা সেবা পাওয়ায় তার কাছে কৃতজ্ঞ প্রকাশ করলেও সরকারী সেসরকারী সেবা না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন এলাকার জনগণ।
এদিকে সোনাদিয়ার পূর্ব পাড়ার আলতাজ বেগম পেটের ব্যাথা নিয়ে বাড়িতে ভুগছিলেন কয়েকদিন ধরে। পরিবারের লোকজন আন্তাজ মতে ওষুধ সেবন করিয়ে ব্যাথা নিবারনের চেষ্টা করেন, কিন্তু কোন কাজ হয়না। পরে তাকে শংকটাপন্ন অবস্থায় নৌকায় কক্সবাজার হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে সে প্রাণে রক্ষা পায় সম্প্রতি।
সোনাদিয়ার ইউপি সদস্য আবদুল গফুর জানান, চরাঞ্চলের মানুষের নানা সমস্যার মধ্যে অন্যতম হল চিকিৎসা ব্যবস্থা। সরকারি স্বাস্থ্য কর্মীদের সোনাদিয়ায় যাতায়াতের ক্ষেত্রে রয়েছে অনীহা। নারী ও শিশুদের নানাবিধ স্বাস্থ্য সমস্যা থাকলেও তা বলার মতো কাউকে পান না। তিনি আরো জানান, সোনাদিয়া স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে স্বাস্থ্য সেবা প্রদানে আরো দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন। এছাড়াও পরিকল্পনা বিভাগের অবেহেলার কারনে জন্ম নিয়ন্ত্রণ রোধ করা যাচ্ছে না বলেও জানান।
মহেশখালীর সিনিয়র সাংবাদিক জয়নাল আবেদীন এ প্রসঙ্গে বলেন, বর্তমান সরকার প্রত্যন্ত অঞ্চলে সবার জন্য স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করলেও কার্যত এর সুফল পাচ্ছেন না সোনাদিয়ার মানুষ। সেজন্য জরুরী চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে প্রশিক্ষিত ধাত্রী, পল্লী চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধি, রোগীদের হাসপাতালে পৌছানোর জন্য স্পীডবোট, স্বাস্থ্যকর্মীদের আবাসিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা একান্ত অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মহেশখালী উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সেরাজ আহমদ সোনাদিয়ায় জন্ম নিয়ন্ত্রণ না থাকার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, সোনাদিয়ায় এফডাব্লিউএ রোকসানা খানম ও স্বেচ্ছাসেবীকা নাহিদা আক্তার দায়িত্ব থাকলে তারা বিচ্ছিন্ন দ্বীপ হওয়াতে ঘটিভাংগা থেকে যাচ্ছে না।
মহেশখালী হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার মাহফুজুল হক বলেন, সোনাদিয়ার স্থায়ী কোন স্বাস্থ্য কর্মী নাই, তাই দুর্গম এলাকা হিসাবে ক্রাস প্রোগ্রামের আওতায় ৩ মাস অন্তর ওই এলাকায় সেবা দিয়ে থাকে।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"



You must be logged in to post a comment.