
বাগানের নামে সীমানা প্রাচীর ও কাঁটাতারের বেড়া
মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম; লামা :
নিয়মিত বন উজাড় করে শিল্প-কারখানা নির্মাণ, সরকারী বেসরকারী আবাসন, রাস্তাঘাট ও বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন, ব্যক্তি মালিকানা বাগানের নামে সীমানা প্রাচীর ও কাঁটাতারের বেড়া তৈরি করে হাতি চলাচলের ক্রসিং বা এক আবাসস্থল থেকে আরেক আবাসস্থলে যাওয়ার করিডরগুলো বন্ধ করায় দিনে দিনে হারিয়ে যেতে বসেছে হাতির সংখ্যা।
যাতে করে ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশে হাতির আবাসস্থল। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা আইইউসিএন এর ২০১৬ সালের জরিপ সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করা হাতির সংখ্যা ২৬৮টি। এর মধ্যে পুরুষ প্রজাতির ৬৭ এবং স্ত্রী ১৭২টি। বাকি ২৯টি বাচ্চা। এছাড়া ভারত ও মিয়ানমার থেকে বছরে গড়ে ৯৩টি হাতি এপার-ওপার আসা-যাওয়া করে। পাশাপাশি বাংলাদেশে ব্যক্তি মালিকানায় হাতি আছে ৯৬টি। যেগুলো সার্কাস, বিয়ের অনুষ্ঠান ও পাহাড়ি এলাকায় ভারী কাঠ আনা-নেওয়ার কাজে ব্যবহৃত হয়।
সম্প্রতি সময়ে লক্ষ্য করা যায় ব্যাক্তিগত বনায়নের নামে সমগ্র পার্বত্য এলাকায় জায়গার মালিকরা সীমানা প্রাচীর নির্মাণ বা কাঁটাতারের বেড়া দিচ্ছে। এতে করে ব্যাহত হচ্ছে হাতির স্বাভাবিক চলাচল।
অপরদিকে বন বিভাগের পক্ষ থেকে হাতির নিরাপদ আবাসস্থল বা চলাচলের রোড সাইনবোর্ড দিয়ে নির্ধারণ করা হলেও তা কেউ মানছেনা। হাতির চলাচল পথে বা আবাসস্থলে গড়ে উঠেছে শিল্পায়ন।
লামা বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কামাল উদ্দিন আহমেদ জানান, ২০০৩ সালে বাংলাদেশে হাতি জরিপ হয়েছিল। নানা কারণে হাতির সংখ্যা কমে যাচ্ছে। বিশেষকরে খাবারের উৎস ও আবাসস্থল প্রধান কারণ। জরুরীভাবে তাদের আবাসস্থল রক্ষা করা প্রয়োজন। হাতির নিরাপদ আবাসস্থল করা না গেলে হাতি ও মানুষের দ্বন্ধ নিরসন হবেনা। তিনি হাতির নিরাপদ চলাচল ও বাসস্থান নিশ্চিত করার তাগিদ দেন। হাতির সংখ্যা কমে যাওয়ার প্রধান কারণ শিল্পায়ন।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশে ৫৭টি আন্তদেশীয় হাতি চলাচলের ক্রসিং রয়েছে। এর মধ্যে এখন চালু আছে ৩৯টি। এ ছাড়া এক আবাসস্থল থেকে আরেক আবাসস্থলে যাওয়ার করিডর আছে ১২টি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো উখিয়া-ঘুমধুম, নাইক্ষ্যংছড়ি-রাজারকুল, চুনতি অভয়রাণ্য-সাতগাঁ। এই সব করিডর গুলো হাতির ব্যবহারের উপযোগী করা না গেলে হাতির সংখ্যা আরো কমে যাওয়ার আশংকা করা হচ্ছে।
বন অধিদপ্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষক মো. জগলুল হোসেন বলেন, হাতির কোনো দেশ নেই। এরা সবার। হাতি সভ্যতার প্রতীক। হাতির স্বাভাবিক চলাচলে বিগ্ন সৃষ্টি হয় এমন কিছু করার সুযোগ নেই। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.